1. info@chattolarkantho.net : Chattolar kantho : Chattolar Kantho
September 19, 2026, 11:58 pm
সংবাদ শিরোনাম: :
রোয়াংছড়ি-রুমায় প্রথম সরকারি সফরে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মাম্যাচিং উপজেলা ও ইউনিয়ন লিগ্যাল এইড কমিটিসমূহ সক্রিয়করণে কাজ করতে হবে ফটিকছড়ি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতা সুন্দরবন রক্ষায় ভান্ডারিয়ায় শিখন ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা বরইতলীতে মাইগ্রেশন ফোরাম ও জিএমসি কমিটির সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত রোয়াংছড়িতে ওয়াশ প্রকল্পের অগ্রগতি বিষয়ক আলোচনা সভা রোয়াংছড়িতে বাল্যবিবাহমুক্ত গ্রাম ও শিশু অপুষ্টিমুক্ত ইউনিয়ন গড়তে আলোচনা শুভেচ্ছা সফরে চীনা নৌবাহিনী জাহাজের বাংলাদেশে আগমন রোয়াংছড়িতে ২০০ কেজি পোনামাছ অবমুক্ত লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন আরো ১৬৮ বাংলাদেশি স্বার্থের চর্চা ভুলে বিবেকের চর্চা করুন: ডিসি জাহিদ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শহীদ সেনাসদস্যদের পরিবারের সাক্ষাৎ, আর্থিক সহায়তা ইলিশ ধরা ও ক্রয়-বিক্রয়ে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চসিকের ওয়ার্ড পর্যায়ে ডিল্যাক কর্নার স্থাপনের উদ্যোগ শ্রীমতি স্মৃতি কণা বড়ুয়ার প্রয়াণের ছয়মাসিক সংঘ দান ও অষ্টপরিষ্কার দান সম্পস্ন মাটিরাঙ্গার দুর্গম ধনিরাম পাড়ায় যৌথ মেডিকেল ক্যাম্প ও পুষ্টি প্রদর্শনী ভাণ্ডারিয়ায় মাদকসহ দুইজন আটক,একজনকে ১ বছর কারাদণ্ড মিজোরাম থেকে স্বদেশে ফিরল তিন বম পরিবার: শেকড়ের টানে ১৮ সদস্যের আত্মিক প্রত্যাবর্তন ফটিকছড়ি উপজেলা পরিষদের সাধারণ সভা ও আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণের পর নারীর কর্মসংস্থানের পথও দেখাতে হবে: ডিসি জাহিদ রোয়াংছড়িতে তীব্র অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় ২৬ ধরনের সরঞ্জাম হস্তান্তর ডেঙ্গু প্রতিরোধে ধর্মীয় নেতাদের নিয়ে ভান্ডারিয়ায় সচেতনতা সভা ১৬ সেপ্টেম্বর শিল্প উদ্যোক্তা নিরোদ বরণ বড়ুয়ার ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী বকেয়া পরিশোধের দাবিতে চট্টগ্রামে গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীদের ‘পথে পথে প্রতিবাদ’ “শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.)’র ৩৮ তম উরস শরিফ উপলক্ষে প্রশাসনিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত” শিক্ষকদের বেতন বন্ধের অভিযোগে ভাণ্ডারিয়ায় প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের ২ ইউনিট থেকেই বাংলাদেশে সরবরাহ শুরু এবার প্রেমভিত্তিক নাটক-সিনেমা নির্মাণ ও সম্প্রচার বন্ধ চেয়ে হাইকোর্টে রিট ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফর স্থগিত

সাক্ষাৎকার:আইনের যথাযথ প্রয়োগের কারণেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বত্র শৃঙ্খলা চোখে পড়ে-ড. ফজলুল কবির

চট্টলার কণ্ঠ ডেস্ক:
  • প্রকাশিত সময় : Thursday, July 30, 2026
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের কোনো শহরের প্রথম মুসলিম মেয়র ড. ফজলুল কবিরের সাক্ষাৎকার গ্রহণের প্রাক্কালে সাপ্তাহিক ইজতিহাদ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক, কলামিস্ট মুহাম্মদ মুসা খান।

একান্ত সাক্ষাৎকারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের ‘কলেজ পার্ক’ সিটির বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রথম মুসলিম মেয়র ড. ফজলুল কবির।

বিশিষ্ট কলামিস্ট, সাপ্তাহিক ইজতিহাদ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক, মাসিক শিক্ষা অন্বেষা পত্রিকার সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য ও বিশিষ্ট সমাজকর্মী মুহাম্মদ মুসা খান বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরে রয়েছেন। এই সফরে তিনি মেরিল্যান্ড, ভার্জিনিয়া, ওয়াশিংটন ডিসি, নিউইয়র্ক, কানেক্টিকাট ও টেক্সাস ভ্রমণ করেছেন। সফরের এক পর্যায়ে তিনি ‘মেরিল্যান্ড’ অঙ্গরাজ্যের ‘কলেজ পার্ক সিটির’ বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মেয়র ডক্টর ফজলুল কবির-এর সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন। সাক্ষাৎকারে তাঁরা আমেরিকা ও বাংলাদেশের বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ করেন।
সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ এখানে তুলে ধরা হলো।

প্রশ্ন : আপনি মেরিল্যান্ড নিজের অঙ্গরাজ্যের ‘কলেজ পার্ক সিটির’ মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একজন বাংলাদেশি হিসেবে আমেরিকার একটি সিটির মেয়রের দায়িত্ব পালন করতে পারা, অবশ্যই সম্মানের। প্রথমে আপনার অনুভূতি টুকু জানতে চাই।
উত্তর :এটি অত্যন্ত সম্মানের এবং বড় একটি দায়িত্ব, যা আমি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছি।
আমি কখনোই কল্পনা করতে পারিনি যে, একদিন আমি ‘কলেজ পার্ক’-এর মেয়র হিসেবে সেবা করার সুযোগ পাব—যেখানে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ‘ইউনিভার্সিটি অফ মেরিল্যান্ড’ অবস্থিত।
আমার সাফল্যের পেছনে আছে কঠোর পরিশ্রম, অধ্যাব্যবসায়, শিক্ষা, এবং সম্প্রদায়ের কাজে সহায়তার কমিটমেন্ট । আমি আত্মবিশ্বাসী একজন মানুষ। মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কেবল আমার ব্যক্তিগত অর্জনই নয়; এটি বাংলাদেশি- আমেরিকান সম্প্রদায় এবং বিশ্বের সকল অভিবাসীর জন্যও গর্বের বিষয়।
প্রশ্ন: আপনার জন্ম ও বেড়ে উঠা সম্পর্কে সংক্ষিপ্তভাবে বলুন :
উত্তর : আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা বাংলাদেশের চট্টগ্রামে। আমার বাবা বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসার ছিলেন। আমি চট্টগ্রাম কলেজে এবং বুয়েটে পড়াশোনা করেছি। পরবর্তীতে ১৯৮৮ সালে পিএইচডি (Ph.D.) ডিগ্রি অর্জনের লক্ষ্যে আমি যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমাই। পিএইচডি পড়াশোনা শেষ করার পর, ১৯৯২ সালে চাকরির সুবাদে আমি কানাডায় চলে যাই। এবং পরবর্তীতে, ১৯৯৮ সালে অভিবাসী হিসেবে আমি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করি।। ২০০৩ সালে আমি মেরিল্যান্ডের কলেজ পার্কে চলে আসি এবং তখন থেকেই এটি আমার আবাসস্থল।
প্রশ্ন: যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে কিভাবে জড়িত হলেন? আপনি কি ডেমোক্র্যাট বা রিপাবলিকান বা অন্যকোনো দলের সাথে জড়িত আছেন?

উত্তর : কলেজ পার্কের স্থানীয় নির্বাচনগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে দলনিরপেক্ষ। প্রার্থীরা কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নেন না এবং স্থানীয় প্রচারণায় দলীয় সংশ্লিষ্টতা খুব একটা গুরুত্ব পায় না। সেই হিসেবে আমি সরাসরি কোন রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত নই। আমি স্থানীয় সম্প্রদায়ের বিভিন্ন কার্যক্রম, এলাকার নানাবিধ বিষয় এবং স্থানীয় শাসনব্যবস্থার সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়ি। মেয়র নির্বাচিত হওয়ার আগে আমি কলেজ পার্ক সিটি কাউন্সিলে দীর্ঘ ১২ বছর দায়িত্ব পালন করেছি।

প্রশ্ন : এখানকার স্থানীয় রাজনীতি কিসের দ্বারা প্রভাবিত হয়?
উত্তর : আমাদের নির্বাচনগুলো মূলত বাসিন্দাদের সরাসরি প্রভাবিত করে এমন বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়—যেমন জননিরাপত্তা, পরিবহন ব্যবস্থা, আবাসন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পরিবেশগত স্থায়িত্ব এবং শহরের বিভিন্ন নাগরিক সেবা। বাসিন্দারা রাজনৈতিক দলের পরিচয়ের চেয়ে বরং বিভিন্ন ধারণা, নেতৃত্ব এবং সম্প্রদায়ের কাজে সম্পৃক্ততার বিষয়গুলোকে বিবেচনায় নিয়ে ভোট প্রদান করেন। অর্থাৎ এখানে মানুষ রাজনীতি নয় সেবা পেতেই আগ্রহী বেশি।
প্রশ্ন : মেরিল্যান্ডে অঙ্গরাজ্যের অন্য কোন সিটিতে বাংলাদেশি-আমেরিকান আর কেউ কি মেয়র হিসেবে কি দায়িত্ব পালন করছেন?
উত্তর : আমার জানামতে, বর্তমানে মেরিল্যান্ডে অন্য কোনো বাংলাদেশি-আমেরিকান মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন না। মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান মেয়র এবং প্রথম মুসলিম মেয়র হতে পেরে আমি গর্বিত। আমি আশা করি, আমার এই নির্বাচন বাংলাদেশি-আমেরিকান সম্প্রদায় এবং অন্যান্য অভিবাসী সম্প্রদায়ের আরও অনেক সদস্যকে জনসেবা ও নাগরিক নেতৃত্বে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।
প্রশ্ন : আপনার সিটি সম্পর্কে কিছু বলুন।
উত্তর : সিটি কাউন্সিল গঠিত হয় -মেয়র এবং আটজন নির্বাচিত কাউন্সিল সদস্যকে নিয়ে, যারা শহরের চারটি নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেন। কলেজ পার্ক শহরে প্রায় ১২০ জন পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীন কর্মী রয়েছেন। তাঁরা গণপূর্ত (পাবলিক ওয়ার্কস), নগর পরিকল্পনা, অর্থ ব্যবস্থাপনা, যুব ও পরিবার সেবা, যোগাযোগ, বিধিমালা প্রয়োগ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ নানাবিধ সেবা প্রদান করে থাকেন। এর বাইরে পুলিশ প্রশাসন আইন শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রশ্ন : আপনাদের শহরের ট্রাফিক শৃঙ্খলা নজরকাড়া, কোথাও কোন ট্রাফিক বিশৃঙ্খলা নেই বা কোন ট্রাফিক জ্যাম নেই। গোপন রহস্য কি?
উত্তর : এর পেছনে কোনো নির্দিষ্ট গোপন সূত্র নেই। বরং এটি সড়ক ব্যবস্থার সঠিক নকশা, সুস্পষ্ট ট্রাফিক আইন, চালকদের সচেতনতা ও শিক্ষা, আইনের ধারাবাহিক প্রয়োগ এবং নিয়ম মেনে চলার সংস্কৃতির এক সম্মিলিত ফল।
যুক্তরাষ্ট্রে চালকরা জানেন যে, পুলিশ টহল, ক্যামেরা, জরিমানা, বিমা সংক্রান্ত প্রভাব এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ট্রাফিক আইন কঠোর ভাবে (শতভাগ) কার্যকর করা হয়। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সড়কগুলোর নকশা এমনভাবে করা হয়, যা চালকদের নিরাপদ আচরণকে উৎসাহিত করে। ‘ট্রাফিক প্রকৌশলীরা’ লেনের প্রস্থ, ট্রাফিক সিগন্যাল, নির্দেশক চিহ্ন (সাইনএজ), পথচারী পারাপারের স্থান (ক্রসওয়াক) এবং নকশার অন্যান্য বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করে চালকদের ইতিবাচক ভাবে বা নির্ভয়ে গাড়ি চালাতে সহযোগিতা করে । আপনি লক্ষ্য করে দেখবেন- কোন চালক ট্রাফিক সিগনাল অমান্য করেন না। এখানকার চালকরা সড়ক দেখে গাড়ি চালান না, ট্রাফিক সিগন্যাল দেখে, ট্রাফিক লাইট দেখে গাড়ি চালান। আপনি নিশ্চয়ই গাড়ির হর্ণ শুনেন নি, এখানে কেউ গাড়ির হর্ণ দেন না। হর্ণের শব্দ শুনলে -সেটা মানুষ অপমানজনক মনে করেন।

প্রশ্ন : সড়ক গুলো বেশ মসৃণ। কোন গর্ত নাই। সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কার উপর ন্যস্ত ?

উত্তর : কিছু সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ করে ‘কলেজ পার্ক শহর কর্তৃপক্ষ’, অর্থাৎ আমরা । আবার অন্যগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকে প্রিন্স জর্জ কাউন্টি, মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্য কিংবা ইউনিভার্সিটি অফ মেরিল্যান্ড। পরিবহন সংক্রান্ত পরিকল্পনার ক্ষেত্রে প্রায়শ:ই এই সংস্থাগুলোর মধ্যে যৌথ উদ্যোগ বা অংশীদারিত্ব দেখা যায়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমরা বৈঠকে মিলিত হয়ে সংস্কার কাজগুলো করে থাকি।
পুরো এলাকায় নিরাপত্তা, চলাচলের সুবিধা, ফুটপাত, সাইকেল চালানোর অবকাঠামো, গণপরিবহন ব্যবহারের সুযোগ এবং সড়কের অবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে আমরা একে অপরের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করি।
প্রশ্ন : ইউনিভার্সিটি অফ মেরিল্যান্ড স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশি স্টুডেন্টদের ভর্তির বিষয়ে আর কোন পরামর্শ আছে কিনা? অর্থাৎ কোন যোগ্যতা থাকলে তারা এই বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হতে পারবে?

উত্তর : ‘ইউনিভার্সিটি অফ মেরিল্যান্ড’ সারা বিশ্ব থেকে মেধাবী শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করে। ভালো গ্রেড বা ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ ঠিকই, তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নেতৃত্বের গুণাবলি, পাঠ্যক্রম-বহির্ভূত কার্যক্রম, স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ এবং ক্যাম্পাসের জীবনে শিক্ষার্থীর অবদান রাখার সম্ভাবনার বিষয়গুলোও বিবেচনা করে।
বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের উচিত যথাসময়ে বা দ্রুত আবেদন করা, বৃত্তির সুযোগগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া এবং উপলব্ধ সব ধরনের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির সুবিধা গ্রহণ করা। এছাড়া সঠিক নির্দেশনার জন্য তাদের সরাসরি ভর্তি বিষয়ক পরামর্শক (অ্যাডমিশন কাউন্সেলর) এবং সংশ্লিষ্ট একাডেমিক বিভাগের সাথে যোগাযোগ করা উচিত।
প্রশ্ন : বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির ব্যাপারে আপনার কোন সহযোগিতার সুযোগ আছে কিনা.?
উত্তর : ইউনিভার্সিটি অফ মেরিল্যান্ড স্বাধীনভাবে পরিচালিত হয় এবং এর নিজস্ব ভর্তি ও বৃত্তি প্রক্রিয়া রয়েছে। মেয়র হিসেবে ভর্তি বা বৃত্তি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ওপর আমার কোনো এখতিয়ার নেই।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারকদের সাথে আমার অত্যন্ত ভালো কর্ম-সম্পর্ক রয়েছে। শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত দপ্তরের সাথে সংযুক্ত করতে পারলে আমি সবসময়ই আনন্দিত হই। তবে ভর্তি ও বৃত্তি সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতেই থাকে।
প্রশ্ন : মেরিল্যান্ডের বাস গুলো বেশ চমৎকার, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। আমি দেখেছি- বাসে উঠে কেউ ভাড়া দিচ্ছেন, বা কেউ ভাড়া দিচ্ছেন না। স্টেট অথরিটি বা সিটি কর্তৃপক্ষ কি বাসিন্দাদের বিনামূল্যে বাসে যাতায়াতের সুযোগ করে দিয়েছে?
উত্তর : কলেজ পার্কের বাসিন্দারা শাটল-ইউএম-(Shuttle-UM) এর অনেক রুটে বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারেন। ‘শাটল-ইউএম’ (Shuttle-UM) হলো- যা ইউনিভার্সিটি অফ মেরিল্যান্ডের নিজস্ব বাস পরিষেবা। ‘সিটি কর্তৃপক্ষ’ এই পরিষেবায় আর্থিকভাবে সহায়তা প্রদান করে, কারণ আমরা বিশ্বাস করি যে, গণপরিবহন ব্যবস্থা- বাসিন্দা, শিক্ষার্থী এবং পরিবেশ—সবার জন্যই উপকারী।
শহর কর্তৃপক্ষ বয়োজ্যেষ্ঠ বাসিন্দাদের জন্যও বিনামূল্যে যাতায়াত পরিষেবা প্রদান করে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে বয়োজ্যেষ্ঠরা চিকিৎসকের কাছে যাওয়া, গ্রোসারি বা ফার্মেসিতে কেনাকাটা করা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যাতায়াতের সুবিধা পান। আমরা মনে করি, আমাদের বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিকদের জন্য যাতায়াত সুবিধা একটি অপরিহার্য বিষয়।
প্রশ্ন : কলেজ পার্ক সিটির বাসিন্দাদের জন্য কি কি পরিকল্পনা রয়েছে?
উত্তর : আমার অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে জননিরাপত্তা বৃদ্ধি, এলাকার প্রতিবেশীদের মধ্যে সুসম্পর্ক ও সংহতি জোরদার করা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্প্রসারণ, পরিবেশ সুরক্ষা, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং উচ্চমানের নাগরিক পরিষেবা বজায় রাখা।
পাশাপাশি, আমি ইউনিভার্সিটি অফ মেরিল্যান্ডের সাথে আমাদের অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করতে চাই।
আমরা নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা, উন্নত সাইকেল ও পথচারী অবকাঠামো, পরিবেশগত স্থায়িত্ব, যুব কর্মসূচি এবং অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে বিনিয়োগ করছি। আমার লক্ষ্য হলো, কলেজ পার্ককে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি আন্তরিক, বৈচিত্র্যময়, উদ্ভাবনী এবং টেকসই কমিউনিটি হিসেবে গড়ে তোলা।
প্রশ্ন : আপনি চট্টগ্রামে বড় হয়েছেন। চট্টগ্রাম কলেজে পড়াশোনা করেছেন। যা আনন্দিত হওয়ার মতো সংবাদ। আপনার সাথে বসতে পেরে খুব আনন্দ ও গর্ব অনুভব করছি। আপনি হয়তো অনেক দিন চট্টগ্রামে যান নি। চট্টগ্রাম এখন হকারের নগরীতে পরিণত হয়েছে, শহরের রাস্তাগুলোর মধ্যে ৬০% রাস্তা হকারদের দখলে, রাস্তাগুলোতে অবৈধ পার্কিং এবং ট্রাফিক জ্যাম মানুষের কষ্টের কারণ হয়েছে। এই চট্টগ্রাম কে শৃংখলায় নিয়ে আসার বিষয়ে আপনি কি পরামর্শ দেবেন?
উত্তর : চট্টগ্রামকে আমি এখনও মিস করি। চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর এবং অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি শহর। এর রয়েছে অপার সম্ভাবনা। চট্টগ্রাম বন্দরের মত বিশাল প্রাকৃতিক অর্থনৈতিক স্থাপনা পৃথিবীর খুব কম দেশে আছে। এমন সম্ভাবনাময় চট্টগ্রামের ‘বিশৃংখলার’ কথা শুনলে একটু তো খারাপ লাগবেই।
চট্টগ্রামকে শৃঙ্খলায় আনার জন্য আমি মূলত পাঁচটি বিষয়ের ওপর আলোকপাত করার পরামর্শ দেবো।
প্রথমত, উন্নত সড়ক নকশা, সমন্বিত ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা। ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত ট্রাফিক ক্যামেরা ব্যবহারের মাধ্যমে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকীকরণ করা; আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করা এবং যান চলাচল ব্যবস্থার উন্নয়ন করা সম্ভব হয়। সড়কে ধীর গতির যান ও দ্রুতগতির যানবাহন কে পৃথক লাইনে চালানোর জন্য কঠোরতা প্রদর্শন করা। রাস্তার মোড়কে জটলামুক্ত রাখা।

দ্বিতীয়ত, উচ্চমানের গণপরিবহন ব্যবস্থায় বিনিয়োগ করা, যাতে ব্যক্তিগত গাড়ির বিকল্প হিসেবে মানুষ কার্যকর ও সুন্দর গণ পরিবহন বেছে নিতে পারেন। বাস দাঁড়ানোর জন্য ‘বাস বে’ প্রতিষ্ঠা করা।

তৃতীয়ত, পথচারীদের জন্য অবকাঠামো, জেব্রা ক্রসিং, ফুটপাত এবং উন্মুক্ত জনপরিসরের উন্নয়ন করা, যাতে শহরটি আরও নিরাপদ এবং পায়ে হেঁটে চলাচলের উপযোগী হয়ে ওঠে। ফুটপাতকে উন্মুক্ত রাখা।

চতুর্থত, রাস্তার হকার বা ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের জন্য নির্দিষ্ট এলাকা বা জোন তৈরি করা, যাতে তারা জীবিকা নির্বাহের সুযোগ পান এবং একই সাথে রাস্তা ও ফুটপাতে যানজট বা ভিড় কমে আসে।

পঞ্চমত, পর্যটন খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করা। চট্টগ্রাম পাহাড়, হ্রদ, নদী, সমুদ্রসৈকত এবং মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ। সঠিক পরিকল্পনা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে চট্টগ্রাম দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হতে পারে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগ আকর্ষণে ভূমিকা রাখবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, একটি সফল শহরের জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা, ধারাবাহিক বাস্তবায়ন এবং সরকার, ব্যবসায়ী মহল, বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় । ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য চট্টগ্রামকে আরও পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও আকর্ষণীয় শহরে গড়ে তোলার মতো প্রয়োজনীয় সব উপাদানই এখানে বিদ্যমান। এখন প্রয়োজন এই উপাদানকে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও দূর্নীতিমুক্ত ভাবে কাজে লাগানো। ধন্যবাদ।

: আপনাকেও আন্তরিক ধন্যবাদ। আমাকে সময় দেয়ার জন্য। আশা করি আমাদের আবারও দেখা হবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন:

আপনার মতামত দিন

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য সংবাদ

সম্পাদকীয় কার্যালয়: ৩২১ দিদার মার্কেট( চতুর্থ তলা) নবাব সিরাজউদদৌলা রোড, কোতোয়ালি, চট্টগ্রাম। যোগাযোগ: +৮৮০১৭১৭-৯৯১৩৯৮। ইমেইল: weeklychattolarkantho.com@gmail.com