সুজন ভট্টাচার্য্য,বিশেষ প্রতিনিধিঃ স্বদেশ ও জন্মভূমির টান এড়ানো সম্ভব হয়নি শেষ পর্যন্ত। দীর্ঘ দুই বছর ভারতের মিজোরামে অনিশ্চিত ও আশ্রিত জীবন কাটানোর পর অবশেষে নিজেদের ভিটেমাটিতে ফিরেছেন বান্দরবানের থানচি উপজেলার বম সম্প্রদায়ের তিন পরিবারের ১৮ জন সদস্য। স্বদেশের মাটিতে পা রেখেই শিশুদের হাতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা তুলে নেওয়ার মুহূর্তে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
গতকাল রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সেনাবাহিনী বাকলাই পাড়া সাব-জোন ক্যাম্পের সহায়তায় রাঙামাটি সীমান্ত হয়ে আসা পরিবারগুলোকে থানচির নিজ গ্রামে পুনর্বাসিত করা হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ)-এর সংঘাত ও নিরাপত্তার কারণে দুই বছর আগে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের মিজোরামে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন তারা। পরবর্তীতে চলতি বছর বম সোশ্যাল কাউন্সিল ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যৌথ উদ্যোগে তাদের কাছে স্বদেশের সার্বিক নিরাপত্তা ও অনুকূল পরিস্থিতির বার্তা পৌঁছানো হয়। এতে আস্থা ফিরে পেয়ে তারা নিজ ভূমিতে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।
ফিরিয়া আসা পরিবারের প্রধান ভানরৌখম বম (২৭), রুয়াতখুপ বম (৪৬) ও লালচম বম (৫৫) জানান, ভিনদেশে থাকা অবস্থায় সবসময় নিজ গ্রাম ও স্বজনদের কথা মনে পড়ত। নানা কষ্টে দিন পার করার পর স্বদেশে ফিরে তারা স্বস্তি প্রকাশ করেন এবং পরিবার নিয়ে শান্তিতে বসবাসের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
প্রত্যাবর্তনকারী পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদান করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বাকলাই পাড়া আর্মি ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন সাফকাত মুবাররাত চৌধুরী প্রতি পরিবারকে নগদ ১৫,০০০ টাকা, চাল, ডাল, তেল, সোলার প্যানেল, ব্যাটারি এবং প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রী তুলে দেন। পরবর্তীতে শেরকর পাড়ার কারবারি তুমথন বম ও প্রাতা পাড়ার কারবারি পার্কেল বমের উপস্থিতিতে ১৮ জন সদস্যকে নিরাপদে নিজ পাড়ায় পৌঁছে দেওয়া হয়।
ক্যাম্প অধিনায়ক ক্যাপ্টেন সাফকাত মুবাররাত চৌধুরী জানান, ফিরে আসা পরিবারগুলোর মধ্যে স্বস্তি দেখা গেছে। বিশেষ করে শিশুদের হাতে জাতীয় পতাকা তুলে নেওয়ার দৃশ্যটি ছিল অত্যন্ত আবেগঘন। পার্বত্য অঞ্চলে স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা এবং এসব পরিবারের স্থায়ী পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।
You must be logged in to post a comment.
আপনার মতামত দিন