কমল চক্রবর্তীঃ
বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান সহায়ক প্রতিষ্ঠান (বিএসসি) গত কয়েক বছরে ধারাবাহিক আর্থিক সাফল্যের মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। একসময় সীমিত বহর, পুরোনো জাহাজ এবং প্রতিযোগিতামূলক বৈশ্বিক বাজারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা প্রতিষ্ঠানটি আজ লাভজনক পরিচালনা, বহর সম্প্রসারণ এবং কৌশলগত বিনিয়োগের মাধ্যমে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।বাংলাদেশের সামুদ্রিক বাণিজ্য ও নৌপরিবহন খাতে গত এক দশকে যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দৃশ্যমান হয়েছে, তার অন্যতম উজ্জ্বল উদাহরণ বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন। দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানটি শুধু আর্থিকভাবে লাভজনক অবস্থানে ফিরে আসেনি, বরং বহরে আধুনিক জাহাজ সংযোজন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি এবং জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার মাধ্যমে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই রূপান্তরের পেছনে যাঁদের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও পেশাদার ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন বিএসসির বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদুল মালেক (সি), বিএসপি, এনএসডব্লিউসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, বিএন। বাংলাদেশের রাস্ট্রায়ত্ব সকল প্রতিষ্ঠান যখন লাভের মুখ দেখছে না। লোকসানের বোঝা বইছে প্রতিনিয়ত। সেখানে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তার সততা, জবাবদিহিতা, দক্ষতা, সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, বিচক্ষণতা, মেধাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। বিএসসি কেবল লাভের মুখ দেখেছে তা নয় সামুদ্রিক বাণিজ্য ও নৌপরিবহন খাতে এনেছে সামর্থ্য ও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সক্ষমতা। যা বাংলাদেশের সামুদ্রিক বাণিজ্য ও নৌপরিবহন খাতে এক মাইফলক।
বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ইতিহাসে এমন সময়ও ছিল যখন প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক সংকট ও বহর সংকোচনের কারণে প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। কিন্তু গত এক দশকে ব্যবস্থাপনা সংস্কার, আধুনিক জাহাজ সংযোজন এবং বৈশ্বিক শিপিং বাজারের সুযোগ কাজে লাগানোর ফলে বিএসসি ধারাবাহিকভাবে লাভের মুখ দেখেছে।
বিশেষ করে নতুন তেলবাহী ও বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ সংযোজনের পর প্রতিষ্ঠানটির আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য পরিবহনের চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিজস্ব জাহাজের সক্ষমতা বাড়ার ফলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে সংস্থাটি।
মাহমুদুল মালেকের নেতৃত্বে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন পরিচালনায় এসেছে গতিশীলতা ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার ছাপ। তিনি প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমকে শুধু প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি; বরং ব্যবসায়িক সক্ষমতা বৃদ্ধি, বহর সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক মানের করপোরেট শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন।
তাঁর নেতৃত্বে করপোরেশন লাভজনকতা বৃদ্ধি, পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ অনুসন্ধানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। ফলে একসময়ের সীমিত সক্ষমতার প্রতিষ্ঠান আজ দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারে পরিণত হয়েছে।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক যোগদানের পর বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) তাদের ৫৪ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সাফল্য ও রেকর্ড মুনাফা অর্জন করেছে। তাঁর সময়ে নিজস্ব অর্থায়নে জাহাজ ক্রয়, বিশাল অঙ্কের নিট মুনাফা অর্জন এবং বহর সম্প্রসারণের মতো যুগান্তকারী অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ও অর্জনসমূহ: রেকর্ড নিট মুনাফা: সমাপ্ত অর্থবছরে বিএসসি কর সমন্বয়ের পর ৩০৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা নিট মুনাফা অর্জন করেছে।নতুন জাহাজ সংযোজন: বিএসসির বহরে প্রথমবারের মতো নিজস্ব অর্থায়নে ৯৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ২টি নতুন বাল্ক ক্যারিয়ার যুক্ত হয়েছে। নতুন এই জাহাজগুলো থেকে ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ কোটি টাকা আয় হয়েছে। শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ: সর্বোচ্চ মুনাফার কারণে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ প্রদান করা সম্ভব হয়েছে।ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: বিএসসির সক্ষমতা বাড়াতে সরকার জি-টু-জি (G2G) ভিত্তিতে আরও ৬টি জাহাজ সংগ্রহের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি: সংস্থাটির ক্রমাগত এই অগ্রগতি ও লাভজনক অবস্থানে থাকার প্রশংসা করেছে সরকারের সর্বোচ্চ মহল এবং প্রধান উপদেষ্টাকে ইতোমধ্যে লভ্যাংশের চেক হস্তান্তর করা হয।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের সাম্প্রতিক সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি হলো বহরে আধুনিক জাহাজ সংযোজন। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদা বিবেচনায় রেখে নতুন তেলবাহী ও পণ্যবাহী জাহাজ সংগ্রহের উদ্যোগ প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা বহুগুণে বাড়িয়েছে।
মাহমুদুল মালেকের তত্ত্বাবধানে বহর আধুনিকীকরণের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হওয়ায় করপোরেশন আন্তর্জাতিক রুটে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম হয়েছে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত অনেক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে যেখানে লোকসানের চিত্র দেখা যায়, সেখানে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন ধারাবাহিকভাবে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। সুশাসন, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং পরিকল্পিত বিনিয়োগের ফলে প্রতিষ্ঠানটির রাজস্ব ও মুনাফা উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে মাহমুদুল মালেকের কৌশলগত সিদ্ধান্তগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তিনি পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন আয়ের উৎস তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
বাংলাদেশের অর্থনীতি ক্রমশ সমুদ্রকেন্দ্রিক বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের শক্তিশালী অবস্থান দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, বৈদেশিক বাণিজ্য এবং লজিস্টিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মাহমুদুল মালেকের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি শুধু একটি বাণিজ্যিক সংস্থা হিসেবেই নয়, বরং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় একটি কৌশলগত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামুদ্রিক খাতের উন্নয়নে তাঁর অবদান প্রশংসিত।
বিশ্বব্যাপী নৌপরিবহন শিল্পে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ এবং প্রতিযোগিতা দিন দিন বাড়ছে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনকে আরও আধুনিক, দক্ষ ও টেকসই প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। মাহমুদুল মালেকের নেতৃত্বে গৃহীত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রতিষ্ঠানটিকে আগামী দিনে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী।
বৈশ্বিক সংকটেও স্থিতিশীলতা ও ঝুঁকি মোকাবেলাঃ
বিশ্বব্যাপী মহামারি, জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলের নানা সংকটের মধ্যেও বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল আর্থিক অবস্থান বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। দক্ষ পরিচালনা এবং বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনার কারণে প্রতিষ্ঠানটি লাভজনক অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছে।
শিপিং খাতের বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অস্থিরতার সময়ে অনেক আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানি চাপে পড়লেও বিএসসি তার পরিচালন সক্ষমতা এবং চুক্তিভিত্তিক পরিবহন কার্যক্রমের মাধ্যমে ঝুঁকি মোকাবিলা করেছে।
ধারাবাহিক মুনাফা অর্জনের ফলে বিএসসির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেড়েছে। শেয়ারবাজারে কোম্পানিটির অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে এবং নিয়মিত লভ্যাংশ প্রদানের মাধ্যমে শেয়ারহোল্ডারদের সন্তুষ্টি অর্জন করেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হয়েও বাণিজ্যিক দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত হওয়ার উদাহরণ হিসেবে বিএসসিকে উল্লেখ করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন আগামী দিনে আরও আধুনিক জাহাজ সংযোজন, কনটেইনার পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক রুটে কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানি-সাশ্রয়ী জাহাজ পরিচালনার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিত বিনিয়োগ ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা অব্যাহত থাকলে বিএসসি শুধু দেশের শিপিং খাতেই নয়, আঞ্চলিক পর্যায়েও একটি প্রতিযোগিতামূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে।
মাহমুদুল মালেক এর বর্ণাঢ্য কর্মজীবনঃ
বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক। কর্মজীবনে তিনি নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড, স্টাফ ও প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিএসসি-কে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও তিনি একাধারে বিএসসির নির্বাহী পরিচালক (অর্থ) হিসেবেও অতিরিক্ত দায়িত্ব (অঃ দাঃ) পালন করছেন।
সামরিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ তার সুদীর্ঘ সামরিক ক্যারিয়ারে রয়েছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন উচ্চতর প্রশিক্ষণ: এনএসডব্লিউসি (NSWC): নেভাল স্টাফ ওয়ার্স কোর্স। এএফডব্লিউসি (AFWC): আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স। পিএসসি (psc): পাশ্ড স্টাফ কোর্স। উল্লেখযোগ্য অর্জন ও কার্যক্রম কার্যক্রম: তাঁর নেতৃত্বে বিএসসির বর্তমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং জাহাজ বহরের আধুনিকায়ন পরিচালিত হচ্ছে। মুনাফা: তাঁর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিএসসি ৫৪ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড ৩০০ কোটিরও বেশি টাকা নিট মুনাফা অর্জন করেছে।
কমোডর মাহমুদুল মালেক বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অপারেশন শাখায় ১ জানুয়ারী, ১৯৯২ সালে কমিশন লাভ করেন। অফিসারের কর্মজীবন কমান্ড, স্টাফ এবং নির্দেশমূলক নিয়োগের সাথে অনন্যভাবে মিশ্রিত। তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সকল অপারেশনাল কমান্ডের স্টাফ অফিসার (অপারেশন) ছিলেন। এই কর্মকর্তা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন কোর্সে অংশ নেন। তিনি সিলেটের স্কুল অফ ইনফ্যান্ট্রি অ্যান্ড ট্যাকটিকস (এসআইএন্ডটি) থেকে জুনিয়র কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কোর্স (জেসিএসসি) করেছেন। তিনি পাকিস্তানের পিএনএস বাহাদুর থেকে কমিউনিকেশনে স্পেশালাইজেশন সম্পন্ন করেন। তিনি ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ, মিরপুর, ঢাকা থেকে স্নাতক এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিসটিংশন সহ ডিফেন্স স্টাডিজে স্নাতকোত্তর অর্জন করেছেন। তিনি ইউএস নেভাল স্টাফ কলেজ, নিউপোর্ট, রোড আইল্যান্ডের একজন বিশিষ্ট প্রাক্তন ছাত্র।
তিনি মিরপুরের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (AFWC উইং) এর একজন গর্বিত প্রাক্তন ছাত্র এবং ডিরেক্টরিং স্টাফ (DS)। তিনি 2021 সালের ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটি, ইসলামাবাদ, পাকিস্তানের শীর্ষ বিশিষ্ট স্নাতক এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি এবং ওয়ার স্টাডিজে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। একটি গাইডেড মিসাইল ফ্রিগেট BNS আবু বকর (টাইপ 053H2) এর কমান্ডিংয়ের মাধ্যমে তার সমুদ্র অ্যাপয়েন্টমেন্ট শেষ পর্যন্ত প্রস্ফুটিত হয়েছিল। এই কর্মকর্তা আইভরি কোস্টে জাতিসংঘ মিশনে ‘ব্লু বেরেট’-এর অধীনে সামরিক পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন। কমডোর মাহমুদুল মালেক নৌ সদর দফতরে ডিরেক্টর অব পার্সোনেল সার্ভিস (ডিপিএস), ডিরেক্টর অব নেভাল অপারেশনস (ডিএনও), এবং ডিরেক্টর অব নেভাল প্ল্যান (ডিএনপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসাবে বর্তমান পোর্টফোলিওর আগে, কমডোর মালেক কমান্ডার সাবমেরিন (COMSUB) হিসাবে মর্যাদাপূর্ণ নিয়োগ করেছিলেন। তার লেখা প্রতিরক্ষা জার্নালে প্রকাশিত হয়। অবসর সময় কাটে বই পড়ে। তিনি সুখী বিবাহিত এবং দুই পুত্রের আশীর্বাদপুষ্ট।
বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের সাম্প্রতিক আর্থিক সাফল্য শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের অর্জন নয়; এটি দেশের সামুদ্রিক বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধিরও প্রতীক। ধারাবাহিক মুনাফা, বহর সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি প্রমাণ করেছে যে সঠিক কৌশল ও দক্ষ নেতৃত্ব থাকলে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানও টেকসই সাফল্য অর্জন করতে পারে।বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের বর্তমান সাফল্য ও অগ্রগতির পেছনে অনেকের সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকলেও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে মাহমুদুল মালেকের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁর দূরদর্শী চিন্তা, পেশাদার ব্যবস্থাপনা এবং উন্নয়নমুখী উদ্যোগ প্রতিষ্ঠানটিকে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। দেশের সামুদ্রিক অর্থনীতির বিকাশে তাঁর নেতৃত্ব আগামী দিনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশাই সংশ্লিষ্ট মহলের।
আপনার মতামত দিন