1. info@chattolarkantho.net : Chattolar kantho : Chattolar Kantho
শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ০৯:০৫ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম: :
ফটিকছড়িতে সততার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এক নৈশপ্রহরী! ফটিকছড়িতে ১০ দিনে ৮৭ নবজাতকের জন্ম মিরপুরে চলন্ত মোটরসাইকেলে ইট মেরে ছিনতাই: মূল পরিকল্পনাকারী আটক পাকিস্তানের কাশ্মীরে আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির বিক্ষোভ-সংঘর্ষ, নিহত ১৫ সিডিএর নতুন চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন কাশ্মীরে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত পাকিস্তানের বহু সেনা নিহত বান্দরবান হাসপাতালের নির্মাণাধীন সার্ভিস সেন্টারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ২ শ্রমিক নিহত, আহত ১ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টাইগারদের ঐতিহাসিক সিরিজ জয় চট্টগ্রামে নৌবাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল! পাউবো’র উন্নয়ন প্রকল্পকে ঘিরে উঠেছে নানা গুরুতর অভিযোগ! এক ম্যাচে ৮ লাল কার্ড ও পরাজয় দেখলো ব্রাজিল অসহায়ের চোখের জল মুছছেন ‘মানবিক ডিসি’ জাহিদ বিশ্ব পরিবেশ দিবসে কোনাখালীতে বৃক্ষরোপণ, চারা বিতরণ ও সচেতনতামূলক র‍্যালি প্রশিক্ষণ শেষে চাকরি, ঝরে পড়াদের পাশে মানবিক ডিসি জাহিদ ২৭ বছর পর লিগ্যাল এইডের সহায়তায় পিতার পরিচয় পেলেন যুবক মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন ডা. জুবাইদা রহমান বৃক্ষরোপণে ৫৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকার প্রণোদনা আইসল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে আর্জেন্টিনার শুভ সূচনা সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ছে ৫০ শতাংশ মমতার বাড়িতে সিআইডি অভিযান ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার পরাজয়, বাংলাদেশ পেল ৮৬ রানের জয় চমেক হাসপাতাল অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ হত্যা মামলায় ওয়েল গ্রুপের সিইও গ্রেপ্তার প্রথমবারের মত ১২ টি পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করল ভারত! সাধারণ জনগণের আস্থা সৃষ্টির মাধ্যমে জন-প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে: ডিসি জাহিদ চকরিয়ার দুই উপকূলীয় ইউনিয়নে ১ হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিল আইএসডিই বাংলাদেশ বিএসসি’র সাফল্য ও অগ্রগতির অন্যতম কারিগর মাহমুদুল মালেক কমরেড পূর্ণেন্দু কানুনগো’র নির্দেশনায় গেরিলা যুদ্ধে সক্রিয় অংশনেন বীর গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা ফজল আহম্মেদ মহাযোগী মহান তপস্বী শ্রী শ্রী গুরুদাস পরমহংসদেব ফকির বাবাজী

পাউবো’র উন্নয়ন প্রকল্পকে ঘিরে উঠেছে নানা গুরুতর অভিযোগ!

চট্টলার কণ্ঠ ডেস্ক:
  • প্রকাশিত সময় : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬

অভিযোগের তীর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জুলফিকার তারেক এর বিরুদ্ধে!

চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সার্কেলের অধীনে বাস্তবায়নাধীন একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পকে ঘিরে উঠেছে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ, ভুয়া বিল-ভাউচার, অনিয়ম এবং বিদেশে অর্থ পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ।অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) খ. ম. জুলফিকার তারেক।

একজন “সচেতন নাগরিক” দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ দাখিল করা লিখিত অভিযোগে দাবি করেছেন, চট্টগ্রামের একাধিক উপজেলায় চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের আড়ালে ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশে বিপুল সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, বাঁশখালী, আনোয়ারা, কর্ণফুলী, পটিয়া, বোয়ালখালী, সন্দ্বীপ ও পতেঙ্গা—এই বিস্তৃত এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন প্রকল্পে ভুয়া বিল তৈরি, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং কাজের বাস্তবায়নে অনিয়মের ধারাবাহিকতা দেখা গেছে।

অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের আড়ালে কয়েক হাজার কোটি টাকার অনিয়ম ও আত্মসাৎ হয়েছে। একই সঙ্গে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগও তোলা হয়েছে, যার গন্তব্য হিসেবে কানাডার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ এখনো কোনো স্বাধীন তদন্ত বা আদালতের রায়ে প্রমাণিত নয়।

এরপরও সত্যতা যাচাইয়ের জন্য এবং অভিযোগের ব্যাখা নিতে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) খ. ম. জুলফিকার তারেকের সাথে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, এখন খুব ব্যস্ত সময় পার করছেন।

আগামী ১৩ জুন শনিবার নতুন উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, খাল পুনঃখনন প্রকল্প উদ্বোধন করতে কক্সবাজার যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দিনব্যাপী এ সফরে তিনিও প্রধানমন্ত্রীর সাথে থাকবেন। তাই এখন এসব বিষয়ে কথা বলার সময় নেই। শনিবার অনুষ্ঠান শেষ করে রবিবারের দিকে তিনি এ বিষয়ে কথা বলবেন।

এদিকে চট্টগ্রামের একাধিক উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্প থেকেও পাওয়া গেছে নানান অভিযোগ। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের প্রথম পর্বে তুলে ধরা হয়েছে পটিয়া উপজেলার কয়েকটি প্রকল্পের অনিয়মের খবরে। যেসব অভিযোগেও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) খ. ম. জুলফিকার তারেকের নাম উল্লেখ করেছেন অনেকেই।

স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ অনুযায়ী, পটিয়ার প্রকল্প ঘিরে ভূমি অধিগ্রহণের নামে প্রকৃত জমির মালিকদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ না দিয়ে প্রভাব খাটিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে।
তাদের দাবি, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শতকোটি টাকার অনিয়ম ও অর্থ লোপাটের ঘটনা ঘটেছে, যা তারা “পুকুরচুরি” হিসেবে বর্ণনা করেন।


পটিয়া এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের যোগসাজশে কমিশন বাণিজ্য ও টেন্ডার অনিয়মের কারণে হাজার কোটি টাকার প্রকল্প কার্যত ব্যর্থতার দিকে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিবর্তে অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার কারণে “মুখ থুবড়ে পড়ার” পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, বিগত প্রায় ১৫ বছর ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট পাউবোর বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ন্ত্রণ করছে, যেখানে কিছু প্রকৌশলী ও ঠিকাদার পরস্পরের সঙ্গে যোগসাজশে কাজ ভাগাভাগি করেছেন বলেও তারা দাবি করেন।


স্থানীয়দের অভিযোগ, উন্নয়ন প্রকল্পে মাঠ পর্যায়ে পাউবো কর্মকর্তাদের কার্যকর তদারকি প্রায় নেই বললেই চলে।
তাদের মতে—কাজের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ দুর্বল, ঠিকাদারদের ওপর কার্যকর নজরদারি নেই। প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে এবং ব্যয়ের তুলনায় বাস্তব অগ্রগতি অনেক কম।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা মন্তব্য করেন, “পাউবোর প্রকল্প মানেই যেন অনিয়ম ও দুর্নীতির একটি পুনরাবৃত্ত চিত্র।”
স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্পে যতটুকু কাজ হয়েছে তার তুলনায় অনেক বেশি অর্থ একটি সিন্ডিকেট ও সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তার মধ্যে ভাগ হয়েছে।তাদের দাবি, বিগত দেড় দশকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন প্রকল্প থেকে কয়েকশ কোটি টাকার অনিয়ম ও অর্থ লোপাট হয়েছে।

এক্ষেত্রে পাউবোর কিছু প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে সুবিধা ভাগাভাগির অভিযোগও উঠেছে। কেউ কেউ অভিযোগের তীরে অন্যতম হিসেবে উল্লেখ করেছেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) খ. ম. জুলফিকার তারেকের নাম।


পটিয়ার শ্রীমাই খালে ১৩৩ কোটি টাকার মাল্টিপারপাস হাইড্রোলিক এলিভেটর ড্যাম প্রকল্প এবং ১১৫৮ কোটি টাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ প্রকল্প এখন বিতর্কের কেন্দ্রে। স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী—ব্লক তৈরিতে নিম্নমানের বালি ও পাথর ব্যবহৃত হচ্ছে। সাইটে পাউবো কর্মকর্তাদের উপস্থিতি থাকার নিয়ম থাকলেও তা মানা হয়নি।

তাছাড়া ভাঙনপ্রবণ এলাকায় ব্লক না বসিয়ে অপ্রয়োজনীয় স্থানে বসানো হয়েছে। বর্ষার আগেই একাধিক স্থানে ব্লক সরে গিয়ে ধসের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং প্রকল্পের বড় অংশ এখনো অসম্পূর্ণ।একাধিক বাসিন্দার অভিযোগ, প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল ভাঙন রোধ ও পানি ব্যবস্থাপনা—কিন্তু বাস্তবে তা উল্টো ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করছে।


অভিযোগকারীদের দাবি, প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে ঠিকাদার ও কিছু কর্মকর্তার মধ্যে সমন্বিত একটি “সিন্ডিকেট” কাজ করছে।
তাদের ভাষ্যমতে—কাজের মান যাচাইয়ের প্রক্রিয়া দুর্বল, বিল অনুমোদনে স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে। তাছাড়া প্রকল্প এলাকায় তদারকির অভাব রয়েছে এবং কাজের মানের চেয়ে বিল উত্তোলনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।একজন স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প এখন “কাগজে উন্নয়ন, মাঠে ক্ষয়”।

পাউবো পটিয়ার উপবিভাগীয় প্রকৌশলী প্রশান্ত তালুকদার বলেন, কাজ এখনো শেষ হয়নি এবং কিছু ত্রুটি স্বাভাবিকভাবে থাকতে পারে, যা সংশোধন করা হবে। বালু উত্তোলনের বিষয়ে প্রশাসনকে জানানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তবে পুরো এ অভিযোগ ঘিরে কয়েকটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে এসেছে—হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে কেন গুণগত মান নিশ্চিত হয়নি? মাঠ পর্যায়ের তদারকি ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল?

ঠিকাদার নির্বাচন ও বিল অনুমোদন প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ? অভিযোগগুলো কি বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি কাঠামোগত দুর্বলতার ফল?
বিদেশ সফর ও সম্পদ সংক্রান্ত প্রশ্ন? সচেতন ওই ব্যক্তির অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, প্রকৌশলী জুলফিকার তারেক নিয়মিত কানাডা যাতায়াত করেন এবং সেখানে সম্পদের মালিকানা রয়েছে। এ বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ জনসমক্ষে উপস্থাপন করা হয়নি। তবে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, তার পাসপোর্ট রেকর্ড পর্যালোচনা করলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

এ বিষয়েও জানতে খ. ম. জুলফিকার তারেককে ফোন করলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে জানান। হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দিয়ে বক্তব্য চাইলে তিনি রোববার মেসেজ দেখবেন। আজকে ব্যস্ত আছেন।

এদিকে অপর একটি সূত্র দাবি করেছে অতীতেও চট্টগ্রামের পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন খাল খনন ও বেড়িবাঁধ প্রকল্প ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল।সে সময়ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালানোর তথ্য রয়েছে।

চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকায় পানি ব্যবস্থাপনা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য নেওয়া এই প্রকল্পগুলো এখন এক নতুন বিতর্কের কেন্দ্রে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে “অভিযোগ” হিসেবেই বিবেচনা করা জরুরি।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তবায়নের মাঠচিত্র এবং অর্থনৈতিক পরিসরের আকার—সব মিলিয়ে প্রকল্পগুলোর স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ক্রমেই গভীর হচ্ছে।

দুদকের সম্ভাব্য তদন্তই এখন নির্ধারণ করবে—এটি সত্যিই উন্নয়ন প্রকল্প ছিল, নাকি উন্নয়নের আড়ালে বড় ধরনের অনিয়মের গল্প।

পরবর্তী পর্বে আসছে বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনঃ

পোস্টটি শেয়ার করুন:

আপনার মতামত দিন

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য সংবাদ

সম্পাদকীয় কার্যালয়: ৩২১ দিদার মার্কেট( চতুর্থ তলা) নবাব সিরাজউদদৌলা রোড, কোতোয়ালি, চট্টগ্রাম। যোগাযোগ: +৮৮০১৭১৭-৯৯১৩৯৮। ইমেইল: weeklychattolarkantho.com@gmail.com