সংস্কৃতি চর্চায় চটগ্রামের যে ঐতিহ্য,যে উত্তরাধিকার তাকে আরো সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে চট্টগ্রামে পণ্ডিত বিজন চৌধুরী সঙ্গীতের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।আনন্দী সঙ্গীত একাডেমি উপমহাদেশের কিংবদন্তি তবলাশিল্পী পণ্ডিত বিজন চৌধুরী ৮৯ তম জন্ম বার্ষিকী ও ১২ তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে উচ্চাঙ্গসংগীত সম্মেলন দেশের শিশু, কিশোর ও যুব সমাজকে শিল্পচর্চায় অংশগ্রহনের সুযোগ সৃষ্টি শিল্পচর্চার বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রায়েগিক শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি, চর্চার বিভিন্ন ক্ষেত্রে ধারণা বিনিময়ের উদ্যোগ গ্রহন এবং শিল্প চর্চার যুক্ত শিল্পী ও কলাকুশলীদের মধ্যে কার্যকর সম্পর্ক সৃষ্টি করা- মূলত এই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে আনন্দী সঙ্গীত একাডেমি উদ্যোগে উপমহাদেশের কিংবদন্তি তবলাশিল্পী পণ্ডিত বিজন চৌধুরী দুইদিনব্যাপী উচ্চাঙ্গসংগীত সম্মেলনের আয়োজন।
গতকাল নগরীর থিয়েটার ইনিস্টিউট মিলনায়তনে দু’দিন ব্যাপী উচ্চাঙ্গসংগীতের ১ম দিনে ১৮ সেপ্টেম্বর আনন্দী সঙ্গীত একাডেমির উদ্যোগে পণ্ডিত বিজন চৌধুরী উচ্চাঙ্গসংগীত সম্মেলন অনুষ্ঠানে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাতে উপস্থিত দেশের বরেন্য তবলাশিল্পী উস্তাদ সুদীপ সেনগুপ্ত, অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব উস্তাদ দোলন কানুনগো বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার সৈয়দ মুহাম্মদ আয়াজ মাবুদ।
প্রফেসর ড.অঞ্জন৷ কুমার চৌধুরী , একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শিল্পী সুরজিৎ সেন, শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন , আহবায়ক দেবু চক্রবর্তী অনুষ্ঠান সচিব রাজু দাশ গুপ্ত টিটু একাডেমির সভাপতি দোলন দেব এর সভাপতিত্বে বিশিষ্ট জনেরা আলোচনায় অংশ নেন।
বক্তৃতায় অতিথিরা বলেন দেশে বর্তমানে সামাজিক অবক্ষয় ও সর্বক্ষেত্রে ধস নেমেছে। একমাত্র সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মাধ্যমেই এই অবস্থা থেকে আমরা মুক্তি পেতে পারি। আমরা আশা করতে পারি,সুস্থ সংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য আনন্দী সঙ্গীত একাডেমির মত প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মন্দ রাজনীতি আমাদের সমাজ ও সাংস্কৃতিক গ্রাস করেছে। আমাদের তরুন সমাজকে ধৈর্য হারালে চলবে না।চট্টগ্রামের গৌরবময় সাংস্কৃতিক উওরাধিকারকে ধরে রেখে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।।
অনুষ্ঠানে দ্বিতীয় পর্বে উচ্চাঙ্গসংগীত পরিবেশন করেন সুরসপ্তক সঙ্গীত বিদ্যাপিঠ, পরিচালনায় শিল্পী ফাল্গুনী বড়ুয়া, ত্রিতালে একক তবলা লহড়া পরিবেশন করেন শিল্পী অমিত দাশ, শিল্পী প্রমিত বড়ুয়া ভীমপলশ্রীরাগ পরিবেশন করেন, শিল্পী মিটন বিশ্বাস মোহনবীনায় বাগেশ্রী রাগ পররিবেশন করেন, শিল্পী অপরাজিতা চৌধুরী বেহেলায় রাগ রাগেশ্রী পরিবেশন করেন, শিল্পী সানি দে তবলা সুশান্ত কর চৌধুরী তবলা,শিল্পী রাজীব দাশ হারমোনিয়াম,তানপুরা সহযোগিতা করেন।
উপস্থাপনায় প্রার্থপ্রতিম মহাজন ও তূর্ণা বড়ুয়া আজ দুদিন ব্যাপীর অনুষ্ঠানের ২য়দিনে ১৯ সেপ্টেম্বর অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ডাঃ রজত কুমার বিশ্বাস, জনাব রিয়াজ ওয়ায়েজ বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী, অংশ গ্রহনে শিল্পী আনন্দী সঙ্গীত একাডেমির শিক্ষার্থীদের সমবেত উচ্চাঙ্গ তবলা লহড়া,ডাঃ সৌমিত্র দাশ কণ্ঠ, দ্যা একাডেমি অফ ক্ল্যাসিক্যাল এন্ড ফোক ডান্সের উচ্চাঙ্গ নৃত্য পরিচালনায় শিল্পী তরুন চক্রবর্তী,সুরধ্বনি মিউজিক একাডেমি অর্কেস্ট্রা পরিচালনায় শিল্পী সুমন কুমার নাথ শিল্পী সৌমেন দাশ তবলা, বিজয় দেবনাথ হারমোনিয়াম, শিল্পী আদৃত চৌধুরী তবলা,শিল্পী হৃদিতা দাশ- তানপুরায় সহযোগিতা থাকবেন এবং পণ্ডিত বিজন চৌধুরী সন্মানমা স্মারক ২০২৬ পেয়েছেন বিশিষ্ট তবলাশিল্পী পিনুসেন দাশ- সিলেট- এটি এই বছর ২০২৬ সাল থেকে এই সম্মানা স্মারক চালু করেছেন পিনুসেন দাশকে দিয়ে এই সম্মানা প্রতিবছর যাতে একজন শিল্পীকে দেওয়া যায় আনন্দী সঙ্গীত একাডেমি কে অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন ।
You must be logged in to post a comment.
আপনার মতামত দিন