চট্টগ্রাম ওয়াসার আবাসিক ও বাণিজ্যিক—উভয় শ্রেণির গ্রাহকের পানির দাম ৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাবের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব), চট্টগ্রাম। অদক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থা, অনিয়ম ও পানির অপচয় রোধ করা গেলে পানির মূল্য বৃদ্ধির প্রয়োজন পড়বে না বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
ক্যাব নেতারা বলেন, নগরীর এখনও প্রায় ৩০ শতাংশ এলাকায় ওয়াসার পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত হয়নি। অনেক এলাকায় গ্রাহকরা ময়লা, দুর্গন্ধযুক্ত ও লবণাক্ত পানির পাশাপাশি অতিরিক্ত বা ‘ভুতুড়ে’ বিলের অভিযোগে ভুগছেন। এ অবস্থায় সেবার মান ও পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত না করে নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে।
রোববার (২ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ক্যাব নেতারা প্রস্তাবটি অবিলম্বে প্রত্যাহারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব মহানগর সভাপতি জেসসিন সুলতানা পারু, সাধারণ সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস, যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম জাহাঙ্গীর এবং যুব ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি আবু হানিফ নোমান।
বিবৃতিতে নেতারা অভিযোগ করেন, চট্টগ্রাম ওয়াসার নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অধীনে অনুষ্ঠিত প্রথম বোর্ড সভায় বিগত বছরের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি বন্ধে কার্যকর কোনো পরিকল্পনা গ্রহণের পরিবর্তে গ্রাহকদের ওপর নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির চাপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারা এ প্রস্তাবকে অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও বিভিন্ন সেবার মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ এমনিতেই চাপে রয়েছে। এর মধ্যে পানির দাম বাড়ানো হলে জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাবে।
ক্যাব নেতাদের ভাষ্য, প্রতিষ্ঠার ৬৩ বছর পরও চট্টগ্রাম ওয়াসা নগরবাসীর চাহিদা পূরণে ব্যর্থ। দীর্ঘ সময়ের প্রশাসনিক দুর্বলতা, অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও গ্রাহকস্বার্থ উপেক্ষার কারণে প্রতিষ্ঠানটির সেবার মান প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি বলেও তারা অভিযোগ করেন।
বিবৃতিতে ২০১৯ সালের ২৫ মে অনুষ্ঠিত ওয়াসার ৫১তম বোর্ড সভায় গড় বিল আদায়সংক্রান্ত একটি অভিযোগ উত্থাপনের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়। ক্যাবের দাবি, ওই সময় ৫ ইউনিট পানি ব্যবহার করেও ৩০ ইউনিটের বিল দেওয়ার অভিযোগের পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও এখন পর্যন্ত বিষয়টির প্রকৃত সত্য উদঘাটন বা দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
নেতারা আরও অভিযোগ করেন, পানির দৈনিক উৎপাদনের হিসাব, উৎপাদন ব্যয় নির্ধারণ, বিতরণব্যবস্থা এবং গড় বিল আদায়সহ বিভিন্ন বিষয়ে স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে। এসব অনিয়ম তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পানির সংকটের পাশাপাশি পাইপলাইনের লিকেজের কারণে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পানি নালা-নর্দমায় পড়ে অপচয় হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। হালিশহর এলাকায় পানির লাইনের সঙ্গে স্যুয়ারেজ লাইনের সংযোগের কারণে পানি দূষণ এবং পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগও তুলে ধরে ক্যাব।
ক্যাব নেতারা অভিযোগ করেন, চট্টগ্রাম ওয়াসার বোর্ডে ভোক্তা প্রতিনিধি মনোনয়নের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। তাদের দাবি, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ধারা ৫-এর ১৬ উপধারা অনুযায়ী কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) দেশের সর্বত্র ভোক্তাদের প্রতিনিধিত্ব করবে। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ভোক্তাস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণী কমিটিতে ক্যাব প্রতিনিধিত্ব করলেও চট্টগ্রাম ওয়াসার ক্ষেত্রে এ বিধান অনুসরণ করা হয়নি বলে তারা অভিযোগ করেন।
বিবৃতিতে চট্টগ্রাম ওয়াসার বিগত ১৭ বছরের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিকে একটি আদর্শ, স্বচ্ছ ও ভোক্তাবান্ধব সেবাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানায় ক্যাব।
You must be logged in to post a comment.
আপনার মতামত দিন