1. info@chattolarkantho.net : Chattolar kantho : Chattolar Kantho
বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৫৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম: :
এ্যানি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সালাহউদ্দিন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী এনআইডির জন্মতারিখ ও নাম সংশোধনে নতুন সিদ্ধান্ত  লালদীঘি শাখা অগ্রণী ব্যাংকের ভোল্টে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ‘উধাও’ দূর্গম পাহাড়ে সাফল্যের পথে সোনাইছড়ি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেউ চান মাথা গোঁজার ঠাঁই, কেউ চিকিৎসার টাকা—গণশুনানিতে পাশে দাঁড়ালেন মানবিক ডিসি জাহিদ বন্দরের বহিঃনোঙ্গরে যৌথ অভিযানে ৫০টির অধিক ফিশিং বোট তল্লাশি,আটক ২৪ সূর্যগিরি আশ্রম শাখার কমিটি’র অভিষেক অনুষ্ঠান উপলক্ষে মতবিনিময় সভা ও ত্রাণ বিতরণ অবশেষে উন্মুক্ত বান্দরবানের নাফাকুম ও কেওক্রাডং: পাহাড়ে পর্যটনের নতুন দুয়ার ​অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ও এসডিজি অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামোর রূপরেখা উন্মোচন সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের জামিন নামঞ্জুর চট্টগ্রামে ‘Talent Hunt 2026’:১০০-এর অধিক যুবকের কারিগরি প্রশিক্ষণে এনরোলমেন্ট ও প্রশিক্ষণ শেষে চাকরির উদ্যোগ কাতার থেকে হোয়াটসঅ্যাপে প্রবাসীর কাছে চাঁদা দাবী; না দেওয়ায় বাড়িতে গুলি রাষ্ট্রায়ত্ত ৩ পাটকল ইজারা দিল সরকার;৬১৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ জামানত ছাড়াই তরুণদের ১০ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ দিবে বাংলাদেশ ব্যাংক টেকনাফে চার অস্ত্রসহ বিপুল গুলি উদ্ধার, ১৬ মামলার আসামি গ্রেপ্তার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও বাসি খাবার, গোল্ডেন ব্রিজসহ তিন রেস্টুরেন্টকে ২ লাখ টাকা জরিমানা নাইক্ষ্যংছড়িতে ১শত পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের কোটি টাকা আত্মসাত; এলএ শাখার সার্ভেয়ার কারাগারে ভাণ্ডারিয়ায় ১৬ ঘণ্টায় হত্যার রহস্য উন্মোচন,স্ত্রী ও তিন ছেলে গ্রেফতার চট্টগ্রামের বহিঃনোঙ্গরে আড়াই লাখ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক সাইকেলের চাকায় জামশেদের জীবন বদলে দিলেন ডিসি জাহিদ রোটারি ক্লাব অব চিটাগাং সাগরিকার অভিষেক অনুষ্ঠানে সুবিধা বঞ্চিতদের সহায়ক সামগ্রী প্রদান নিজ মায়ের জানাজা নামাজ পড়ালেন সাংসদ সরোয়ার আলমগীর;শোকহত ফটিকছড়িবাসী প্রত্যাশীর সিমস প্রকল্পের উদ্যোগে চকরিয়ায় নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মালতী বড়ুয়া’র ঘর নির্মাণে সামাজিক সংগঠন ‘প্রজ্ঞা সারথী সংঘ’ রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের নাম চূড়ান্ত ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে হেফাজতের ভূমিকা অপরিসীম: প্রধানমন্ত্রী বান্দরবানে নানা আয়োজনে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত মায়ানমার হতে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা বিপুল পরিমাণ বিদেশি সিগারেট জব্দ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি ছাড়া কেউ মনোনয়নপত্র নেননি : ইসি সচিব

লালদীঘি শাখা অগ্রণী ব্যাংকের ভোল্টে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ‘উধাও’

চট্টলার কণ্ঠ ডেস্ক:
  • প্রকাশিত সময় : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬

ক্যাশ ইনচার্জ ও বহিরাগত কারাগারে, ম্যানেজার কি দায়মুক্ত?

চট্টগ্রামের লালদীঘি জেলা পরিষদ ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির পূর্ব কর্পোরেট শাখার ক্যাশ ভোল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ব্যাংকের ভাষায়, বিপুল এই অর্থের ‘ঘাটতি’ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থগুলো বিভিন্ন গ্রাহকের আমানতের অংশ।

গত ১০ আগস্ট মধ্যরাতে এ ঘটনায় করা মামলায় ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার ও ক্যাশ ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন (৪১) এবং ব্যাংকের সঙ্গে সরাসরি কর্মরত নন এমন বহিরাগত মো. জাফরুল্লাহ তানভীরকে (২৫) গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

ঘটনাটি নিয়ে ইতোমধ্যে ব্যাংকিং খাত ও গ্রাহকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে— একটি ব্যাংকের ভোল্ট থেকে কোটি কোটি টাকা দীর্ঘ সময় ধরে ‘ঘাটতি’ থাকল কীভাবে, নিয়মিত ক্যাশ মিলানো ও ভোল্ট তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা এতদিন বিষয়টি জানতে পারলেন না কেন এবং এত বড় অঙ্কের অর্থ সরানোর ক্ষেত্রে আরও কেউ জড়িত কি না— এসব প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে।

মামলায় যে তথ্য নথিতে
কোতোয়ালী থানায় করা মামলার নম্বর ২২/৪৩৮। এতে দণ্ডবিধির ৪০৮, ৪২০ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার বাদী অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি লালদীঘি পূর্ব কর্পোরেট শাখার জেনারেল ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদ। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালী থানার ওসি আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূর। মামলাটি তদন্ত করছেন কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন। মামলায় কামরুল হোসেন ও জাফরুল্লাহ তানভীরের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলাটির এজাহার অনুযায়ী, কামরুল হোসেন ওই শাখার ক্যাশ ও ভোল্টের দায়িত্বে ছিলেন। গত ৯ আগস্ট নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম শেষে নগদ অর্থের হিসাব ও ভোল্টে সংরক্ষিত অর্থের হিসাব মেলানোর সময় গরমিল ধরা পড়ে। পরবর্তী যাচাই-বাছাইয়ে ভোল্টে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ঘাটতি পাওয়া যায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও দাবি করা হয়, কামরুল হোসেনকে ঘাটতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। পরে ব্যাংকের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তিনি জাফরুল্লাহ তানভীরসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের সহায়তায় অর্থ সরিয়ে ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন।

মামলার এজাহারে কামরুলের কথিত জবানবন্দির বরাত দিয়ে আরও বলা হয়, বড় অঙ্কের টাকার বান্ডেলের ভেতরে ছোট মূল্যমানের নোট ঢুকিয়ে বান্ডিল সাজিয়ে ভোল্টে হিসাব মেলানো হতো। এভাবে বাইরে থেকে বান্ডিল দেখে ভেতরে টাকা রয়েছে বলে মনে হলেও প্রকৃত অর্থের পরিমাণ কম ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জাফরুল্লাহ তানভীরের দেখাশোনার শর্তে অর্থ বিনিয়োগ করে হাটহাজারীর বুড়িশ্চর এলাকায় ‘ইশরাত এগ্রো’ নামে একটি গরুর খামার পরিচালনা করা হচ্ছিল। সেখানে ৫০ থেকে ৬০টি গরু রয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তাধীন।

‘ছেলেকে ফাঁসানো হয়েছে’— দাবি জাফরুল্লাহর পিতার
মামলার দ্বিতীয় আসামি জাফরুল্লাহ তানভীরের বাবা আজিম উল্লাহ ব্যাংকের এজাহারে থাকা বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন।
তাঁর দাবি, তার ছেলে কোনোভাবেই অগ্রণী ব্যাংকের লালদীঘি শাখার গ্রাহক বা কর্মকর্তা-কর্মচারী নন। তার ছেলে আগে থেকেই গরুর খামারের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলো। ব্যাংক থেকে কেউ তার ছেলেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা দেওয়ার কোনো প্রমাণও তাদের দেখানো হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

আজিম উল্লাহর ভাষ্য, ৯ আগস্ট রাত ১টার দিকে তার স্ত্রী জাহেদা বেগমের মোবাইলে ব্যাংক থেকে ফোন করে জানানো হয়, তার ছেলে লালদীঘি শাখায় আটক রয়েছে এবং টাকা নিয়ে যেতে বলা হয়। কিন্তু কীসের টাকা— এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। এমনকি তার ছেলেকেও ফোনে কথা বলতে দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, এর আগে ক্যাশ ইনচার্জ কামরুল হোসেনই অন্যদিনের মতো তার ছেলেকে ডেকে নিয়ে যান।

আজিম উল্লাহ আরও দাবি করেন, রাতেই তিনি কয়েকজন আত্মীয়কে সঙ্গে নিয়ে ব্যাংকে গেলে তাদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। পরে তারা কোতোয়ালী থানায় গিয়ে পুরো বিষয়টি পুলিশকে জানান। রাত আনুমানিক ২টার দিকে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে আবার ব্যাংকে গেলে পুলিশও প্রথমে ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি বলে দাবি করেন তিনি। পরে পুলিশ কৌশলে ব্যাংকে প্রবেশ করে জাফরুল্লাহ ও কামরুল হোসেনকে থানায় নিয়ে যায়।

এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে প্রকৃত ঘটনা পাওয়া যাবে বলে দাবি করেন আজিম উল্লাহ। তার আরও দাবি, কামরুল হোসেন পরিচয় সুত্রে মাঝেমধ্যে তার ছেলেকে ব্যবসায় বিনিয়োগের জন্য টাকা দিতেন এবং পরে লাভসহ তা ফেরত নিতেন। তবে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা তার ছেলের কাছে দেওয়া হয়েছিল—এমন কোনো প্রমাণ তাদের কাছে নেই।

আজিম উল্লাহর অভিযোগ, তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। এমনকি ব্যাংকের ভেতরে কৌশলে তাকে দিয়ে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

‘ম্যানেজার দায় এড়াতে পারেন না’
ব্যাংকিং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও চট্টগ্রাম জজকোর্টের আইনজীবী আনোয়ার হোসেন বলেন, ভোল্ট থেকে এত বড় অঙ্কের অর্থের ঘাটতি দেখা দিলে শুধু ক্যাশ ইনচার্জের দায় দেখেই বিষয়টি শেষ করার সুযোগ নেই। তার মতে, ব্যাংকের ভোল্টে কোটি কোটি টাকার ঘাটতি যদি দীর্ঘ সময় ধরে অজানা থাকে, তাহলে শাখার ব্যবস্থাপনা ও তদারকি ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে। ব্যাংক ম্যানেজারের চোখ বন্ধ ছিলো কেন।

তিনি আরো বলেন, নিয়মিত ক্যাশ মিলানো, ভোল্টের হিসাব যাচাই এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কার্যক্রম তদারকির ব্যবস্থা থাকার কথা। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে ঘাটতি থেকে থাকলে সেখানে দায়িত্বে অবহেলা বা অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় কোনো দুর্বলতা ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আসা প্রয়োজন।

চট্টগ্রামের সাবেক ব্যাংক ম্যানেজার মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, ব্যাংকের ভোল্টে বহিরাগত একজন ব্যক্তির পক্ষে একা এত বিপুল অর্থ বের করে নেওয়া কতটা সম্ভব, সেটিও তদন্তকারীদের খতিয়ে দেখা উচিত। ব্যাংকের সিসিটিভি ফুটেজ, ভোল্টে প্রবেশের রেকর্ড, ক্যাশ রেজিস্টার, দায়িত্ব বণ্টন, চাবি ও অ্যাক্সেস নিয়ন্ত্রণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গতিবিধি পর্যালোচনা করলেই ঘটনার প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— এটি কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত টাকা নয়; এখানে ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানতের প্রশ্ন জড়িত। তাই কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণের আগে যেমন তাকে দোষী বলা যাবে না, তেমনি ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার দায়ও তদন্তের বাইরে রাখা উচিত নয়।

একদিনে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা উধাও, নাকি দীর্ঘদিনের হিসাবের কারসাজি?
ঘটনার সময়কাল মামলায় দেখানো হয়েছে ১ জুন ২০২৫ থেকে ৯ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত— অর্থাৎ প্রায় এক বছর দুই মাস আট দিন। এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি সামনে এসেছে— যদি সত্যিই এক বছর ধরে ভোল্টের নগদ অর্থে ঘাটতি থেকে থাকে, তাহলে নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ক্যাশ ও ভোল্টের হিসাব যাচাইয়ের সময় তা ধরা পড়েনি কেন? আর যদি একদিনে বা অল্প সময়ে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা সরানো হয়ে থাকে, তাহলে এত বিপুল অর্থ ভোল্ট থেকে বের করার সময় কারা দায়িত্বে ছিলেন, কীভাবে অর্থ বের করা হলো, ভোল্টের নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা কীভাবে পাশ কাটানো হলো— সেটিও বড় তদন্তের বিষয়।

অন্যদিকে, মামলায় ক্যাশ ইনচার্জ কামরুল হোসেনকে ভোল্টের দায়িত্বে থাকার কথা বলা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে তার দায়িত্বের পরিধি ও তদারকি ব্যবস্থার পাশাপাশি শাখা ব্যবস্থাপনার দায়িত্বও তদন্ত করে দেখা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পিবিআই বা সিআইডিতে তদন্ত চায় পরিবার
জাফরুল্লাহ তানভীরের পরিবার দাবি করেছে, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে শুধু দুইজনকে গ্রেপ্তার করলেই হবে না। ব্যাংকের কর্মকর্তা কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবার ভূমিকা তদন্ত করা প্রয়োজন। তাদের দাবি, ব্যাংকের সিসিটিভি ফুটেজ, ভোল্টের প্রবেশ ও বের হওয়ার রেকর্ড, ক্যাশ রেজিস্টার, দৈনিক হিসাব, ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ অডিট রিপোর্ট, সংশ্লিষ্টদের মোবাইল ফোন ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। তারা মামলাটি পিবিআই বা সিআইডিতে হস্তান্তরেরও দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশের বক্তব্য
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, গ্রাহকদের ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় এজাহারনামীয় দুই আসামি কামরুল হোসেন ও জাফরুল্লাহ তানভীরকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি জানান, ‘আসামিদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন— একটি কমলা রঙের হনর ৬০০ প্রো এবং একটি আইফোন ১৬ প্রো- জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া তাদের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ ও বিভিন্ন তথ্যের স্ক্রিন রেকর্ডসহ ৬৪ জিবির একটি পেনড্রাইভ জব্দ করা হয়েছে।’ তদন্ত কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘মামলাটি তদন্তাধীন থাকায় এ মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়।’

এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রামের লালদীঘি পূর্ব কর্পোরেট অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি শাখার জেনারেল ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদ এর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও ফোন রিসিভ করেননি। তাই তাঁর মন্তব্য যুক্ত করা সম্ভব হয়নি।

যে প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনো অধরা
৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা যদি সত্যিই ভোল্ট থেকে সরানো হয়ে থাকে, তাহলে কখন, কীভাবে এবং কারা মিলে তা সরিয়েছে—তার পাশাপাশি কেন দীর্ঘ সময় ধরে বিষয়টি ধরা পড়েনি, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন। একটি ব্যাংকের ভোল্ট থেকে গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা উধাও হওয়ার ঘটনা শুধু একজন ক্যাশ ইনচার্জের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে প্রকৃত চিত্র আড়ালে থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ ভোল্ট, ক্যাশ ও ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সাধারণত একক ব্যক্তির ওপর নির্ভর করার কথা নয়।

তাই তদন্তে শুধু ‘কে টাকা নিয়েছে’—এই প্রশ্ন নয়; বরং ‘কীভাবে টাকা বের হলো, কে তা দেখল না, কার দায়িত্বে কোথায় ঘাটতি ছিল এবং এতদিন পর কেন বিষয়টি ধরা পড়ল’—এসব প্রশ্নের উত্তরও বের করা জরুরি।

সবশেষে, অভিযোগের সত্যতা আদালত ও তদন্তেই নির্ধারিত হবে। তবে গ্রাহকদের আমানত জড়িত থাকায় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, ব্যবস্থাপনার তদারকি এবং সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: বাংলাধারা

পোস্টটি শেয়ার করুন:

আপনার মতামত দিন

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য সংবাদ

সম্পাদকীয় কার্যালয়: ৩২১ দিদার মার্কেট( চতুর্থ তলা) নবাব সিরাজউদদৌলা রোড, কোতোয়ালি, চট্টগ্রাম। যোগাযোগ: +৮৮০১৭১৭-৯৯১৩৯৮। ইমেইল: weeklychattolarkantho.com@gmail.com