সুজন ভট্টাচার্য্য,বিশেষ প্রতিনিধিঃ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির লক্ষ্য নিয়ে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, সংস্কার ও উন্নয়নের পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো (জুলাই ২০২৬–জুন ২০৩১)’ শীর্ষক এক নীতি নির্ধারণী আলোচনা সভা চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় দেশের সার্বিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়।
সিটিজেনস প্ল্যাটফর্ম ফর এসডিজিস, বাংলাদেশের আহ্বায়ক এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন বলেন, “অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশুদের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। ২০২৬ থেকে ২০৩১ মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো কেবল কাগুজে পরিকল্পনা নয়, বরং এটি বাস্তবায়নে আমরা বদ্ধপরিকর।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের সংসদ সদস্য মাধবী মার্মা। তিনি পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন, আর্থসামাজিক পরিস্থিতি ও ভূমি-সংক্রান্ত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরে বলেন, “পার্বত্য এলাকার দুর্গমতা, স্বাস্থ্য অবকাঠামো ও শিক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে সাধারণ মানুষ নানা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শিক্ষক সংকট ও পর্যাপ্ত আবাসিক বিদ্যালয়ের অভাবে শিক্ষা ব্যবস্থা নাজুক রূপ নিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও ভূমি সমস্যার টেকসই সমাধানে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বাস্তব অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিতে হবে। পার্বত্য এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী মর্যাদা) মাহদি আমিন বলেন, “দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং শ্রমভিত্তিক প্রবাসী আয় বৃদ্ধিই হবে আগামীদিনের সংস্কারের মূল ভিত্তি। মানসম্মত শিক্ষা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি ছাড়া এসডিজি অর্জন অসম্ভব।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি, বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, “উন্নয়ন বাস্তবায়নে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি এবং স্বচ্ছতা অত্যন্ত জরুরি। টেকসই সংস্কারের জন্য রাষ্ট্রের সব স্তরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।”
সভাপতির বক্তব্যে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, “২০২৬ থেকে ২০৩১ সালের এই পাঁচ বছর বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসডিজি বাস্তবায়নের শেষ ধাপে এসে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে নীতিগত সংস্কার এবং নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।”
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন নীতি নির্ধারক, গবেষক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন এবং আগামী পাঁচ বছরের কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
You must be logged in to post a comment.
আপনার মতামত দিন