চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানাধীন হামজারবাগ এলাকায় রুনা টাওয়ার নামের একটি ভবনের গেইট লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (১০ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে দুই যুবক গিয়ে এই ঘটনা ঘটায়। ভবনটির মালিক প্রবাসী হাজী মোহাম্মদ ইউসুফ, যার বাড়ি ফটিকছড়ি উপজেলায় হলেও তিনি পরিবার নিয়ে হামজারবাগে বসবাস করেন। ঘটনার নেপথ্যে চাঁদা না দেওয়ার জেরসহ হুন্ডি ব্যবসা-সংক্রান্ত বিরোধের সন্দেহও করছে একটি সূত্র, ফলে একাধিক কারণ সামনে রেখে তদন্ত করছে পুলিশ।
জানা গেছে, হাজী মোহাম্মদ ইউসুফ নিষিদ্ধ স্বেচ্ছাসেবক লীগের চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান আজিজের শ্বশুর। উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর গ্রেপ্তার হওয়া আজিজ বর্তমানে কারাগারে আছেন। এ ছাড়া ইউসুফের পরিবার হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে দুই যুবক ভবনের সামনে গিয়ে প্রথমে নিরাপত্তারক্ষীর সঙ্গে কথা বলে। ভুক্তভোগী হাজী মোহাম্মদ ইউসুফ জানান, রাতে বিদ্যুৎ না থাকার সুযোগে যুবক দুজন নিরাপত্তারক্ষীকে অস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দিয়ে ফটক বন্ধ করতে বাধ্য করে। এরপর ফিরে আসার সময় গেইট লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড গুলি ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যায় তারা। পালানোর সময় দূরে তাদের সঙ্গে সম্ভবত একটি যানবাহন অপেক্ষা করছিল বলেও জানান তিনি। এ ঘটনায় ভবনের বাসিন্দা ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইউসুফের মধ্যপ্রাচ্যপ্রবাসী দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে মোহাম্মদ শওকত সম্প্রতি দেশে ফেরেন। ঘটনার দিন দুপুরে তার হোয়াটসঅ্যাপে কাতারভিত্তিক একটি নম্বর থেকে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে হুমকি দেওয়া হলে পরিবারটি নম্বরটি ব্লক করে দেয়, যার জেরেই রাতে এই হামলা হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে চাঁদাবাজির পাশাপাশি হুন্ডি ব্যবসা-সংক্রান্ত বিরোধকেও এই হামলার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে একটি সূত্র। ইউসুফের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকায় এই ব্যবসাকেন্দ্রিক কোনো বিরোধ থেকেও হামলাটি হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে ঘটনার তদন্তে চাঁদাবাজি ও হুন্ডি বিরোধ—এই দুটি সম্ভাব্য কারণকেই সামনে রেখে এগোচ্ছে পুলিশ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে হামলাকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি, তবে বিদ্যুৎ ও আলো না থাকায় এ কাজে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন। হুন্ডি ব্যবসা-সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি জাহেদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তাদের জানা ছিল না এবং এ বিষয়েও তদন্ত করে দেখা হবে।
You must be logged in to post a comment.
আপনার মতামত দিন