1. info@chattolarkantho.net : Chattolar kantho : Chattolar Kantho
October 23, 2026, 5:08 pm
সংবাদ শিরোনাম: :
​থানচিতে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ খৈয়াম: ইউএনও ও বিএনপি নেতাকর্মীদের ফুলেল শুভেচ্ছা ভাণ্ডারিয়ায় ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ,থানায় মামলা ৩৮ বিজিবির উদ্যোগে থানচিতে নারী ফুটবল দল কে সংবর্ধনার আয়োজন; উপস্থিত থাকছেন পার্বত্য মন্ত্রী বুদ্ধের অহিংসা বাণীই অস্থির বিশ্বে শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারে : নুরুল আমিন এম.পি সড়ক ও নৌ পথ দুর্ঘটনা এড়াতে রাঙামাটিতে ‘নিরাপদ যাত্রা ফাউন্ডেশন’-এর সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ ও পথসভা সিএমপি’র গোয়েন্দা জালে ইয়াবার বিশাল চালান আটক! কক্সবাজার সৈকতে গোসলে নেমে ৩ পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ ১ ধর্মের শিক্ষা শুধু উৎসবে নয়, প্রতিফলিত হোক কর্মেও: ডিসি জাহিদ লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং ফটিকছড়ির উদ্যোগে অক্টোবর সেবা সার্ভিস উপলক্ষে দুস্থদের বস্ত্র বিতরণ মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ সূর্যগিরি আশ্রম শাখার উদ্যোগে কবিয়াল রমেশ শীলের সমাধিতে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন সূর্যগিরি আশ্রমের দূর্গাপূজা পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী তারেক আজিজ লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং ফটিকছড়ির উদ্যোগে ফ্রি রক্তের গ্রুপ ও জরায়ু ক্যান্সারের টিকা প্রদান সূর্যগিরি আশ্রম পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে বিজয়া দশমীতে পুরস্কার বিতরণ আজ শুভ বিজয়া; মা দুর্গার বিদায় প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ : চসিকের সাবেক কর্মকর্তাসহ ৩ জন কারাগারে! দুর্গোৎসবের আনন্দে সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে ফটিকছড়ির পূজামণ্ডপে এমপি সরোয়ার আলমগীর সাড়ম্বরে শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন; আজ ও আগামীকাল মহাসপ্তমী দুর্গোৎসবের অন্তর্নিহিত বাণী— অশুভ শক্তির বিনাশ: রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা দেবাশীষ-গুলশান আরা কারাগারে কক্সবাজারের ইনানীতে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বেড়ে ৬ সূর্যগিরি আশ্রম পূজা উদযাপন পরিষদ ২০২৬ এর উদ্যোগে শারদ বন্দনা দুর্গাপূজায় উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী বান্দরবানে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ, সাইনি রিসোর্টের মালিক শৈক্য চিং মার্মার বিরুদ্ধে মামলা ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে আজ শুরু হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব খাদ্যপণ্যের দাম কমাতে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি চট্টগ্রামে নতুন ৪০০ পূজামণ্ডপ, নিরাপত্তায় ১৭ হাজারের বেশি সদস্য শারদীয় দুর্গাপূজায় সম্প্রীতির অনন্য বার্তা: বান্দরবানে মন্দির ও দুঃস্থদের মাঝে সেনা জোনের অনুদান বিতরণ ২০ অক্টোবর জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তথ্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় সচেতন নাগরিক ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনের বিকল্প নেই ভাণ্ডারিয়ায় চুনের বস্তায় ইট, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি, ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

মানসিক স্বাস্থ্য আর অবহেলা নয়:বাংলাদেশে দক্ষ মনোবিজ্ঞানী, স্থায়ী পদ ও সমন্বিত নীতির এখনই সময়

চট্টলার কণ্ঠ ডেস্ক:
  • প্রকাশিত সময় : Sunday, August 9, 2026

লেখক: রিদুয়ানুল হাকীম রিয়াদ

বাংলাদেশ আজ জনসংখ্যার সুবিধা (Demographic Dividend) কাজে লাগিয়ে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। অবকাঠামো, অর্থনীতি, ডিজিটালাইজেশন এবং সামাজিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত এখনও নীতি নির্ধারণের মূলধারায় যথাযথ গুরুত্ব পায়নি, সেটি হলো মানসিকস্বাস্থ্য।

মানসিক স্বাস্থ্য কেবল একজন মানুষের ব্যক্তিগত বিষয় নয়। এটি শিক্ষা, কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীলতা, সামাজিক স্থিতিশীলতা, পরিবার, নারী ও শিশু সুরক্ষা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, বিচার ব্যবস্থা এবং জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। একজন মানুষের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা মানে একটি পরিবার, একটি কর্মক্ষেত্র এবং একটি সমাজকে সুস্থ রাখা।

বাংলাদেশে উদ্বেগজনক ভাবে বাড়ছে বিষণ্নতা, উদ্বেগজনিত সমস্যা (Anxiety), আত্মহত্যা, মাদকাসক্তি, সাইবার বুলিং, পারিবারিক সহিংসতা, শিক্ষাগত চাপ, জলবায়ু জনিত মানসিক ট্রমা এবং কর্মক্ষেত্রের মানসিক চাপ। অথচ এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য দক্ষ মানবসম্পদ, বাজেট এবং সেবা অবকাঠামো অত্যন্ত সীমিত।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশের ১৬.৮ শতাংশ প্রাপ্ত বয়স্ক এবং ১৩.৬ শতাংশ শিশু-কিশোর কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, প্রাপ্তবয়স্কদের ৯২.৩ শতাংশ এবং শিশু-কিশোরদের ৯৪.৫ শতাংশ কোনো ধরনের মানসিক স্বাস্থ্য সেবা পান না।অর্থাৎ চিকিৎসা ও সেবার বিশাল ঘাটতি (Treatment Gap) এখনও বিদ্যমান।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ৬০ লক্ষেরও বেশি মানুষ বিষণ্নতা এবং প্রায় ৭০ লক্ষ মানুষ উদ্বেগ জনিত সমস্যায় আক্রান্ত। প্রতিবছর ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ আত্মহত্যা করেন, যার একটি বড় অংশ তরুণ জনগোষ্ঠী। গবেষণায় দেখা যায়, পরীক্ষার চাপ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, বেকারত্ব, সামাজিক বৈষম্য, সম্পর্কের সংকট এবং অনলাইন হয়রানি আত্মহত্যার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়িয়ে দেয়।

সবচেয়ে হতাশাজনক বাস্তবতা হলো, দেশে প্রতি একলাখ মানুষের জন্য মাত্র ০.৩৪ জন মনোবিজ্ঞানী, ০.১৬ জন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এবং ০.৪ জন মানসিক স্বাস্থ্য নার্স রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় এটি অত্যন্ত কম। অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ ঢাকা-কেন্দ্রিক হওয়ায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের মানুষ কার্যত সেবা থেকে বঞ্চিত।

বাংলাদেশ সরকার স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নারী ও শিশু, সমাজকল্যাণ, যুবউন্নয়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, কারাগার, পুলিশ, প্রতিবন্ধিতা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে মানসিক স্বাস্থ্য সেবার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করলেও বাস্তবে অধিকাংশ প্রকল্পে মনোবিজ্ঞানী নিয়োগ বাধ্যতামূলক নয়। যেখানে নিয়োগ হয়, সেখানেও অধিকাংশ পদ প্রকল্প ভিত্তিক ও চুক্তি ভিত্তিক। প্রকল্প শেষ হলে চাকরিও শেষ হয়ে যায়। এতে দক্ষ পেশাজীবীরা দীর্ঘমেয়াদে এই পেশায় থাকতে নিরুৎসাহিত হন এবং জনগণ ধারাবাহিক সেবা থেকে বঞ্চিত হন।

বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে, এনজিও, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং উন্নয়ন প্রকল্পে কর্মরত সাইকোলজিস্ট, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ও কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্টদের অনেকেই তুলনামূলক কম বেতন, সীমিত সুযোগ-সুবিধা এবং অনিশ্চিত কর্ম পরিবেশে কাজ করেন। পেশাগত মর্যাদা, ক্যারিয়ার পথ এবং পদোন্নতির সুস্পষ্ট কাঠামো না থাকায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের অনেকেই অন্য পেশায় চলে যেতে বাধ্য হন।অন্যদিকে বাস্তবতা হলো, বেসরকারি হাসপাতাল, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান, এনজিও, বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, কলেজ, শিল্প প্রতিষ্ঠান, পুনর্বাসন কেন্দ্র এবং মানসিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে দক্ষ মনোবিজ্ঞানীদের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু সেই চাহিদা পূরণের মতো প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি হচ্ছেনা।

বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষা রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মানের বিশেষায়িত ঢাবি, রাবি, জবিতে ক্লিনিক্যাল, কাউন্সেলিং এবং স্কুল সাইকোলজি থাকলেও চাহিদার তুলনায় অ্যাপ্লাইড ট্র্যাক এখনও পর্যাপ্ত নয়। বিশেষ করে সময়ের চাহিদা অনুযায়ী Clinical Psychology, Counselling Psychology, School Psychology, Forensic Psychology, Organizational/Industrial Psychology, Health Psychology, Rehabilitation Psychology এবং Neuropsychology-এর মতো বিশেষায়িত অ্যাপ্লাইড কোর্স চালু করা জরুরি।

বিশ্বের উন্নত বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে একজন ক্লিনিক্যাল বা কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্ট হতে শত শত ঘণ্টার Supervised Clinical Practice, বাধ্যতামূলক Internship, Case Conference, Psychological Assessment, Evidence-based Therapy এবং নিয়মিত Professional Supervision সম্পন্ন করতে হয়। বাংলাদেশেও আন্তর্জাতিক মানের ন্যূনতম ৬০০ থেকে ১,০০০ ঘণ্টার সুপারভিশন ভিত্তিক প্রশিক্ষণ, জাতীয় লাইসেন্সিং ব্যবস্থা, Continuing Professional Development (CPD) এবং National Registration Council গঠন এখন সময়ের দাবি।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (UGC), শিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের মধ্যে সমন্বিত নীতি ছাড়া এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়।

আজকের পৃথিবীতে মানসিক স্বাস্থ্য শিক্ষা কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয় নয়, এটি স্কুল থেকেই শুরু হওয়া উচিত। মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক ভাবে Mental Health Literacy, Psychological First Aid (PFA), Stress Management, Anger Management, Emotional Regulation, Resilience Building, Suicide Prevention, Suicide Ideation শনাক্তকরণ, Self-harm Management, Bullying ও Cyberbullying Prevention, Safe Internet Use, Conflict Resolution, Peer Support Skills, Help-seeking Behaviour, Gender Sensitivity, Substance Abuse Prevention, Exam Anxiety Management, Communication Skills এবং Life Skills অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।

প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজন প্রশিক্ষিত স্কুল সাইকোলজিস্ট থাকলে শিক্ষার্থীদের আচরণ গত পরিবর্তন, আত্মহত্যার ঝুঁকি, মাদকাসক্তি, সহিংসতা, অনুপস্থিতি, শিক্ষাগত চাপ এবং মানসিক সংকট প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এতে শিক্ষক, অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ তৈরি হবে।

একইভাবে প্রতিটি জেলা হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থায়ী ক্লিনিক্যাল বা কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্ট নিয়োগ দিতে হবে। নারী ও শিশুনির্যাতন প্রতিরোধ, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার, কারাগার, পুলিশ, দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন, প্রতিবন্ধী সেবা, মাদক পুনর্বাসন এবং কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য সেবার জন্য ওপৃথক মনোবিজ্ঞানী নিয়োগ অপরিহার্য।

বাংলাদেশের নতুন সরকার ও জাতীয় সংসদের সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ইতিবাচক বক্তব্য দিয়েছেন। তবে বক্তব্যের চেয়ে এখন বেশি প্রয়োজন বাস্তবায়ন। জাতীয় বাজেটে মানসিক স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, গবেষণায় বিনিয়োগ, জাতীয় আত্মহত্যা প্রতিরোধ কৌশল বাস্তবায়ন, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য কমিশন গঠন এবং সরকারি অর্গানোগ্রামে স্থায়ী মনোবিজ্ঞানীর পদ সৃষ্টি এখন আর বিলম্ব করার সুযোগ নেই।

সরকার চাইলে আগামী পাঁচ বছরে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে। এজন্য প্রয়োজন:

  • প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে স্থায়ী মনোবিজ্ঞানী নিয়োগ।
  • প্রতিটি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণকালীন সাইকোলজিস্ট।
  • উপজেলা পর্যায়ে কাউন্সেলিং সেবা সম্প্রসারণ।
  • জাতীয় Mental Health Helplineশক্তিশালী করা।
  • আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বিত Mental Health Action Plan বাস্তবায়ন।
  • বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিশেষায়িত অ্যাপ্লাইড সাইকোলজি প্রোগ্রাম চালু।
  • জাতীয় লাইসেন্সিং ও রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা প্রবর্তন।
  • সরকারি প্রকল্পে চুক্তিভিত্তিক নয়, রাজস্ব খাতে স্থায়ী পদ সৃষ্টি।
  • গবেষণা, উদ্ভাবন ও ডিজিটাল মানসিক স্বাস্থ্য সেবায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি।
  • কর্মক্ষেত্রে Employee Assistance Programme (EAP) এবং মানসিক স্বাস্থ্যনীতি বাধ্যতামূলক করা।

মানসিক স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ কোনো বিলাসিতা নয়, এটি একটি অর্থনৈতিক বিনিয়োগ। বিশ্বব্যাপী গবেষণায় দেখা গেছে, বিষণ্নতা ও উদ্বেগের কার্যকর চিকিৎসায় বিনিয়োগ করলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং কর্মক্ষমতা উন্নয়নের মাধ্যমে বহুগুণ অর্থনৈতিক লাভ সম্ভব।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সংকট রোগীর সংখ্যা নয়, বরং দক্ষ মানবসম্পদের ঘাটতি, সীমিত প্রশিক্ষণ, দুর্বল নীতিগত সমন্বয় এবং স্থায়ীপদের অভাব। এখনই সময় বিশ্ববিদ্যালয়, সরকার, পেশাজীবী সংগঠন, উন্নয়ন সহযোগী এবং নাগরিক সমাজকে একসঙ্গে কাজ করার।

একটি সুস্থ বাংলাদেশ গড়তে যেমন দক্ষ চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও শিক্ষক দরকার, তেমনি দরকার দক্ষ মনোবিজ্ঞানীও। কারণ মানসিক ভাবে সুস্থ মানুষই পারে একটি মানবিক, উৎপাদনশীল, সহনশীল এবং টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে। মানসিক স্বাস্থ্য আর অবহেলার বিষয় নয়, এটি এখন জাতীয় অগ্রাধিকারের বিষয় হওয়া উচিত।

লেখক: রিদুয়ানুল হাকীম রিয়াদ,
ইয়াং ডেভেলপমেন্ট এন্ড হিউম্যান রাইটস এক্টিভিস্ট,
চট্টগ্রাম.

পোস্টটি শেয়ার করুন:

আপনার মতামত দিন

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য সংবাদ

সম্পাদকীয় কার্যালয়: ৩২১ দিদার মার্কেট( চতুর্থ তলা) নবাব সিরাজউদদৌলা রোড, কোতোয়ালি, চট্টগ্রাম। যোগাযোগ: +৮৮০১৭১৭-৯৯১৩৯৮। ইমেইল: weeklychattolarkantho.com@gmail.com