ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে যুক্ত হবে ‘এমবি বাংলার নবযাত্রা’; দুই জাহাজ থেকে বছরে ২০০ কোটি টাকা আয়ের পরিকল্পনা!
চট্টলার কণ্ঠ ডেস্কঃ বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা! নিজস্ব অর্থায়নে কেনা দুটি জাহাজের মধ্যে প্রথমটি ‘বাংলার প্রগতি’ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের হেলেনিক ড্রাই বাল্ক ভেঞ্চারস এলএলসির কাছ থেকে বুঝে নিয়েছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) লন্ডনের স্থানীয় সময় সাড়ে ৮টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাহাজটি বিএসসির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

নতুন জাহাজ ‘এমবি বাংলার প্রগতি’ ১৯৯ মিটার লম্বা, ৩৩ মিটার প্রস্থ, ১৮ মিটার গভীরতার জাহাজটি ৬৫ হাজার টন পণ্য পরিবহনে সক্ষম। জাহাজটির প্রধান ইঞ্জিন MAN-B&W (জার্মান লাইসেন্সের অধীনে নির্মিত, চীন সংযোজিত)। পাম্প স্পেনের এবং কম্প্রেসার নরওয়ের। ইতিমধ্যে জাহাজটির ট্রায়াল রান হয়েছে চীনে। শিগগির জাহাজটি পণ্য বোঝাই করবে এবং লাল-সবুজের পতাকা ফেরি করবে বিশ্বের বন্দর থেকে বন্দরে। বহরে যুক্ত হতেই প্রতিদিন ২০ হাজার ডলারের ভাড়াও নিশ্চিত হয়েছে জাহাজটির।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘২৩ অক্টোবর চীনের শিপইয়ার্ড থেকে আমরা বাংলার প্রগতি জাহাজটি ফিজিক্যালি ডেলিভারি নেব। তার আগে ২১ অক্টোবর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটি জাহাজটি আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে।
তিনি বলেন, চীনের শিপইয়ার্ড থেকে ডেলিভারি নেওয়ার পরপরই জাহাজটিকে বাণিজ্যিক বহরে যুক্ত করা হবে। ২৪ অথবা ২৫ অক্টোবর জাহাজটি বাণিজ্যিক বহরে যুক্ত হবে।
সূত্র জানায়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) নিজস্ব অর্থায়নে ৫৫ থেকে ৬৬ হাজার ডিডব্লিউটি ক্ষমতা সম্পন্ন বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ সংগ্রহের লক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টা কর্তৃক সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সুপারিশ সদয় অনুমোদনের প্রেক্ষিতে গত ২১ সেপ্টেম্বর বিএসসি ও সরবরাহকারী/বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান হেলেনিক ড্রাই বাল্ক ভেঞ্চারস এলএলসির মধ্যে সরবরাহ চুক্তি হয়। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় প্রকল্পটি জুন ২০২৫ থেকে জুন ২০২৭ পর্যন্ত মেয়াদকালে বাস্তবায়নের জন্য এর ডিপিপি গত ৩ জুন অনুমোদিত হয় এবং ৪ জুন আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়।
চুক্তি মোতাবেক প্রতিটি জাহাজের মূল্য ৩৮ দশমিক ৩৪৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং দুটি জাহাজের মোট সমন্বয়কৃত ও সুপারিশকৃত মূল্য ৭৬ দশমিক ৬৯৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এটি দাপ্তরিক প্রাক্কলিত মূল্যের চেয়ে ৪ দশমিক ৬০ শতাংশ কম। জাহাজগুলো কেনার ক্ষেত্রে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের দাখিল করা প্রস্তাবে গৃহীত বিভিন্ন কারিগরি দিক যাচাই-বাছাই করা হয় এবং মূল্যায়ন কমিটি সরেজমিনে জাহাজের নির্মাণ অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে। জাহাজের স্পেসিফিকেশন প্রস্তুত এবং কারিগরি মূল্যায়নে ক্লাসিফিকেশন সোসাইটির প্রতিনিধির বিশেষজ্ঞ সেবা নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রাপ্তির পর জাহাজগুলোর নাম পরিবর্তন করে এমভি বাংলার প্রগতি (আগের নাম: XCL GEMINI) ও এমভি বাংলার নবযাত্রা ( আগের নাম: XCL LION) নির্ধারণ করা হয়েছে।
গ্রিন শিপ কনসেপ্টে নির্মিত জাহাজগুলো নকশা ও প্রযুক্তিগত সমাধান জ্বালানি সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব এবং আন্তর্জাতিক পরিবেশগত মানদণ্ডসম্মত। আন্তর্জাতিক মেরিটাইম সংস্থা (আইএমও) নির্ধারিত সর্বশেষ পরিবেশগত মানদণ্ড পূরণ করে, যা বৈশ্বিক কার্ব ন নির্গমন নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাহাজগুলোর প্রধান ইঞ্জিন থেকে নাইট্রোজেন অক্সাইড নির্গমন কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে, পরিবেশ দূষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়। জ্বালানি খরচ কম ও অপারেশনাল দক্ষতা বাড়ায়, যা সরাসরি অর্থনৈতিক সাশ্রয়ে প্রভাব ফেলে। হাইড্রোডাইনামিক ড্র্যাগ কমিয়ে জাহাজের গতি বৃদ্ধি ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করে। বাতাসের বাধা কমিয়ে গতি ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করে, বিশেষত উচ্চগতিতে অপারেশনের সময় কার্যকর।
২০১৮ ও ২০১৯ সালে চীন সরকারের ১ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকায় আর্থিক সহায়তায় তিনটি করে ছয়টি জাহাজ কিনেছিল বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন। প্রথমবারের মতো এবারই সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে ৯৩৫ কোটি টাকায় দুটি জাহাজ কিনছে। এর মধ্যে ‘এমবি বাংলার প্রগতি’ বহরে যুক্ত হলো। ‘এমবি বাংলার নবযাত্রা’ ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এ দুইটি জাহাজ থেকে বছরে ২০০ কোটি টাকা আয়ের পরিকল্পনা রয়েছে বিএসসির।
You must be logged in to post a comment.
আপনার মতামত দিন