চট্টগ্রাম নগরীর একটি পরিবারের সকালে সুপেয় পানির সংকট, বর্ষায় জলাবদ্ধতায় ব্যবসা ও জীবিকা হারানো, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরে নারীদের হয়রানি, দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও তরুণদের বেকারত্ব এবং ক্রমবর্ধমান পরিবেশগত ঝুঁকি, এই সমস্যাগুলোকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। এগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং এসব সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজন Climate, Humanitarian, Development ও Peacebuilding-এর সমন্বিত Nexus approach।

এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট দিনব্যাপী বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, চট্টগ্রামে Bright Bangladesh Forum (BBF) ও Activista Chattogram-এর উদ্যোগে এবং ActionAid Bangladesh-এর সহযোগিতায় “Advocacy with Service Providers for Strengthening Nexus Programming” শীর্ষক Nexus Fest অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরামের প্রধান নির্বাহী জনাব উৎপল বড়ুয়া। প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব আশরাফুল আমিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার জনাব মোহাম্মদ আরিফ হোসাইন, চট্টগ্রাম জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের এর এসডিও ইঞ্জিনিয়ার মো. গোলাম মোরশেদ, পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম মহানগরের সহকারী পরিচালক উর্মি সরকার, বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব সুনীল কান্তি নাথ, সিটিজেন জার্নালিস্ট ফোরাম এর প্রেসিডেন্ট কমল চক্রবর্তী এবং চট্টগ্রাম ইয়ুথ হাবের সভাপতি মৌসুমি আক্তার প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে কীনোট বক্তব্যে ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরামের ম্যানেজার জনাব রিদুয়ানুল হাকীম রিয়াদ Nexus-কে একটি integrated programming approach হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “নগরীর পানি সংকটকে শুধু পানি সরবরাহের সমস্যা হিসেবে দেখলে চলবে না। জলাবদ্ধতা শুধু drainage-এর সমস্যা নয়, এর সঙ্গে climate vulnerability, waste management, urban planning ও livelihood জড়িত। একইভাবে যুব বেকারত্বের সঙ্গে skills gap, economic vulnerability এবং সামাজিক ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে। আর নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, safe public space, community engagement এবং preventive mechanism প্রয়োজন।”
তিনি বলেন, “Nexus-এর মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারি ও সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও accountable এবং community-centred করার পাশাপাশি জনগণের কণ্ঠস্বরকে decision-making process-এর সঙ্গে যুক্ত করা। Community voice থেকে evidence, evidence থেকে advocacy এবং advocacy থেকে institutional response তৈরি করাই আমাদের approach।”
অনুষ্ঠানে যুব প্রতিনিধিরা চট্টগ্রাম নগরীর সুপেয় পানির নিশ্চয়তা, জলাবদ্ধতা নিরসন, কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, খাল ও জলাধার সংরক্ষণ, ইভটিজিং ও নারীর নিরাপত্তা, যুব বেকারত্ব, green entrepreneurship, খেলার মাঠ এবং সামাজিক সম্প্রীতি নিয়ে তাদের প্রত্যাশা ও দাবিগুলো তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব আশরাফুল আমিন যুবদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন decision-making ও development process-এ যুব প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয়ের আশ্বাস দেন। তিনি চট্টগ্রামের ৪১টি ওয়ার্ডে খেলার মাঠের প্রয়োজন, ৩৪টি জলাধার সংরক্ষণ এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে CDA Master Plan-এর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার বিষয়েও আশ্বাস প্রদান করেন।
নগরীর পানি ও পরিবেশ সংকটের আলোচনায় নিরাপদ পানি, জলাধার সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জলাবদ্ধতাকে একই urban resilience framework-এর আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে। একই সঙ্গে তরুণদের জন্য TVET, skills development, entrepreneurship এবং green initiative-এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সবুজ উদ্যোগকে শুধু পরিবেশ রক্ষার কর্মসূচি নয়, বরং green livelihood ও youth economic empowerment-এর opportunity হিসেবে দেখার আহ্বান জানানো হয়।
অন্যদিকে, ইভটিজিং ও নারীর নিরাপত্তা প্রসঙ্গে আলোচনায় community policing, preventive action, safe public spaces এবং youth engagement জোরদারের প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি, যুব সংগঠন ও সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে উষার আলো যুব সংঘের সভাপতি মো. জাবির বিন সোলায়মান PowerPoint presentation-এর মাধ্যমে Nexus Programme-এর বিভিন্ন component, অর্জন ও চলমান উদ্যোগ তুলে ধরেন। এরপর Nexus-এর বাস্তব component ধরে যুবদের অংশগ্রহণে একটি participatory theatre পরিবেশিত হয়, যেখানে পানি সংকট, জলাবদ্ধতা, বেকারত্ব, ইভটিজিং, সামাজিক সুরক্ষা ও পরিবেশগত সংকটের বাস্তব চিত্র এবং সম্ভাব্য সমাধান তুলে ধরা হয়।
পরে অতিথিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় Panel Discussion। আলোচনায় পানি, পরিবেশ, জলাবদ্ধতা, যুব কর্মসংস্থান, নারীর নিরাপত্তা, green initiative এবং social cohesion-এর মতো বিষয়গুলো নিয়ে মতবিনিময় হয়। প্যানেল আলোচনা পরিচালনা করেন জনাব মো. রুকোনজ্জামান, ইন্সপিরেটর, ActionAid Bangladesh।
দিনব্যাপী আয়োজনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা ছিল, চট্টগ্রামের নাগরিক সংকটগুলোকে বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে interconnected urban challenges হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন evidence-based advocacy, multi-stakeholder coordination, community participation এবং institutional accountability।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে Activista Chattogram-এর যুবদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
“সমস্যা আলাদা নয়, সমাধানও আলাদা নয়।”
Climate | Humanitarian | Development | Peacebuilding
Community Voice → Collective Action → Systemic Change
You must be logged in to post a comment.
আপনার মতামত দিন