সুজন ভট্টাচার্য্য,বিশেষ প্রতিনিধিঃ বান্দরবানের রুমা উপজেলায় সরকারের সামাজিক নিরাপত্তামূলক ‘ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট’ (ভিডব্লিউবি) কর্মসূচির চাল বিতরণে উপকারভোগীদের কাছ থেকে সঞ্চয়ের বাড়তি ৩০ টাকা কেটে রাখার অভিযোগ উঠেছে।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কার্ডে মাসিক সঞ্চয় ২২০ টাকা লিপিবদ্ধ করা হলেও, দুস্থ নারীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক ২৫০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। প্রতি উপকারভোগীর কাছ থেকে কেটে রাখা এই অতিরিক্ত ৩০ টাকা।তবে এই টাকা জমা হচ্ছে না সরকারি কোনো তহবিলে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
সরেজমিনে রুমা এলাকার বেশ কয়েকজন ভিডব্লিউবি কার্ডধারীর সাথে কথা বলে এবং তাদের বিতরণ কার্ড পর্যালোচনা করে এই অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।
কার্ডধারীদের দেওয়া তথ্য ও সংগৃহীত ছবিতে দেখা যায় যে ২০২৫ -২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত প্রতি মাসেই খাদ্যশস্য বিতরণের তারিখে উপকারভোগীর সঞ্চয় কলামে ‘২২০/-‘ টাকা স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে এবং পাশে সংশ্লিষ্টদের স্বাক্ষর ও টিপসই রয়েছে। তবে ভুক্তভোগী নারীদের অভিযোগ, চাল নেওয়ার সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ২৫০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। কার্ডে কম লেখার বিষয়ে জানতে চাইলে মাঠপর্যায়ের দায়িত্বশীলরা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রুমা সদর ইউনিয়নের এক ভুক্তভোগী নারী বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, সরকারের দেওয়া ৩০ কেজি চাল আমাদের বড় সম্বল। চাল নেওয়ার সময় আমাদের কাছ থেকে ঠিকই ২৫০ টাকা নেওয়া হয়, কিন্তু কার্ডে তোলার সময় কেন ২২০ টাকা লেখা হয় তা আমরা জানি না। প্রতি মাসে আমাদের মতো শত শত নারীর কাছ থেকে এভাবে ৩০ টাকা করে কেটে রাখা হচ্ছে।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি ইউনিয়নে যদি ৫০০ জন ভিডব্লিউবি গ্রাহক থাকেন, তবে প্রতি মাসে গ্রাহকদের অজান্তেই প্রায় ১৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
পুরো উপজেলা জুড়ে এই হিসাব করলে লোপাট হওয়া টাকার অঙ্কটা অনেক বড় দাঁড়ায়। সাধারণ কার্ডধারীদের প্রশ্ন— সরকারের নিয়মের বাইরে গিয়ে নেওয়া এই ৩০ টাকা কার পকেটে যাচ্ছে? এটি কি স্থানীয় সিন্ডিকেটের কারসাজি নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে?
এই বিষয়ে জানতে চাইলে রুমা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) অংসেছিনু মারমা বলেন, “আমি টাকা পয়সা লেনদেনের বিষয়ে তেমন কিছু জানিনা,কাজ গুলো মূলত দফাদাররা করে।তিনি আরো বলেন গুদাম থেকে চাল গুলো পরিষদে নিয়ে আসতে তো একটা কেরিং খরচ আছে,সেইজন্য হয়তো বাড়তি টাকা আদায় করা হয়ে থাকতে পারে,তবে আমি আপাতত নিশ্চিত ভাবে কিছুই বলতে পারছি না।দফাদার সাথে কথা বলে বাড়তি টাকার বিষয় টা নিশ্চিত হতে পারবো।
You must be logged in to post a comment.
আপনার মতামত দিন