আজ বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হতে যাচ্ছে। সংসদ ভবনের অধিবেশনকক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।
এ নির্বাচনের ভোটার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন সদস্য। এ লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও সংসদ সচিবালয়। ভোটে বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। যদিও সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিজয় সুনিশ্চিত।
ভোট গণনা শেষে অধিবেশনকক্ষেই ফল ঘোষণা করা হবে।
গতকাল বুধবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে এ নির্বাচনের নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, “সংসদীয় ব্যবস্থায় ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রথম ভোটগ্রহণের ৩৫ বছর পর এবার এ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে—সব মিলিয়ে এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ‘ঐতিহাসিক’। এ নির্বাচনের দিকে পুরো জাতি ও বিশ্ববাসী তাকিয়ে আছে।
ইনশাআল্লাহ আমরা একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে পারব। গণ-অভ্যুত্থানের পর একজন রাষ্ট্রপতি মেয়াদ শেষের আগে পদত্যাগ করেছেন। এখন কে রাষ্ট্রপতি হবেন, তা নিয়ে সবার একটা আগ্রহ আছে। নির্বাচনে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেতা ভোট দেবেন। তাঁদের ভোট দেওয়ার সময় সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ভোটগ্রহণ চলাকালে সম্প্রচার বন্ধ থাকার পর বিকেল ৫টায় ভোট গণনা শুরু হলে আবার সরাসরি সম্প্রচার শুরু হবে।
কোন সংসদ সদস্য কোন প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন তা দেখতে পাবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘এটা ওপেন। প্রার্থীর নামের পাশে ব্যালটে ভোটারের নাম থাকবে। আমি যখন ব্যালট পাব, গণনা করব, দেখব কে কাকে ভোট দিয়েছেন। অন্য নির্বাচনে কে কাকে ভোট দিল দেখা যায় না।’
তিনি বলেন ‘কতটি ব্যালট ছাপানো হয়েছে, কতটি ব্যবহার হয়েছে, কতটি অব্যবহৃত রয়েছে, কতটি বাতিল হয়েছে এবং প্রার্থীরা কে কত ভোট পেয়েছেন—এসব বিস্তারিত ঘোষণা করা হবে।’
দীর্ঘদিন পর এ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হওয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতার কিছুটা ঘাটতি রয়েছে বলে উল্লেখ করেন নির্বাচনী কর্তা। তিনি বলেন, ‘ইনস্টিটিউশনাল মেমোরি এখানে একটু শর্ট আছে। কারণ আমাদের লোকজন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণে অভ্যস্ত নন। সংসদ সচিবালয়ও এই প্রক্রিয়ায় অভ্যস্ত নয়। এর পরও যত রকমের সম্ভব এক্সারসাইজ সম্ভব এবং দরকার, সেটা আমরা করেছি।’
সংসদের অধিবেশনকক্ষের বাইরে ভোটের প্রচারে বাধা নেই জানিয়ে নির্বাচনী কর্তা বলেন, “ভোটের দিন ওখানে হাউসের (অধিবেশনকক্ষে) মধ্যে কোনো প্রচার-প্রচারণা চলবে না। নির্বাচন আয়োজনের সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। যাঁরা স্টেকহোল্ডার আছেন, সবার সহযোগিতা পাচ্ছি। কোনো অসুবিধা হবে বলে আমরা মনে করি না। দীর্ঘদিন পর এমন একটি নির্বাচন পরিচালনার সুযোগ পাওয়া নিজের জন্যও ‘ভাগ্যের ব্যাপার’।”
নির্বাচন সামনে রেখে সরকারি দল বিএনপির সংসদীয় দলের সভা গতকাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনের নবম তলায় অনুষ্ঠিত সভায় সংসদ সদস্যদের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
You must be logged in to post a comment.
আপনার মতামত দিন