কুমিল্লায় বাসায় ফেরার পথে কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে র্যাব-১১। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের কাছ থেকে নিহতের ব্যাগ ও মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়েছে।
সংশ্লিস্ট সূত্রে জানা গেছে, পদুয়ার বাজার বাসস্ট্যান্ড থেকে কিছুটা সামনে নামার পর একটি সিএনজিতে ওঠেন বুলেট। ওই সিএনজিতে আগে থেকেই অবস্থান করছিল ছিনতাইকারীরা। সামনে ছিল চালকসহ দুজন, পেছনে দুজন। চালক ‘আর একজন হলেই ছেড়ে দেবে’ বলে বুলেটকে বসতে প্রলুব্ধ করেন। পরে চলন্ত অবস্থায় তাকে জিম্মি করে ছিনতাই করা হয়।
র্যাব কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ঘটনার সময় বুলেট ক্লান্ত ছিলেন। অস্ত্রের মুখে পড়ে তিনি ভীত হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে ধস্তাধস্তিও হয়ে থাকতে পারে। ছিনতাই শেষে তাকে চলন্ত সিএনজি থেকে ফেলে দেয় ছিনতাইকারীরা। এতে সড়কে পড়ে গুরুতর আঘাত পান তিনি। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল পৌনে ৮টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকায় একটি হোটেলের পাশের ফুটপাত থেকে বুলেটের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশ। ঘটনাস্থল মহাসড়কের বিপরীত পাশে হওয়ায় শুরু থেকেই বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হয় তদন্তকারীদের।
র্যাব জানায়, আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে জড়িতদের শনাক্ত ও আটক করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক র্যাবের এক কর্মকর্তা বলেন, “এই ঘটনাটি আমাদের নাড়িয়ে দিয়েছে। দ্রুত অপরাধীদের ধরতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।”
নিহত বুলেট বৈরাগী কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দর কাস্টমসে কর্মরত ছিলেন। পারিবারিক জীবনে তিনি এক সন্তানের বাবা ছিলেন। আজ সোমবার বুলেটের সন্তানের প্রথম জন্মদিন ছিল।
You must be logged in to post a comment.
আপনার মতামত দিন