1. info@chattolarkantho.net : Chattolar kantho : Chattolar Kantho
November 3, 2026, 10:49 am
সংবাদ শিরোনাম: :
মায়ানমার পাচারকালে বিপুল পরিমান সিমেন্টসহ ১২ পাচারকারী আটক টেকনাফে ৭০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ভাণ্ডারিয়ায় প্রশাসনের অভিযান, ব্যবসায়ীদের সতর্কবার্তা যৌথ প্রশিক্ষণ মহড়া ‘কারাত-২০২৬’ উপলক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আগমন মায়ানমারে পাচারকালে বিপুল পরিমাণ সিমেন্টসহ ৪ পাচারকারী আটক বর্ণাঢ্য আয়োজনে ভান্ডারিয়ায় জাতীয় যুব দিবস উদযাপিত এইচএসসি ফল বিপর্যয়: দায় কার—শিক্ষার্থীর, নাকি পুরো শিক্ষাব্যবস্থার? আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উদযাপন ও বিজিএ-এর নবগঠিত কমিটির অভিষেক উপলক্ষে গুণীজন সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ডিসি জাহিদের অনন্য উদ্যোগ; চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার প্লাস্টিক হচ্ছে পুনর্ব্যবহার ব্যাটারিচালিত রিকশা চালাতে মানতে হবে যেসব শর্ত; প্রজ্ঞাপন জারি ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফয়সল বহিঃনোঙ্গরে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা জোরদারে সমন্বয় সভা ​বান্দরবানে অসুস্থ স্বামী ও প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে অনাহারে থাকা অসহায় মায়ের পাশে দাঁড়াল পিসিসিপি বর্ণাঢ্য আয়োজনে ভান্ডারিয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত বিবিএফ জব ফেয়ার অ্যান্ড ক্যারিয়ার এক্সপো ২০২৬ অনুষ্ঠিত প্রাণবন্ত আয়োজনে ভান্ডারিয়ায় যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত ​খেলার মাধ্যমে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের পাশাপাশি এলাকার সুনাম ও সম্প্রীতি বাড়াতে হবে— পার্বত্য মন্ত্রী সাচিংপ্রু জেরী এমপি​​ চট্টগ্রামে এক দিনে এক লাখ গাছ রোপণের প্রস্তুতি ডিসি জাহিদের মা ইলিশ সংরক্ষণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে কোস্ট গার্ড পূর্ব জোন বজ্রপাতে প্রাণ গেল স্কুল দপ্তরি ও মাদ্রাসাছাত্রের ভাণ্ডারিয়ায় সরকারি গাছ কাটা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার পার্বত্যমন্ত্রীর আগমন ঘিরে থানচিতে উৎসবের আমেজ, বিজিবি’র সংবর্ধনা পাচ্ছেন ২২ নারী ফুটবলার চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘BBF Job Fair & Career Expo 2026’ দেশব্যাপী হত্যা, শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও মব সহিংসতার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে মানববন্ধন নিম্নমানের সামগ্রীতে ৩ কিলোমিটার সড়ক, এলজিইডির ভাঙচুরে প্রশ্নের মুখে তদারকি লামা মৌচাক কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লি:এর ৩২তম বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত বারমাসিয়া নন্দী পাড়া “শ্রীশ্রী গীতা ও নৈতিক শিক্ষা নিকেতনের” প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন নাগরিকদের আস্থার জায়গা হতে হবে সরকারি কর্মকর্তাদের: ডিসি জাহিদ ​থানচিতে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ খৈয়াম: ইউএনও ও বিএনপি নেতাকর্মীদের ফুলেল শুভেচ্ছা ভাণ্ডারিয়ায় ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ,থানায় মামলা

নারী নির্যাতন বন্ধে প্রয়োজন শিক্ষা,সচেতনতা ও ক্ষমতায়ন

চট্টলার কণ্ঠ ডেস্ক:
  • প্রকাশিত সময় : Thursday, November 28, 2024

ছায়েদ ছাদিন; নারী নির্যাতন বাংলাদেশের একটি দীর্ঘস্থায়ী ও ভয়াবহ সামাজিক সমস্যা। বেইজিং ঘোষণা অনুযায়ী, নারী নির্যাতন হলো এমন যেকোনো কাজ বা আচরণ, যা নারীর শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি সাধন করে, তাকে হুমকি দেয়, বা তার স্বাধীনতাকে খর্ব করে। যদিও এ সমস্যার বিরুদ্ধে আন্দোলন ও সচেতনতা বাড়ছে, তবু সাম্প্রতিক একটি জরিপে দেখা গেছে, দেশের ৮০ শতাংশ নারী কোনো না কোনোভাবে সহিংসতার শিকার হন। এর মধ্যে ৭২ শতাংশ নারী এই ঘটনা প্রকাশ করেন না। সামাজিক লজ্জা, পারিবারিক চাপ, এবং প্রাসঙ্গিক নিরাপত্তাহীনতার কারণে অধিকাংশ নারী নীরব থাকেন।

পুরুষতান্ত্রিক সমাজের নানা পারিবারিক ও সাংস্কৃতিক বাধায় নারী যেমন ঘরের বাইরে পদে পদে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পেশাগত বৈষম্য, কর্মস্থলে নিপীড়ন, যৌন হয়রানি ও লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছে; ঠিক তেমনি ঘরের ভেতরও পারিবারিক বঞ্চনা, অবমাননা ও অত্যাচারের শিকার হচ্ছে। হাতেগোনা কয়েকজন বাদে প্রায় প্রত্যেক নারীই কোনো না কোনোভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। অনেকে আবার পরিবারের কোনো না কোনো সদস্য দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছে। কেউ এটা স্বীকার করেন, কেউ করেন না।মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, দেশের ৩০-৫০ শতাংশ নারী কোনো না কোনোভাবে পারিবারিক নির্যাতনের শিকার।

মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে ৪১ দশমিক ৭০ এবং শহরাঞ্চলে ৩৯ দশমিক ৭০ শতাংশ নারী স্বামীর ঘরে নির্যাতনের শিকার হয়।নারী নির্যাতন প্রতিরোধে নানা আইন আছে; কিন্তু শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নির্যাতন বন্ধ করা সম্ভব নয়। নারী নির্যাতন বন্ধ করতে হলে সবার আগে প্রয়োজন নারীর শিক্ষা ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন। পাশাপাশি প্রয়োজন মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। নারীকে নারী হিসেবে না দেখে মানুষ হিসেবে দেখতে হবে।

নারী নির্যাতনের প্রধান কারণগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটি সমাজের পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে জন্ম নেয়। যুগ যুগ ধরে নারীদের দুর্বল ও নির্ভরশীল হিসেবে দেখা হয়েছে। শিক্ষার অভাব, দারিদ্র্য, এবং সঠিক পারিবারিক মূল্যবোধের ঘাটতি এই সমস্যাকে আরও গভীর করেছে।

নারী নির্যাতনের প্রভাব শুধু ব্যক্তি বা পরিবার নয়, বরং পুরো সমাজের উপর পড়ে। এটি নারীর সম্ভাবনা এবং সামগ্রিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করে। ফলে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ক্ষমতায়ন ছাড়া একটি ন্যায়সংগত এবং সমৃদ্ধ সমাজ গঠন সম্ভব নয়।
১২ ধরনের সহিংসতার শিকার হয় নারীরাঃ

একশনএইডের গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনলাইনে নারীর প্রতি ১২ ধরনের সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে নারীরা অশ্লীল, ক্ষতিকর, যৌনতামূলক ও বিদ্বেষমূলক মন্তব্য পেয়ে থাকেন। ৫৩ শতাংশ নারীকে ইনবক্সে অশ্লীল ছবি পাঠিয়ে যৌন সম্পর্ক করার কথা বলে হয়রানি করা হয়। বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হন ১৯ শতাংশ নারী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীদের নাম ব্যবহার করে ভুয়া আইডি খোলার মাধ্যমে সহিংসতার শিকার হয়েছেন প্রায় ১৮ শতাংশ নারী। ১৬ শতাংশ নারী বলেছেন, সাইবার জগতে তাঁদের কর্মকাণ্ড সব সময় অনুসরণ করা হচ্ছে। সমকামিতার পক্ষে কথা বলায় ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হয়েছেন ১৩ শতাংশ।

এ ছাড়া অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া (পোস্ট), যৌন সহিংসতা করার হুমকি, ফেসবুক লাইভ বা শিক্ষামূলক অধিবেশন চলার সময়ে যৌন হয়রানিমূলক মন্তব্য, কাজ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে যৌন সম্পর্ক গড়ে তোলার চাপ, যৌন সহিংসতা ঘটানোর সময় ছবি তুলে ও ভিডিও করে পরে পোস্ট করা এবং নাটক–সিনেমায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার কথা বলে প্রতারণা করা হয়েছে নারীদের সঙ্গে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সবচেয়ে বেশি সহিংসতার সম্মুখীন হয়েছেন নারীরা, এ হার ৪৭ শতাংশ। মেসেঞ্জারে হারটি ৩৫ শতাংশ। এ ছাড়া ইনস্টাগ্রাম, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ, ইউটিউবসহ অন্যান্য মাধ্যমেও সহিংসতার মুখে পড়েছেন নারীরা।

এ সমস্যার সমাধানে প্রয়োজন বহুমুখী উদ্যোগ:

১। শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধি: প্রতিটি নারীকে তার অধিকার এবং সুরক্ষার বিষয়ে সচেতন করতে হবে।

২। আইনের কঠোর প্রয়োগ: নারী নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তি নিশ্চিত করতে আইনি ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে হবে।

৩। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা: কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।

৪। পারিবারিক মূল্যবোধ গঠন: পরিবার থেকে নারীর মর্যাদা ও সুরক্ষার শিক্ষা দিতে হবে।

৫। সামাজিক আন্দোলন: গণসচেতনতা বাড়ানোর জন্য গণমাধ্যম এবং সামাজিক প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগাতে হবে।

বাংলাদেশে নারী নির্যাতন বন্ধে সরকার, সামাজিক প্রতিষ্ঠান, এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। নারী শুধু পরিবারের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তারা সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের শক্তি। তাই নারী নির্যাতন বন্ধের মাধ্যমে একটি সমতাভিত্তিক ও সুরক্ষিত সমাজ গড়ে তোলা আমাদের সবার দায়িত্ব।পরিবর্তন এখনই প্রয়োজন।

লেখকঃ
ছায়েদ ছাদিন;ইয়ুথ(একশন ফর ইয়ুথ ক্লাব,ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরাম,

একশনএইড বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম)

পোস্টটি শেয়ার করুন:

আপনার মতামত দিন

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য সংবাদ

সম্পাদকীয় কার্যালয়: ৩২১ দিদার মার্কেট( চতুর্থ তলা) নবাব সিরাজউদদৌলা রোড, কোতোয়ালি, চট্টগ্রাম। যোগাযোগ: +৮৮০১৭১৭-৯৯১৩৯৮। ইমেইল: weeklychattolarkantho.com@gmail.com