আমাদের ব্যবহার ও কাজের সমস্ত দায়িত্বই একান্তভাবে গ্রহণ করা দরকার এবং কোনও অজুহাত দেখানো থেকে বিরত থাকাই উচিত। বিষয়টি ভালো না লাগে বলে, যে ছেলে পরীক্ষায় ফেল করে, তার মতো যেন না হয়। এই অজুহাত দিয়ে ছেলে নিজের ক্ষতিটাই বেশি করেছে। আমাদের কাজের দায়ভার নিজেকে নিতেই হবে এবং অপরের উপর দোষারোপ করা বন্ধ করতে হবে। তাহলেই আমাদের উৎপাদনশীলতা এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।
অজুহাত খাড়া করলে সমস্যাটি জটিল হয়ে ওঠে। মনে রাখতে হবে, আমাদের দায়িত্ব আছে নিজের প্রতি, পরিবারের প্রতি, কাজের প্রতি, সমাজের প্রতি এবং পরিবেশ সম্পর্কে।
আমরা সবুজায়নে সাহায্য করতে পারি, ভূমিক্ষয় রোধে সাহায্য করতে পারি, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা করতে পারি
আমরা এমন বেপরোয়াভাবে বাস করতে পারি না, যেমন মনে হয় যে-আমার জন্য আরেকটা পৃথিবী আছে, যেখানে চলে যেতে পারি। আমাদের প্রতিদিনই কিছু করা উচিত যা পৃথিবীকে ভালোবেসে বাসোপযোগী করে তুলতে পারে। আমরা ভবিষ্যত প্রজন্মের তত্ত্বাবধায়ক। আমরা যদি দায়িত্বশীল না হই, তবে কেমন করে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে? আরো একটু চিন্তা করুন।
যদি মানুষের গড়পড়তা আয়ু হয় ৭৫ বছর এবং আপনার বয়স এখন ৪০ বছর বাকি ৩৫ বছরের প্রত্যেক দিন আপনি কী করবেন? অবশ্যই দায়িত্বশীল মানুষের মত কাজ করে নিজেদের উপযোগিতা প্রমাণ করা প্রয়োজন।
মূলত দেখা যায়, আহারের পর অনেকেই খোশগল্পে মেতে থাকেন। আজকাল গল্প বলতেই তো একজনের বিরুদ্ধে সমালোচনা। কেবল যে খোশগল্পের আসরেই তা চলে এমন নয়, চা দোকানে বসেন- সেখানে সমালোচনা, পান দোকানে বসেন- সেখানে সমালোচনা, ওয়াজ মাহফিলে যান- সেখানে সমালোচনা, জিকিরের মাহফিলে যান- সেখানে সমালোচনা, মসজিদে যান- সেখানে সমালোচনা, বৈঠকখানার ঘরে বসেন- সেখানে সমালোচনা, বৃক্ষের ছায়ায় জিরাতে বসেন- সেখানে সমালোচনা।
দু’জন এক জায়গায় হলেই হল, তৃতীয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে সমালোচনা আরম্ভ হবেই। ফলে এর দ্বারা সমাজে কেবল বৈরিতার ক্ষেত্রই প্রসারিত হয়ে চলেছে। হামদরদি সৌহার্দ ভ্রাতৃত্ব, বন্ধুত্ব যেন এক দুর্লভ সম্পদে পরিণত হয়েছে।
পৃথিবীতে অনেক ধরনের সম্পর্ক রয়েছে, তবে বন্ধুত্ব সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। এটি কোনো রক্তের বাঁধন নয়, বরং দুটি মনের এক অদ্ভুত মেলবন্ধন। বিপদে-আপদে, সুখে-দুঃখে যে মানুষটি কোনো স্বার্থ ছাড়াই পাশে এসে দাঁড়ায়, সেই হলো প্রকৃত বন্ধু। আজকের এই ব্যস্ত ও যান্ত্রিক পৃথিবীতে খাঁটি বন্ধু পাওয়া সত্যিই কঠিন। একজন আসল বন্ধু শুধু আমাদের ভালো সময়েই পাশে থাকে না, বরং খারাপ সময়ে আমাদের সঠিক পথ দেখায় এবং সাহস জোগায়। তাই জীবনে যদি এমন একজনও বিশ্বস্ত বন্ধু থাকে, তবে বুঝে নিতে হবে আপনি পৃথিবীর অন্যতম ধনী ব্যক্তি। এই দুর্লভ সম্পদকে সবসময় যত্ন ও ভালোবাসায় আগলে রাখা উচিত।
বন্ধুত্ব সত্যিই জীবনের সবচেয়ে বড় এবং দুর্লভ সম্পদ। একজন সত্যিকারের বন্ধু পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার, যা টাকা দিয়ে কেনা যায় না।
You must be logged in to post a comment.
আপনার মতামত দিন