সাতকানিয়ায় চট্টগ্রাম-১৪ আসনের (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক) সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদের ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি ছোড়ার অভিযোগও উঠেছে। সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঘটনার সময় আতঙ্কে ত্রাণ নিতে আসা বন্যাদুর্গতরা প্রাণভয়ে স্থান ত্যাগ করায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
শনিবার (১১ জুলাই) বিকেল পৌনে ৩টার দিকে উপজেলার কালিয়াইশ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব কাটগড় বিওসি মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার কালিয়াইশ ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডের বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ এবং নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শনের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে সেখানে যান চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন আহমদ। তিনি প্রথমে সড়ক ও জনপথ বিভাগের রেস্ট হাউসের সামনে সারিবদ্ধ নারীদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
এরপর বিওসি মোড় এলাকায় সংসদ সদস্যকে স্বাগত জানাতে বিএনপির নেতাকর্মীরা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে জড়ো হন। এ সময় বিএনপিকর্মী মো. আকতার সওদাগরের সঙ্গে এক ব্যক্তির ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বিএনপির একটি পক্ষের অভিযোগ, এ সময় রুবেল, মহিউদ্দিন সাগর, হৃদয় ও হিমেল বিএনপিকর্মী আকতার সওদাগর, মো. ইব্রাহীমসহ অন্য নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালান।
তাদের দাবি, প্রথমে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আবদুল আলিম তালুকদারকে লক্ষ্য করে রুবেল একটি গুলি ছোড়েন। তিনি নিচু হয়ে বসে পড়ায় প্রাণে রক্ষা পান। পরে উপস্থিত নেতাকর্মীরা অভিযুক্তদের ধাওয়া করলে বিওসি মোড়ের পূর্ব পাশের পাঁচতলা এলাকায় রুবেল ও মহিউদ্দিন সাগর আরও দুই রাউন্ড গুলি ছোড়েন বলে অভিযোগ করা হয়। তবে এ ঘটনায় কেউ গুলিবিদ্ধ হননি।
সংঘর্ষে কিল-ঘুষিতে আহত হন মো. আকতার সওদাগর, মো. ইব্রাহীম ও আবদুল আলিম তালুকদার। তারা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
সংঘর্ষের কারণে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য, দূর-দূরান্ত থেকে আসা বন্যাদুর্গতরা আতঙ্কে ত্রাণ না নিয়েই বাড়ি ফিরে যান।
ঘটনার পেছনে স্থানীয় বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ রয়েছে বলে দলটির একাধিক নেতা-কর্মী দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, সাবেক ছাত্রনেতা মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের নেতৃত্বে মহিউদ্দিন সাগর, শাহাদাত ইসলাম মোস্তাক, রুবেল, হিমেলসহ কয়েকজন পৃথক একটি গ্রুপ গড়ে তুলেছেন।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ওই গ্রুপের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে দুবার নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান হাফেজ আহমদের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে এবং তাকে বিএনপিতে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চলছে।
কালিয়াইশ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আমির হোসেন বলেন, ‘আমরা হানাহানি ও গ্রুপিংয়ের রাজনীতি চাই না। কী কারণে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে, বুঝতে পারছি না।’
তিনি বলেন, ‘রুবেল ও হিমেল কখনো বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানাব।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মহিউদ্দিন সাগর বলেন, ‘কেন সংঘর্ষ হয়েছে, সেটিও আমি জানি না। আমার বিরুদ্ধে গুলি ছোড়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। রাজনৈতিকভাবে আমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে একটি পক্ষ ষড়যন্ত্র করছে।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির একাধিক নেতা-কর্মী দাবি করেন, মহিউদ্দিন সাগর ও শাহাদাত ইসলাম মোস্তাকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
তাদের ভাষ্য, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তারা বিএনপিতে সক্রিয় হয়েছেন। তবে এসব অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সংসদ সদস্যের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সাতকানিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রোমেল বলেন, ‘আমরা তখন সংসদ সদস্যের সঙ্গে কিছুটা দূরে ছিলাম। কোনো গুলির শব্দ শুনিনি। পরে জেনেছি দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। যতটুকু শুনেছি, চেয়ারম্যান হাফেজ আহমদকে অনুষ্ঠানে নিয়ে আসাকে কেন্দ্র করেই ঘটনার সূত্রপাত।’
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাবেক ছাত্রনেতা মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তা সম্ভব হয়নি।
সূত্র: সিভয়েস২৪
You must be logged in to post a comment.
আপনার মতামত দিন