আগামী ছয় মাসের মধ্যে আসছে আরও তিনটি নতুন জাহাজ!
চট্টলার কণ্ঠ ডেস্ক: বাংলাদেশ সরকারের একমাত্র সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনকারী ও লাভজনক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি)। সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গুলো যখন লোকসান আর ভর্তুকির মাসুল গুনছে আর অন্যদিকে বিএসসি বাংলাদেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে এক মাইলফলক অর্জন করে চলেছে। সঠিক ও সুদুরপ্রসারি পরিকল্পনা,দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহনের ফলে আর্থিক সক্ষমতা ও নৌ পরিবহন বানিজ্যের বিশাল এক সম্ভাবনা তৈরী হয়েছে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও বিএসসি পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন ইতিহাসে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি সরকারের অর্থায়ন ও নিজস্ব তহবিল ব্যবহার করে অধিগ্রহণের মাধ্যমে বহর সম্প্রসারণ করা হবে।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে নগরের বোট ক্লাবে অনুষ্ঠিত বিএসসির ৪৮তম বার্ষিক সাধারণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান।

এর আগে বার্ষিক সাধারণ সভায় ২০২৪-২৫ অর্থ-বছরের আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক। তিনি জানান, গত জুনে শেষ হওয়া অর্থবছরে কর সমন্বয়ের পর বিএসসির নিট মুনাফা হয়েছে ৩০৬.৫৬ কোটি টাকা, যা কর্পোরেশনের গত ৫৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
তিনি জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিএসসির পরিচালনা আয় ছিল ৫৯০.৯৮ কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে আয় হয়েছে প্রায় ২০৭.৩০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে মোট আয় দাঁড়ায় ৭৯৮.২৮ কোটি টাকা। অন্যদিকে পরিচালনা ব্যয় ছিল ২৮৯.৯২ কোটি টাকা এবং প্রশাসনিক ও আর্থিক খাতে ব্যয় ছিল ১২৬.৪৫ কোটি টাকা। ফলে মোট ব্যয় হয় ৪১৬.২৭ কোটি টাকা।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিএসসির মোট আয় ছিল ৫৯৬.১৮ কোটি টাকা, মোট ব্যয় ছিল ৩১১.৫৯ কোটি টাকা এবং কর সমন্বয়ের পর নিট মুনাফা হয়েছিল ২৪৯.৬৯ কোটি টাকা। সে হিসাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিএসসির নিট আয় বেড়েছে প্রায় ৫৬.৮৭ কোটি টাকা।
বার্ষিক সাধারণ সভায় বিএসসি পরিচালনা পর্ষদ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের নিট মুনাফা থেকে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২৫ শতাংশ হারে নগদ লভ্যাংশ প্রদানের সুপারিশ করেছে। নিজস্ব অর্থায়নে জাহাজ ক্রয়ের পরিকল্পনা থাকায় গত অর্থবছরের মতোই লভ্যাংশ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে লাভের ধারা অব্যাহত থাকলে আরও বেশি লভ্যাংশ প্রদানের আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষিত হিসাব অনুযায়ী বিএসসির মোট সম্পদের পরিমাণ ৩,৫৮২.৯২ কোটি টাকা এবং মোট বহিঃদেনা ১,৯৮৩.৭৭ কোটি টাকা।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিএসসি প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে দুটি বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ কিনেছে। এর মধ্যে প্রথম জাহাজ ‘এম.ভি. বাংলার প্রগতি’ ইতোমধ্যে বিএসসির বহরে যুক্ত হয়ে বাণিজ্যে নিয়োজিত হয়েছে। দ্বিতীয় জাহাজ ‘এম.ভি. বাংলার নবযাত্রা’ ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে বহরে যুক্ত হবে।
তিনি আরও জানান, সরকারি অর্থায়নে দুটি রেডিমেড এমআর ট্যাংকার এবং নিজস্ব অর্থায়নে একটি রেডিমেড বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে আইআইএফসি-এর মাধ্যমে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১ লাখ ১৪ হাজার মেট্রিক টন ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ক্রুড অয়েল মাদার ট্যাংকার এবং ৮১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি মাদার বাল্ক ক্যারিয়ার নির্মাণের লক্ষ্যে জিটুজি ভিত্তিতে চীনের সঙ্গে জাহাজ নির্মাণ চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য চীন সরকারের সম্মতি পত্র পাওয়া গেছে এবং ঋণ আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া কন্টেইনার পরিবহন বাণিজ্যে অংশগ্রহণ বাড়াতে ২,৫০০ থেকে ৩,০০০ টিইইউ ক্ষমতাসম্পন্ন ১২টি সেলুলার কন্টেইনার জাহাজ অর্জনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক এর সহায়তায় ৬টি জাহাজ নির্মাণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও বিএসসি পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী, বিএসসি পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ এবং শেয়ারহোল্ডাররা অংশগ্রহণ করেন।
You must be logged in to post a comment.
আপনার মতামত দিন