অভিযুক্তকে বাঁচাতে মরিয়া ঊর্ধ্বতনরা এমন অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী ! দিলেন আত্মহত্যার হুমকি!
চট্টগ্রাম রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের অফিস সহকারী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে সহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে । এ ঘটনায় আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী ওই নারী। পরে চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মামলাটি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) অনুসন্ধানপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে ভুক্তভোগী নারীকে চাকরি করতে দিচ্ছে না এমন অভিযোগ থাকলেও বহাল তবিয়তে আছেন অভিযুক্ত মামুন।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানা যায়, দুই কর্মচারীর মধ্যে কর্মস্থল থেকেই গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। বিয়ের আশ্বাসে ওই নারী তার আগের স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে কথিত প্রেমিকের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে একই ফ্ল্যাটে এক বছর ধরে বসবাস করেন। তবে বিয়ের কথা উঠলেই তালবাহানা শুরু করেন প্রেমিক। একপর্যায়ে আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা করায় ভুক্তভোগী ওই নারীকে মারধর করে হাসপাতালে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে।
মামলার নথি ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সংকেত বিভাগের অস্থায়ী নারী কর্মচারী সঙ্গে একই অফিসের অফিস সহকারী আবদুল্লাহ আল মামুনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে ২০২৩ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি। সম্পর্ক গভীর হলে মামুন তাকে বিয়ে করবেন, এমন আশ্বাস দেন। ওই আশ্বাসে ভুক্তভোগী নারী ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তার আগের স্বামীকে তালাক দেন।
এরপর একই বছরের ১ অক্টোবর নগরের ওয়াসা মোড় এলাকার একটি ফ্ল্যাটে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস শুরু করেন তারা। তবে পরে বিয়ের বিষয়টি সামনে এলে মামুন নানা অজুহাতে তালবাহানা করতে থাকেন বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, চলতি বছরের ২৭ অক্টোবর তিনি বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগে আদালতে মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করছে। এর আগে ৪ ডিসেম্বর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে কোতোয়ালি থানায় আরেকটি অভিযোগ করেন তিনি। এসব অভিযোগ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাপরিচালকের কাছেও লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
ওই নারীর আরও অভিযোগ, মামলা তুলে নেওয়ার জন্য মামুন তাকে নিয়মিত হুমকি দিয়ে আসছেন। গত ৪ নভেম্বর দুপুরে সিআরবি কার্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় মামুন ও তার সহযোগীরা তাকে একটি কক্ষে ডেকে নিয়ে মারধর করেন। এতে গুরুতর আহত হয়ে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।
ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে আমরা প্রায় দুই বছর একসঙ্গে বসবাস করেছি। চলতি বছর বিয়ের জন্য চাপ দিলে তিনি মারধর শুরু করেন। আমি দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা হলে তিনি কৌশলে ওষুধ খাইয়ে তা নষ্ট করেন। এখন মামলা করায় আমাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, কর্মস্থল বদলি করে হয়রানি করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, মামুন রেলওয়ের স্থায়ী কর্মচারী হওয়ায় তার কথায় কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এর ফলে গত ২০ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাকে তিনবার কর্মস্থল পরিবর্তন করা হয়েছে। ‘আমি অসহায়ের মতো এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছি। আমাকে বারবার মামলা তুলে নিতে চাপ দিচ্ছে।
এদিকে ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ মামলা করার পর থেকে তাকে নিয়মিত হুমকি দিচ্ছে মামুনের লোকজন৷ ৪ বছর ধরে অফিস সহায়ক হিসেবে সিআরবিতে কাজ করে আসলেও তাকে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর জংশন কেবিনের লাইনে খালাসি হিসেবে বদলি করা হয়। সাধারণত রেললাইনের এসব কাজ পুরুষেরাই করে থাকেন। তবে ভুক্তভোগীকে শাস্তি হিসেবে রোদের মধ্যে কাজ দেওয়া হয়। এতে ভুক্তভোগী নারী অসুস্থ হয়ে পড়েন।বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সংকেত বিভাগের উদ্ধতন উপ- সহকারী প্রকৌশলী (সংকেত) ও বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী (পূর্ব) মোস্তাফিজুর রহমান মিলে ভুক্তভোগীকে নানা ধরনের হয়রানি করেন বলে অভিযোগ করেছে। এমনকি মোস্তাফিজুর রহমান গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর তার টাইগারপাস ভাড়া বাসার সামনে ডেকে মামলা তুলে নিতে বলেন। সর্বশেষ ১২ ফেব্রুয়ারী জাতীয় নির্বাচনের দিন কর্মস্থলে না আসায় তাকে কৌশলে অনুপস্থিত দেখিয়ে ডিউটিতে না আসার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন সংকেত বিভাগের উর্ধতন উপ-সহকারী মুরাদ হোসেন।এদিকে গত ঘটনা তদন্ত ২৩ ডিসেম্বর তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও প্রতিবেদন নিয়ে চলছে লুকোচুরি। অভিযুক্ত আবদুল্লাহ আল মামুন চাকরিতে বহাল থাকলেও মামলার জেরে হয়রানির শিকার ভুক্তভোগী নারী।
ভুক্তভোগী নারী বলেন,আমি ধর্ষণের বিচার চেয়ে আদালতে মামলা করেছি। সেটির বিচার আদালত দিবে। কিন্তু রেলওয়ের করা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন নিয়ে চলছে লুকোচুরি। অভিযুক্ত চাকরিতে বহাল থাকলেও আমাকে নানা ধরণের হয়রানির পর কৌশলে অনুপস্থিত দেখিয়ে মৌখিকভাবে অফিসে আসতে নিষেধ করেছেন সংকেত বিভাগের উর্ধতন উপ সহকারী মুরাদ হোসেন। আমি পবিত্র রমযান মাসে চাকরি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।আমি বিচার না পেলে সবার নাম প্রকাশ করে আত্মহত্যা করবো।
অভিযুক্ত আবদুল্লাহ আল মামুনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে মেসেজ দিয়েও কোন সাড়া না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এই অভিযোগের বিষয়ে জানেন কিনা এবং কি ব্যবস্থা নিয়েছেন জানতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার মোঃ সুবক্তগীনকে ফোন করলে তিনি রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সংকেত ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী’র সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সংকেত ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী সুশীল কুমার হালদারকে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সংকেত ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের (সিএসটিই-পূর্ব) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী তারেক মোহাম্মদ শামছ তুষারকে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ রেলওয়ে সংকেত বিভাগের উদ্ধতন উপ- সহকারী প্রকৌশলী মুরাদ হোসেনকে ফোন করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং তিনি ঘটনার সাথে কোন ভাবে জড়িত নন বলে জানান। হয়রানী করার বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী (পূর্ব) মোস্তাফিজুর রহমান বারবার ফোন করে এবং মেসেজ দিয়েও কোন সাড়া না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
You must be logged in to post a comment.
আপনার মতামত দিন