কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আগুন জ্বলতে থাকলেও তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, এক প্রান্তে আগুন নেভানো হলে অন্য প্রান্তে আবার নতুন করে আগুন জ্বলে উঠছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অভ্যন্তরে অবস্থিত স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে আগুনের সূত্রপাত হয়। ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে মহেশখালী ও চকোরিয়া উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের মোট চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকেও অতিরিক্ত ইউনিট পাঠানো হয়।
রাত ১টা পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা দীর্ঘ সময় ধরে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে থাকা দাহ্য বস্তু ও যন্ত্রাংশের কারণে আগুন বারবার নতুন করে ছড়িয়ে পড়ছে।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা দোলন আচার্য্য জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তিনি বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে, তবে স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডের বিস্তৃত এলাকা এবং সেখানে থাকা বিভিন্ন ধাতব ও দাহ্য সামগ্রীর কারণে কাজ করতে বেগ পেতে হচ্ছে।
মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান মাহমুদ ডালিম অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভেতরের স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে আগুন লেগেছে। তবে এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল উৎপাদন ইউনিট বা বয়লারে কোনো ধরনের ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। আগুন লাগার কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার জানান, আগুন অনেকাংশে ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ব্যবস্থায় কোনো প্রভাব পড়েনি। বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে রাত ১টার দিকে মহেশখালী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন কাদের জানান, আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা এখনো সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, ‘আগুন এক প্রান্তে নেভানো হলে অন্য প্রান্তে পুনরায় জ্বলে উঠছে।’ এতে করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় বেশি লাগছে।
বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সীমানা প্রাচীরের ভেতরে অবস্থিত এবং পুকুর সদৃশ একটি কাঠামোর মধ্যে গড়ে তোলা। এখানে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিভিন্ন অব্যবহৃত যন্ত্রাংশ ও সামগ্রী সংরক্ষণ করা হতো। স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডটি মূল বিদ্যুৎ উৎপাদন বয়লার এলাকা থেকে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থিত হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
ঘটনার পর বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ আগুনের কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।
You must be logged in to post a comment.
আপনার মতামত দিন