সুজন ভট্টাচার্য্য সূর্য্যঃ বিশেষ প্রতিনিধি: ছিলেন বন বিভাগের মালি তবে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে যোগ দিয়ে দূর্ণীতি ও নানা অপকর্মের মাধ্যমে অল্প সময়ই বনে যান কোটিপতি। অনুসন্ধানে অসংখ্য চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে।
জানা যায়,কর্মজীবনের প্রথমে দিকে ওমর ফারক ছিল বন বিভাগে কর্মরত একজন সাধারণ মালি।পারিবারিক অবস্থান ও ছিলো নিন্ম মধ্যবিত্ত।ঘটনা পরিক্রমায় ফাইতং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠা ফারুক অতি অল্প সময়েই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়ে যান। দীর্ঘমেয়াদে একই দায়িত্ব পালন করার সুযোগ সাথে ১৬ বছর আওয়ামী লীগ সরকার টিকে থাকার কারণে দলীয় প্রভাব বিস্তার করে শিল্পনগরী খ্যাত ফাইতং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি।
চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবার পরে পতিত আওয়ামীলীগ সরকারের ক্ষমতার বলয়ে গড়ে তুলেছিলেন দূর্ণীতি ও লুটপাট এর মহা সাম্রাজ্য।এরই ধারাবাহিকতায় নামে বেনামে অবৈধ সম্পদের পাহাড়,জোড় পূর্বক জমি দখল,বিচার পাইয়ে দেওয়ার নামে অসংখ্য নিরীহ মানুষের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে ফাইতং ইউনিয়নের নানান শ্রেণিপেশার মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়- একের পর এক অনিয়ম ও দুর্নীতির ফিরিস্তি চেয়ারম্যান ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে। ফাইতং ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের বেশিরভাগ মানুষ চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করলে ও কোনো এক অদৃশ্য কারণে প্রশাসন থেকে কোন ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি তার বিরুদ্ধে।
ফাইতং ইউনিয়ন লামা উপজেলার শিল্পনগরী হিসেবে খ্যাত বিভিন্ন রকম ব্যবসার সুযোগ সুবিধা রয়েছে এই ইউনিয়নে। বিশেষ করে বান্দরবান জেলার ৬৭টি ইটভাটার মধ্যে ২৮টি রয়েছে ফাইতং ইউনিয়নে।
এছাড়াও বাঁশ-কাঠ সব ধরনের ব্যবসার ট্রানজিট পয়েন্ট ও ভৌগোলিকভাবে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার সুযোগ সুবিধা রয়েছে ফাইতংয়ের।
বেশ কয়েক জন ইটভাটা মালিক নাম প্রকাশ না করা শর্তে এই প্রতিবেদক কে জানান- প্রতিটি ভাটার ট্রেড লাইসেন্স বাবদ মোটা অংকের টাকা আদায় করা হতো তাদের কাছ থেকে অথচ পরিষদের রেজিস্টার খাতায় লিপিবদ্ধ করা হয় মাত্র আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা।
এছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদ ট্যাক্স আদায়ের নামে প্রতি সিজনে ৫০ হাজার টাকা করে নেওয়া হয় প্রতিটি ইটভাটা থেকে। এই টাকার কোন রশিদ বা টোকেন দেওয়া হয় না কোনো ভাটা মালিককে।
বিশাল অংকের অবৈধ ভাবে উত্তোলিত এই টাকা একাই আত্মসাৎ করে আসছিলেন চেয়ারম্যান ওমর ফারুক।
জেলা পরিষদের লিজের নাম দেখিয়ে ২৮ ইটভাটার প্রতিটি থেকে টাকা আদায় করে প্রতি সিজনে ২-৩ লাখ করে।
বেশ কয়েকজন ভাটা মালিক বলেছেন- জেলা পরিষদের ওয়ার্ক কার্ড না থাকা সত্ত্বেও এই টাকা ভাটা মালিকদের কাছ থেকে একপ্রকার জোরপূর্বক আদায় করা হতো।
ফাইতং ইউনিয়ন পরিষদের বেশ কয়েকজন ইউপি সদস্য জানান- (ভিজিডি) কার্ড হোল্ডার ৩০০ জনের ২ বছরে জমাকৃত ১৪ লাখ টাকার মতো একাই হজম করেছে ওমর ফারুক। এছাড়া মুজিব শতবর্ষ ঘর তৈরির সময় প্রতিটি ঘর থেকে ২৫-৩০ হাজার করে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে।
পরিষদের এক নারী ইউপি সদস্য জানান- পরিষদ চলাকালীন সময়ে চলে ভাষার বৈষম্য আচরণ, ১২ জন ইউপি সদস্যদের মধ্যে ৩ জন রয়েছে উপজাতি সদস্য, চেয়ারম্যান ওমর ফারুক আগে উপজাতি ধর্মে ছিলেন বর্তমান সে মুসলিম ধর্ম পালন করেন। তারপরও সে তার পরিষদের কক্ষে উপজাতি ইউপি সদস্যদের সাথে মারনা ভাষায় কথা বলেন যার কারণে অন্যান্য মুসলিম ইউপি সদস্যরা বিভ্রান্তকর পরিস্থিতিতে পড়েন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুরের নামে প্রভাব বিস্তার করে গড়েছে নামে বেনামে সম্পদের পাহাড়।
অভিযোগের বিষয়ে ফাইতং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক বলেন,আমি ৯১ সাল থেকে ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট চাকরি করতাম বিষয়টি সত্যি। নানা জটিলতায় সেখান থেকে আমি চাকরি ছেড়ে দেই।তারপর আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়ে পরবর্তীতে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হই। তিনি তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ কে ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে আরো বলেন আমার বিরুদ্ধে একটি শ্রেণি পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করছে। তারা চট্টগ্রাম থেকে লোকজন ভাড়া করে নিয়ে এসে আমার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করিয়েছে।
এই বিষয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ভারপ্রাপ্ত) রূপায়ণ দেব এই প্রতিবেদক কে জানান,আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি তাই তার বিষয়ে খুব বেশি কিছু আমার জানা নেই তবে আমি দায়িত্ব নেওয়ার পূর্বে দায়িত্ব পালন করা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছিল বলে শুনেছি এবং মানববন্ধনের কথাও কানে এসেছে।
এই বিষয়ে বান্দরবানে নব নিযুক্ত জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিমি’র সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করাই বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এই বিষয়ে স্হানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সালাউদ্দিন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
You must be logged in to post a comment.
আপনার মতামত দিন