চট্টলার কণ্ঠ ডেস্ক: পরিবেশবান্ধব সমাজ গঠনের লক্ষ্যে পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন ব্রিজ এলাকায় আজ মংগলবার ১৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছে “এন্টি-প্লাস্টিক ক্যাম্পেইন”।

একশনএইড বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় এবং ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরামের বাস্তবায়নে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশ নেন ইয়ুথ গ্রুপ ও শিশু ফোরামের প্রায় ৪০ জন সদস্য। কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি শাহাজাদা মোহাম্মদ শামসুজ্জামান, বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের পাবলিসিটি অফিসার ইয়াকুব আলী, ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরামের প্রোগ্রাম অফিসার পিকুল দাশ জয়, একশনএইড-এর ইন্সপিরেটর নিধী চাকমা এবং ইয়ুথ পেয়ার গ্রুপের ফ্যাসিলিটেটর আব্দুল তারেক।

সকাল ১০টায় শুরু হওয়া ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণকারীরা দলভিত্তিকভাবে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন রাস্তা ও আশপাশ থেকে পলিথিন ও প্লাস্টিক সংগ্রহ করেন। পরে তা রিসাইক্লিংয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এসময় স্থানীয়দের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ এবং প্ল্যাকার্ড হাতে মানববন্ধনের মাধ্যমে সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরামের প্রোগ্রাম অফিসার পিকুল দাশ জয় বলেন,
“পলিথিন শুধু মাটিকেই নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীববৈচিত্র্যকেও ধ্বংস করছে। পরিবেশ রক্ষায় এখনই একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বর্জন করতে হবে।”
চট্টগ্রাম ইয়ুথ হাব সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত যুবদের পক্ষ থেকে বলেন,
“যদি আমরা তরুণ প্রজন্ম এখনই প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধে সচেতন না হই, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পৃথিবী আর নিরাপদ থাকবে না। আমাদের ছোট পদক্ষেপই বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।”
অতিথি পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি শাহাজাদা মোহাম্মদ শামসুজ্জামান বলেন,
“পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক আমাদের পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। এ থেকে মুক্তি পেতে আমাদের সকলকে পরিবেশবান্ধব বিকল্প পণ্যের দিকে যেতে হবে।”
তিনি জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে শিগগিরই ‘প্লাস্টিকমুক্ত বাজার’ ঘোষণা সংবলিত বিলবোর্ড স্থাপন করা হবে।
বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের পাবলিসিটি অফিসার ইয়াকুব আলী বলেন,
“প্রকৃতি বাঁচাতে হলে প্লাস্টিকের ব্যবহার হ্রাস করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। টেকসই উন্নয়নের জন্য আমাদের সবাইকে পরিবেশবান্ধব অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। যুবদের অনুরোধে আমাদের ইনস্টিটিউট থেকে বিনামূল্যে গাছ দেওয়া হয়, চাইলে তারাও গাছের চারা নিতে পারবে।”
সমাপনী বক্তব্যে একশনএইড বাংলাদেশ-এর ইন্সপিরেটর নিধী চাকমা বলেন, “তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণই প্রকৃত পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি। তাদের এ উদ্যোগ শুধু পরিবেশ রক্ষায় অবদান রাখবে না, বরং সমাজে ইতিবাচক অনুপ্রেরণার জন্ম দেবে।
You must be logged in to post a comment.
আপনার মতামত দিন