ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে এক বিশেষ সাক্ষাতে মিলিত হয়ে নিজের নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদকটি তাকে উপহার হিসেবে প্রদান করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে মাচাদো ভেনেজুয়েলার জনগণের জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক দিন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ট্রাম্পের সঙ্গে তার এটিই প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ। মাচাদো যখন গত বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন, তখন ট্রাম্প এই সম্মাননা না পাওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। উপহার পাওয়ার পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে একে ‘পারস্পরিক শ্রদ্ধার চমৎকার নিদর্শন’ বলে উল্লেখ করেছেন। বিবিসি ও এপি’র প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
হোয়াইট হাউস থেকে বেরিয়ে মাচাদো গেটের বাইরে অপেক্ষারত সমর্থকদের উদ্দেশে জানান যে, ভেনেজুয়েলাবাসী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর ভরসা রাখতে পারেন। মাচাদো ওয়াশিংটন সফরে মার্কিন সিনেটরদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। তার এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য ছিল ট্রাম্পকে এটি বোঝানো, বর্তমানে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন নেত্রী দেলসি রদ্রিগেজের বদলে তার নেতৃত্বাধীন জোটই দেশটির শাসনভার পাওয়ার প্রকৃত দাবিদার।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে মাচাদো নিজেকে জয়ী দাবি করলেও মার্কিন বাহিনী প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপসারিত করার পর ট্রাম্প মাচাদোকে সরাসরি সমর্থন না দিয়ে রদ্রিগেজের সঙ্গে কাজ শুরু করেন।
তবে এই পদক হস্তান্তরের বিষয়টি নিয়ে আইনি ও কাঠামোগত প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গত সপ্তাহে মাচাদো যখন এই পদক ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন, তখন নোবেল কমিটি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল যে এই পুরস্কার হস্তান্তরযোগ্য নয়।
নোবেল পিস সেন্টার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, একবার পুরস্কার ঘোষণা করা হলে তা বাতিল বা অন্যের কাছে হস্তান্তর করা যায় না। একটি পদকের মালিকানা বদলাতে পারে, কিন্তু ‘নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী’ উপাধিটি অপরিবর্তিত থাকে। কমিটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে যে, এই সম্মাননা চিরস্থায়ী এবং হস্তান্তরযোগ্য নয়।
এছাড়া ভেনেজুয়েলার তেল বহনকারী সন্দেহভাজন ষষ্ঠ ট্যাংকারটির নিয়ন্ত্রণও গতকাল নিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এর আগে বুধবার ট্রাম্প ও রদ্রিগেজ ফোনে কথা বলেন, যেখানে ট্রাম্প রদ্রিগেজের ভূয়সী প্রশংসা করেন। মাচাদোর এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান পরিবর্তন করে নিজের রাজনৈতিক জোটের পক্ষে জনসমর্থন জোরালো করা।
সূত্র: বিবিসি
You must be logged in to post a comment.
আপনার মতামত দিন