সুজন ভট্টাচার্য্য সূর্য্য,বিশেষ প্রতিনিধিঃ ইট পাথরের নগরায়নে অসহনীয় শব্দ দূষণও প্রচন্ড কোলাহল থেকে নিজেকে কিছু টা পরিত্রাণ দেওয়ার জন্য ঘুরে আসতে পারেন বান্দরবানের লামা উপজেলার মিরিঞ্জা ভ্যালি পর্যটন কেন্দ্র থেকে।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৬০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এই পর্যটন কেন্দ্রটি গড়ে তোলা হয়েছে সম্পূর্ণ ইকো ফ্রেন্ডলি। এখানকার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো পাহাড় আর মেঘের লুকোচুরি উপভোগ করা। অবারিত সবুজ প্রান্তর যেখানে মিশে যায় মেঘের ভেলায়।
প্রকৃতির কোনো রকম ক্ষয়ক্ষতি যাতে না হয় সেই জন্য এখানে ইট পাথরের জঞ্জালের পরিবর্তে নির্মাণ করা হয়েছে কাঠ ও বাঁশের তৈরি মাচাং ঘর। সেই বিবেচনায় নিঃসন্দেহে এটি দেশের যেকোনো পর্যটন কেন্দ্র থেকে বেশ আলাদা ও আকর্ষণীয়।
দৃষ্টিনন্দন ও মনোলোভা মিরিঞ্জা ভ্যালি তে গেলে মনে হয় মেঘের সাথে পাহাড়ের যেন আজন্ম বন্ধুত্ব। প্রকৃতি এই এলাকাটিকে সাজিয়েছে আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে। এখানে ইচ্ছে করলেই ছোঁয়া যায় মেঘ। আকাশকেও মনে হয় বেশ কাছে। রাতে শহরের আলো যেন সৌন্দর্যকে আরো বৈচিত্র্যময় করে তোলে।
বান্দরবান শহর থেকে ৮৬ কিলোমিটার ও কক্সবাজার চকরিয়া উপজেলা হতে ২৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। লামা উপজেলা শহর থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে চকরিয়া-লামা সড়কের পাশে এই মিরিঞ্জা ভ্যালি পর্যটন কেন্দ্রের অবস্থান।
মিরিঞ্জা ভ্যালি পর্যটন কেন্দ্র থেকে দেখা যায়, পাহাড় ও মেঘের মিতালী। এখানে পাহাড়িদের ঘরের আদলে তৈরি করা হয়েছে ২টি মাচাং ঘর। আরো একটি চলমান রয়েছে। এছাড়া পর্যটকদের জন্য রয়েছে ছোট একটি দোকান। পাহাড়ের মেঘের মিতালী দেখতে পর্যটকদের আগমনের যেন শেষ নেই। পরিবেশ বান্ধব এই রিসোর্টে রাত্রীযাপন করতে দূর দুরান্ত থেকে ছুটে আসছেন অনেক পর্যটক। পর্যটন কেন্দ্রটির কাছেই রয়েছে উপজেলা শহর। সেখানে বসবাসরত ম্রো, মারমা, ত্রিপুরাসহ ১১টি ভাষাভাষীর জনগোষ্ঠীর কৃষ্টি, সংস্কৃতি দেখার সুযোগও পাওয়া যায়।
মিরিঞ্জা ভ্যালি পর্যটন কেন্দ্রটি ২ একর পাহাড় জুড়ে বিস্তৃত। পর্যটকদের সুবিধার জন্য মাচাং ঘর এর পাশাপাশি এখানে রাখা হয়েছে খোলা আকাশের নীচে বেশ কিছু তাবু ঘর। এছাড়াও পর্যটকদের জন্য বিশেষ সুবিধা হিসেবে রয়েছে রাতে চিকেন ফ্রাই, বিরিয়ানিসহ নানা পদের খাবারের ব্যবস্হা। পর্যটন কেন্দ্রের চারিপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও বেশ জোরদার।
রাজশাহী ও ঢাকা থেকে ভ্রমণে আসা পর্যটক সজীব,রাসেল ও সেতারা পারবিন জুঁই এর সাথে মিরিঞ্জা ভ্যালি তে এসে তাদের অনুভূতির কথা জানতে চাইলে তারা বলেন, এখানে এসে একটা স্বর্গীয় সুখ অনুভব করছি, ভোর হতেই চারিদিকে কুয়াশা, সাদা শুভ্রতার আড়ালে যেনো উঁকি দিচ্ছি কিছু টা সবুজ। মনে হচ্ছে মানসিক প্রশান্তি তে অবগাহন করছি এক স্বপ্নের ভেলায়।
‘মিরিঞ্জা ভ্যালি’ পর্যটন কেন্দ্রের উদ্দোক্তা মোহাম্মদ জিয়া বলেন, ২০২১ সালে পাহাড়টিতে পরিবেশ বান্ধব একটা পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে স্বপ্ন দেখেছিলাম অবশেষে ২০২২ সালে এসে সেটি বাস্তবায়িত করতে পেরে ভালো লাগছে। বর্তমানে এই ভ্যালি তে প্রতিদিন পর্যটকরা বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসছেন। আবার অনেকেই মুঠোফোনে বুকিং দিচ্ছেন।
প্রকৃতির এই অপরুপ সৌন্দর্য্য আপনাদের হাতহাছি দিয়ে ডাকছে।কর্মব্যস্ততায় কিছুটা কর্মবিরতি দিয়ে জীবন টা কে উপভোগ করার জন্য অল্প সময় নিয়ে বিশুদ্ধ অক্সিজেন, পাহাড়ের আহবানে অফুরন্ত আত্মজীবনী শক্তি সঞ্চয় করে নতুন উদ্যোমে পথ চলার শুরু টা হতে পারে মিরিঞ্জা ভ্যালি থেকে।
You must be logged in to post a comment.
আপনার মতামত দিন