চট্টলার কণ্ঠ ডেস্ক: বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছিল মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে। কিন্তু এই প্রতিবাদ দ্রুতই গভীর রাজনৈতিক অসন্তোষের রূপ নেয়। তরুণ প্রজন্ম, যারা নিজেদেরকে ‘জেন জি’ বলে পরিচয় দেয়, তারা এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছিল। তাদের অভিযোগ, এই প্রতিবাদকে ‘সুযোগসন্ধানীরা’ নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে সহিংসতায় রূপ দিয়েছে।
তারা বলছেন তাদের আন্দোলন ‘হাইজ্যাক’ হয়ে গেছে।
আন্দোলনকারীরা বিবিসিকে জানান, তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ। কিন্তু গত কয়েক দিনে সরকারি ভবন, রাজনীতিবিদদের বাড়ি এবং এমনকি সংসদ ভবনেও অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমাদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ছিল এবং এখনও শান্তিপূর্ণ আছে।
আমরা সহিংসতা বা ভাঙচুর সমর্থন করি না।
সেনাবাহিনী ও সরকারের পদক্ষেপ
সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর নেপালের প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু দেশটিতে এখন পর্যন্ত কোনো নতুন নেতৃত্ব নেই। এই শূন্যতার মাঝে পরিস্থিতি সামাল দিতে সেনাবাহিনী রাস্তায় নেমেছে।তারা সহিংসতার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৭ জনকে গ্রেফতার করেছে এবং ৩১টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে।
সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজেন্দ্র বসনেট জানান, তারা মূলত সেইসব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করছেন, যারা পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করছে। তিনি বলেন, আমরা জেন জি’র শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে কথা বলতে প্রস্তুত।
সেনাবাহিনী তরুণ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে শান্তি আলোচনা করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। আন্দোলনকারীদের একজন প্রতিনিধি জানিয়েছেন, তারা এখন নতুন দাবি-দাওয়ার তালিকা তৈরি করছেন।এর মধ্যে অন্যতম প্রধান দাবি হলো, নেপালের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে রাজনৈতিক দলের প্রভাবমুক্ত এবং যোগ্যতা ও সততার ভিত্তিতে নির্বাচন করা।
You must be logged in to post a comment.
আপনার মতামত দিন