1. info@chattolarkantho.net : Chattolar kantho : Chattolar Kantho
November 1, 2026, 7:10 am
সংবাদ শিরোনাম: :
এইচএসসি ফল বিপর্যয়: দায় কার—শিক্ষার্থীর, নাকি পুরো শিক্ষাব্যবস্থার? আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উদযাপন ও বিজিএ-এর নবগঠিত কমিটির অভিষেক উপলক্ষে গুণীজন সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ডিসি জাহিদের অনন্য উদ্যোগ; চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার প্লাস্টিক হচ্ছে পুনর্ব্যবহার ব্যাটারিচালিত রিকশা চালাতে মানতে হবে যেসব শর্ত; প্রজ্ঞাপন জারি ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফয়সল বহিঃনোঙ্গরে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা জোরদারে সমন্বয় সভা ​বান্দরবানে অসুস্থ স্বামী ও প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে অনাহারে থাকা অসহায় মায়ের পাশে দাঁড়াল পিসিসিপি বর্ণাঢ্য আয়োজনে ভান্ডারিয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত বিবিএফ জব ফেয়ার অ্যান্ড ক্যারিয়ার এক্সপো ২০২৬ অনুষ্ঠিত প্রাণবন্ত আয়োজনে ভান্ডারিয়ায় যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত ​খেলার মাধ্যমে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের পাশাপাশি এলাকার সুনাম ও সম্প্রীতি বাড়াতে হবে— পার্বত্য মন্ত্রী সাচিংপ্রু জেরী এমপি​​ চট্টগ্রামে এক দিনে এক লাখ গাছ রোপণের প্রস্তুতি ডিসি জাহিদের মা ইলিশ সংরক্ষণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে কোস্ট গার্ড পূর্ব জোন বজ্রপাতে প্রাণ গেল স্কুল দপ্তরি ও মাদ্রাসাছাত্রের ভাণ্ডারিয়ায় সরকারি গাছ কাটা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার পার্বত্যমন্ত্রীর আগমন ঘিরে থানচিতে উৎসবের আমেজ, বিজিবি’র সংবর্ধনা পাচ্ছেন ২২ নারী ফুটবলার চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘BBF Job Fair & Career Expo 2026’ দেশব্যাপী হত্যা, শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও মব সহিংসতার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে মানববন্ধন নিম্নমানের সামগ্রীতে ৩ কিলোমিটার সড়ক, এলজিইডির ভাঙচুরে প্রশ্নের মুখে তদারকি লামা মৌচাক কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লি:এর ৩২তম বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত বারমাসিয়া নন্দী পাড়া “শ্রীশ্রী গীতা ও নৈতিক শিক্ষা নিকেতনের” প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন নাগরিকদের আস্থার জায়গা হতে হবে সরকারি কর্মকর্তাদের: ডিসি জাহিদ ​থানচিতে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ খৈয়াম: ইউএনও ও বিএনপি নেতাকর্মীদের ফুলেল শুভেচ্ছা ভাণ্ডারিয়ায় ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ,থানায় মামলা ৩৮ বিজিবির উদ্যোগে থানচিতে নারী ফুটবল দল কে সংবর্ধনার আয়োজন; উপস্থিত থাকছেন পার্বত্য মন্ত্রী বুদ্ধের অহিংসা বাণীই অস্থির বিশ্বে শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারে : নুরুল আমিন এম.পি সড়ক ও নৌ পথ দুর্ঘটনা এড়াতে রাঙামাটিতে ‘নিরাপদ যাত্রা ফাউন্ডেশন’-এর সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ ও পথসভা সিএমপি’র গোয়েন্দা জালে ইয়াবার বিশাল চালান আটক! কক্সবাজার সৈকতে গোসলে নেমে ৩ পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ ১ ধর্মের শিক্ষা শুধু উৎসবে নয়, প্রতিফলিত হোক কর্মেও: ডিসি জাহিদ

এইচএসসি ফল বিপর্যয়: দায় কার—শিক্ষার্থীর, নাকি পুরো শিক্ষাব্যবস্থার?

চট্টলার কণ্ঠ ডেস্ক:
  • প্রকাশিত সময় : Saturday, October 31, 2026

ড. দিলীপ কুমার সাহা


এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিন লাখো পরিবারে নেমে আসে এক অদ্ভুত নীরবতা। কোথাও মা সন্তানের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে নিশ্চুপ হয়ে যান, কোথাও বাবা হতাশা লুকিয়ে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ান। আবার কোনো শিক্ষার্থী নিজের ফলাফল নিয়ে হতাশায় ভুগতে থাকে। তার মনে প্রশ্ন জাগে—আমি কি সত্যিই এতটা অযোগ্য?


কিন্তু প্রশ্নটি শুধু একজন শিক্ষার্থীর ফলাফল নিয়ে নয়। প্রশ্নটি আমাদের পুরো শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে। একজন শিক্ষার্থী প্রত্যাশিত ফল করতে না পারলে দায় কি শুধু তার নিজের? নাকি এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের শিক্ষাব্যবস্থার নানা দুর্বলতা, অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতা?
২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল সেই প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনেছে। এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী। অথচ ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৬৯ হাজার ৯৭ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ পয়েন্ট এবং জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন। এই পরিসংখ্যান নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক।


এগুলো কেবল কিছু সংখ্যার হিসাব নয়। প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে একজন শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, একটি পরিবারের প্রত্যাশা এবং ভবিষ্যৎ গড়ার দীর্ঘ প্রস্তুতি। তাই প্রশ্ন হওয়া উচিত—কে ফেল করেছে, তার চেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা কোথায় পিছিয়ে পড়ছে?
কেন এমন ফল বিপর্যয়?
শিক্ষাব্যবস্থার সংকট এক দিনে তৈরি হয়নি। এর পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ। দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষায় ভালো ফল করার প্রতিযোগিতা, মুখস্থনির্ভর শিক্ষা, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের দুর্বলতা, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ঘাটতি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জবাবদিহির অভাব—সবকিছু মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।
মুখস্থনির্ভর শিক্ষা ও গাইড বইয়ের প্রভাব: আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় এখনো অনেক ক্ষেত্রে মূল বই বোঝার চেয়ে গাইড বইয়ের উত্তর মুখস্থ করার প্রবণতা বেশি। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় কী আসবে, কোন প্রশ্ন কমন পড়বে—এসবের পেছনে বেশি সময় ব্যয় করে। ফলে কোনো প্রশ্ন একটু ভিন্নভাবে এলে অনেকেই উত্তর দিতে হিমশিম খায়। অথচ শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য শুধু তথ্য মনে রাখা নয়; বরং বিষয়টি বোঝা, বিশ্লেষণ করা এবং বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে শেখা।
করোনাকালীন শিক্ষার ক্ষতি: করোনা মহামারির সময় দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন ব্যাহত হয়েছে। অনলাইননির্ভর শিক্ষা, সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচি এবং শেখার ধারাবাহিকতায় বিঘ্ন অনেক শিক্ষার্থীর ভিত্তিগত দুর্বলতা তৈরি করেছে। সেই ঘাটতি পরবর্তী শ্রেণিগুলোতে যথাযথভাবে পূরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
দিশাহীন পাঠদান ও মূল্যায়নব্যবস্থা: শিক্ষার্থীরা কী শিখবে, কতটুকু শিখবে এবং কীভাবে পরীক্ষায় তার মূল্যায়ন হবে—এসব বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। পাঠ্যক্রম, প্রশ্নের ধরন ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন এলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের যথাযথ প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় পরিবর্তনের চাপ শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ওপরই পড়ে।
মানহীন কলেজ ও শ্রেণিকক্ষের সংকট: দেশের অনেক কলেজে পর্যাপ্ত শিক্ষক, প্রয়োজনীয় ল্যাবরেটরি, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি ও মানসম্মত পাঠদানের পরিবেশ নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। কোথাও শিক্ষকসংকট, কোথাও নিয়মিত ক্লাস না হওয়া, আবার কোথাও প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী কলেজের পরিবর্তে কোচিংনির্ভর হয়ে পড়ছে। অথচ কলেজে ভর্তি ও ফরম পূরণের জন্য তাদের নিয়মিত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মান নিশ্চিত না করে শুধু অনুমোদন দেওয়া হলে তার দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও নিতে হবে।
শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও জবাবদিহির অভাব: সময়ের সঙ্গে শিক্ষাদানের পদ্ধতি বদলেছে। এখন শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল চিন্তা, বিশ্লেষণী ক্ষমতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জন জরুরি। কিন্তু শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ও নিয়মিত মূল্যায়ন নিশ্চিত না হলে মানসম্মত শিক্ষা প্রত্যাশা করা কঠিন।
প্রযুক্তির অপব্যবহার ও মনোযোগের ঘাটতি: মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, রিলস ও অনলাইন গেমের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি অনেক শিক্ষার্থীর পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে সাজেশননির্ভর প্রস্তুতি ও শর্টকাটে ভালো ফল করার প্রবণতাও শিক্ষার্থীদের গভীরভাবে শেখার আগ্রহ কমিয়ে দিচ্ছে। প্রযুক্তিকে জ্ঞানের সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করতে শেখানো এখন সময়ের দাবি।
অভিভাবকের প্রত্যাশা ও পারিবারিক চাপ: অনেক পরিবারে সন্তানের ভালো ফল বলতে শুধু জিপিএ-৫ বোঝানো হয়। সন্তান কী শিখছে, কোথায় দুর্বলতা রয়েছে কিংবা তার মানসিক প্রস্তুতি কেমন—এসব বিষয় অনেক সময় গুরুত্ব পায় না। আবার কোনো কোনো পরিবারে শিক্ষার্থীর পড়াশোনার প্রতি পর্যাপ্ত নজরদারিও থাকে না। প্রত্যাশা ও বাস্তবতার এই ব্যবধান শিক্ষার্থীর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।
ফলাফল বিপর্যয়ের দায় কার?
এইচএসসির ফল বিপর্যয়ের দায় কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপিয়ে দিলে প্রকৃত সমস্যার সমাধান হবে না। এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে নীতিনির্ধারক, শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীর নিজস্ব দায়িত্ব।
তবে নীতিনির্ধারকদের দায় সবচেয়ে বেশি, কারণ একটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামো, পাঠ্যক্রম, শিক্ষক নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, প্রতিষ্ঠান অনুমোদন ও মূল্যায়ন পদ্ধতি নির্ধারণের দায়িত্ব তাঁদের। মানহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদন, অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া এবং শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কর্তৃপক্ষকেও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। শিক্ষকদের নিয়মিত ক্লাস নেওয়া, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি পাঠদানের ব্যবস্থা করা জরুরি।
অভিভাবকদেরও বুঝতে হবে, সন্তান কোনো ফলাফল তৈরির যন্ত্র নয়। আর শিক্ষার্থীদেরও নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। নিয়মিত পড়াশোনা, সময়ের সঠিক ব্যবহার এবং মূল পাঠ্যবই ভালোভাবে আয়ত্ত করার বিকল্প নেই।
এখন করণীয় কী?
এই ফলাফলকে শুধু ব্যর্থতার তালিকা হিসেবে দেখলে চলবে না। বরং এটিকে শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা চিহ্নিত করার একটি সুযোগ হিসেবে নিতে হবে।
প্রথমত, শিক্ষার্থীদের জন্য: গাইড বই ও সাজেশননির্ভরতা কমিয়ে মূল পাঠ্যবই বুঝে পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। নিয়মিত লিখিত অনুশীলন, সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর তৈরি এবং বিষয়ভিত্তিক দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করতে হবে। মোবাইল ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে এবং পড়াশোনার জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, অভিভাবকদের জন্য: সন্তানকে শুধু ভালো ফলের জন্য চাপ না দিয়ে তার শেখার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। পরীক্ষায় প্রত্যাশিত ফল না এলে বকাঝকা বা অন্যের সন্তানের সঙ্গে তুলনা না করে তার পাশে দাঁড়াতে হবে। সন্তানের শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে।
তৃতীয়ত, শিক্ষক ও কলেজ কর্তৃপক্ষের জন্য: শ্রেণিকক্ষের পাঠদানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। নিয়মিত ক্লাস, বিষয়ভিত্তিক মূল্যায়ন, মাসিক মডেল টেস্ট এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে অতিরিক্ত ক্লাস চালু করা প্রয়োজন। শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পাঠদানের দক্ষতা বাড়াতে হবে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও শ্রেণিকক্ষের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণেও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
চতুর্থত, নীতিনির্ধারকদের জন্য: মানহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। কলেজের অনুমোদন ও এমপিও সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে শিক্ষার মান, শিক্ষকসংখ্যা, অবকাঠামো ও ফলাফলের ধারাবাহিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষকদের বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ, আধুনিক ল্যাবরেটরি ও লাইব্রেরি স্থাপন এবং শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি পূরণে বিশেষ কর্মসূচি চালু করা জরুরি। নবম শ্রেণি থেকেই ভিত্তিগত শিক্ষার দুর্বলতা চিহ্নিত করে লার্নিং রিকভারি কর্মসূচি চালু করা যেতে পারে।
শিক্ষার্থীদের মনে সাহস ফিরিয়ে দিতে হবে:
প্রিয় শিক্ষার্থী, মনে রেখো—একটি পরীক্ষার ফলাফল তোমার পুরো জীবনের যোগ্যতা নির্ধারণ করে না। পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া মানেই জীবন থেমে যাওয়া নয়। এটি নিজের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নতুনভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার একটি সুযোগ। হতাশ না হয়ে পরিবারের সহযোগিতা ও শিক্ষকদের পরামর্শ নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
প্রিয় অভিভাবক, আপনার সন্তান জিপিএ-৫ পাওয়ার কোনো যন্ত্র নয়; সে একজন মানুষ। তারও স্বপ্ন আছে, সীমাবদ্ধতা আছে, শেখার নিজস্ব গতি আছে। আজ তাকে দোষারোপ করার চেয়ে সাহস জোগানো বেশি জরুরি।
শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালকদের প্রতি আহ্বান—শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করবেন না, তাদের জীবন ও ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করুন।
আর মাননীয় নীতিনির্ধারকদের প্রতি অনুরোধ—শিক্ষার সাফল্য শুধু পাসের হার কিংবা জিপিএ-৫-এর সংখ্যা দিয়ে পরিমাপ করবেন না। শিক্ষার্থীরা কতটুকু শিখছে, কতটা দক্ষতা অর্জন করছে এবং বাস্তব জীবনে সেই শিক্ষা কতটা কাজে লাগাতে পারছে, সেটিই হোক সাফল্যের প্রকৃত মাপকাঠি।

শিক্ষার্থীদের জন্য পরামর্শ:
এইচএসসি ফল বিপর্যয় আমাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। তবে এই সংকটের দায় শুধু শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দিলে চলবে না। শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিটি স্তরের দুর্বলতা চিহ্নিত করে সম্মিলিতভাবে তা দূর করতে হবে।
মুখস্থনির্ভরতা থেকে জ্ঞাননির্ভরতা, কোচিংনির্ভরতা থেকে শ্রেণিকক্ষকেন্দ্রিক শিক্ষা এবং সনদনির্ভরতা থেকে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষায় ফিরে যেতে হবে।
আজ যে শিক্ষার্থী প্রত্যাশিত ফল করতে পারেনি, তার পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। তাকে বুঝতে দিতে হবে—একটি ফলাফলই জীবনের শেষ কথা নয়।
একটি জিপিএ-৫-এর চেয়ে একজন দক্ষ, চিন্তাশীল, সৃজনশীল ও মানবিক মানুষ দেশের জন্য অনেক বেশি মূল্যবান।
শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু পরীক্ষায় পাস করানো নয়; বরং মানুষ তৈরি করা। আর সেই লক্ষ্য অর্জন করতে পারলেই আজকের এই ফল বিপর্যয় আগামী দিনের শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তনের সূচনা হয়ে উঠবে।

লেখক:ড. দিলীপ কুমার সাহা। প্রাক্তন অধ্যক্ষ, সরকারি ভিকু মেমোরিয়াল কলেজ। মানিকগঞ্জ।

পোস্টটি শেয়ার করুন:

আপনার মতামত দিন

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য সংবাদ

সম্পাদকীয় কার্যালয়: ৩২১ দিদার মার্কেট( চতুর্থ তলা) নবাব সিরাজউদদৌলা রোড, কোতোয়ালি, চট্টগ্রাম। যোগাযোগ: +৮৮০১৭১৭-৯৯১৩৯৮। ইমেইল: weeklychattolarkantho.com@gmail.com