সুজন ভট্টাচার্য্য,বিশেষ প্রতিনিধিঃ ঘরে এক মুঠো চাল নেই, স্বামী বিছানায় ধুঁকছেন, আর প্রতিবন্ধী ছেলের মুখের দিকে তাকালে বুক ফেটে কান্না আসে—মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও আজ পর। চরম ক্ষুধা, দারিদ্র্য আর অনিশ্চয়তায় জর্জরিত বান্দরবানের এক অসহায় পরিবারের নীরব কান্নার এমন মর্মান্তিক চিত্র সম্প্রতি আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অবশেষে দুর্গত এই পরিবারের স্থায়ী উপার্জনের ব্যবস্থা করতে পাশে এসে দাঁড়িয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) বান্দরবান জেলা শাখা।
বান্দরবান সদর উপজেলার হাফেজঘোনা এলাকার রুমা স্টেশনের ওপরে বননিবাস হিল রিসোর্ট এলাকায় বসবাসরত লাচিং মারমার তিন সদস্যের পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করে আসছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঘরে নেই বিদ্যুৎ, নেই নিরাপদ পানির ব্যবস্থা। বৃষ্টি নামলেই ভাঙা ঘরের ছাদ দিয়ে পানি পড়ার দুশ্চিন্তায় কাটে তাদের রাত। নেই ভালো কোনো বিছানা, অনেক সময় জোটে না দুবেলা খাবারও।
পরিবারের কর্তা বৃদ্ধ বাবা লাচিং মারমা দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থ। ঠিকমতো হাঁটাচলা করতে না পারলেও অর্থাভাবে করাতে পারছেন না কোনো চিকিৎসাসেবা। অন্যদিকে, তাদের একমাত্র ছেলে রুল হাই মারমা জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী। এই পরিস্থিতিতে বৃদ্ধা মা ধনশৌ মারমা বয়স ও অভাব-অনটনের ভারে পুরোপুরি অসহায় হয়ে পড়েছিলেন।
পরিবারটির এমন মর্মান্তিক পরিস্থিতি বিভিন্ন মাধ্যমে জানাজানি হলে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয় পিসিসিপি বান্দরবান জেলা শাখা। সংগঠনের পক্ষ থেকে অসহায় মা ধনশৌ মারমার মায়ের হাতে ব্যবসা পরিচালনার জন্য মালামাল এবং প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়, যাতে তারা নিজেদের পায়ে দাঁড়িয়ে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারেন।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধু এই পরিবারটিই নয়, ভবিষ্যতে এ ধরনের অসহায় মানুষের পাশে পিসিসিপির মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান ব্যক্তিরা যদি এমন দুর্গত পরিবারগুলোর পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, তবে তাদের আর এমন চরম অসহায়ত্বে দিন কাটাতে হবে না—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় সচেতন মহলের।
You must be logged in to post a comment.
আপনার মতামত দিন