চট্টগ্রামের বিএনপির রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় মরহুম সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পথচলার মধ্য দিয়ে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় তৈরি করা এস এম সফিউল আলম এবার ১১নং সুয়াবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের এই পথচলায় একদিকে যেমন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নেতৃত্বে রাজনীতি করেছেন, তেমনি তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরও রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় থেকে পরবর্তী সময়ে বর্তমান ফটিকছড়ির সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীরের সঙ্গেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রয়েছেন বলে তাঁর রাজনৈতিক সহযাত্রীরা জানান।
সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ২০১৫ সালের ২২ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন এবং চট্টগ্রামের বিভিন্ন সংসদীয় আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সঙ্গে রাজনৈতিক পথচলা
রাজনৈতিক জীবনের একটি দীর্ঘ সময়ে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত থেকে রাজনীতি করেন এস এম সফিউল আলম। স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে দলীয় কর্মসূচি, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক বিভিন্ন কার্যক্রমে তাঁর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে সফিউল আলমের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযাত্রীরা জানান।
সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে সফিউল আলমকে তাঁর ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত রাজনৈতিক সহযাত্রীদের একজন হিসেবে অভিহিত করেন তাঁর অনুসারীরা।
সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুর পরও রাজনীতিতে সক্রিয়
২০১৫ সালে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে সরে যাননি এস এম সফিউল আলম। বরং স্থানীয় বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থেকে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখেন তিনি।
পরবর্তীতে ফটিকছড়ির বিএনপির রাজনীতিতে নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন এবং বর্তমান ফটিকছড়ির সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীরের সঙ্গেও রাজনৈতিকভাবে কাজ করেন বলে তাঁর রাজনৈতিক সহযাত্রীরা জানান।
২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিজয়ী হন এবং ৯ জুলাই সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন।
২০০৩ সালে বিপুল ভোটে ইউপি সদস্য নির্বাচিত
জনপ্রতিনিধি হিসেবে এস এম সফিউল আলমের পথচলা শুরু হয় ২০০৩ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে ইউপি সদস্য নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে।
ইউপি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় তিনি সুয়াবিল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব লাভ করেন। মোট ২৬ মাস ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
এক যুগ ইউপি সদস্যের দায়িত্ব
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের পরও জনপ্রতিনিধিত্বের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখেন সফিউল আলম। ২০০৬ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রায় ১২ বছর ইউপি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দীর্ঘ সময় ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার কারণে স্থানীয় প্রশাসন, নাগরিক সেবা ও সাধারণ মানুষের সমস্যা সম্পর্কে তাঁর রয়েছে বাস্তব অভিজ্ঞতা।
বিএনপির সাংগঠনিক দায়িত্বে সফিউল আলম
জনপ্রতিনিধিত্বের পাশাপাশি বিএনপির রাজনীতিতেও রয়েছে তাঁর দীর্ঘ সম্পৃক্ততা। তিনি সুয়াবিল ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপির কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সময় থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ের স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতেও তিনি সক্রিয় ছিলেন বলে তাঁর রাজনৈতিক সহযাত্রীরা জানান।
জুলাই আন্দোলনে গ্রেপ্তার ও কারাবরণ
রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন সময় প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন এস এম সফিউল আলম। জুলাই আন্দোলনের সময় ১৭ জুলাই তিনি গ্রেপ্তার হন। পরবর্তীতে ৬ আগস্ট তিনি মুক্তি লাভ করেন।
তাঁর অনুসারীদের মতে, রাজনৈতিক জীবনের এই ঘটনাও তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।
বৃহত্তর সুয়াবিলের দাবিতে সক্রিয়
সাম্প্রতিক সময়ে প্রস্তাবিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা-এর সঙ্গে সুয়াবিল ইউনিয়নকে যুক্ত করার প্রস্তাবের বিরোধিতায় স্থানীয়দের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এস এম সফিউল আলম।
সুয়াবিলকে মূল ফটিকছড়ির সঙ্গে রাখার দাবিতে মানববন্ধন, প্রতিবাদ, স্মারকলিপিসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে স্থানীয়দের দাবির পক্ষে অবস্থান নেন তিনি।
এবার চেয়ারম্যান পদে লড়াইয়ের প্রস্তুতি
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, ২০০৩ সালে বিপুল ভোটে ইউপি সদস্য নির্বাচিত হওয়া, ইউপি সদস্য থেকে ২৬ মাস ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন এবং ২০০৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রায় এক যুগ ইউপি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে এবার চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এস এম সফিউল আলম।
তাঁর রাজনৈতিক সহযাত্রীরা মনে করেন, দীর্ঘদিনের জনপ্রতিনিধিত্বের অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
এস এম সফিউল আলমের ভাষ্য, “চেয়ারম্যানের পদ আমার কাছে ক্ষমতা বা মর্যাদার বিষয় নয়; এটি মানুষের সেবা করার দায়িত্ব। দীর্ঘদিন মানুষের পাশে থেকেছি, ভবিষ্যতেও সুয়াবিলের মানুষের পাশে থেকে কাজ করতে চাই।”
সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সঙ্গে রাজনৈতিক পথচলা, তাঁর মৃত্যুর পরও রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা এবং পরবর্তীতে বর্তমান ফটিকছড়ির সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীরের সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা—সব মিলিয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়েই ১১নং সুয়াবিল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে নিজের প্রার্থিতা জানান দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এস এম সফিউল আলম।
You must be logged in to post a comment.
আপনার মতামত দিন