1. info@chattolarkantho.net : Chattolar kantho : Chattolar Kantho
September 13, 2026, 5:08 am
সংবাদ শিরোনাম: :
ডেঙ্গু ঠেকাতে চট্টগ্রামের ২ হাজার মসজিদে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় তিন কমিটি গঠনকে স্বাগত জানিয়ে পিসিএনপির সংবাদ সম্মেলন এজিইএস নির্বাচনে সভাপতি  দেলোয়ার, সাধারণ সম্পাদক  লিটন গোলপাহাড় মহাশ্মশান ও মন্দির পরিচালনা পরিষদের ত্রি-বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নাজিরহাট পৌরসভা শাখার আলোচনা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত বিশ্ব দূরপাল্লা সাঁতারে পদকজয়ী সাঁতারুদের সংবর্ধনা প্রদান বঙ্গোপসাগরে ইঞ্জিন বিকল; ট্রলারসহ ১২ জেলেকে উদ্ধার করেছে নৌবাহিনী বরিশালে দৈনিক সমকাল কার্যালয়ে সাংবাদিকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার ভাণ্ডারিয়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ ৫ ইউনিয়নে প্রশাসক নিয়োগ চট্টগ্রামে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৬৩ বিদেশি নাগরিক আটক বিলুপ্ত হলো র‍্যাব, সংসদে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন বিল পাস নজরুলের মানবিক চেতনা ধারণ করতে হবে: ডিসি জাহিদ ফটিকছড়িতে ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে মাদ্রাসাছাত্র নিহত বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস,২০২৬ : মৃত্যুর পর নয়, মানুষটি বেঁচে থাকতেই আমাদের পাশে দাঁড়াতে হবে মায়ের মৃত্যুতে প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বহদ্দারহাটে ক্যাবের র‍্যালী ও অবস্থান কর্মসূচি সাংবাদিক পরিচয়ে ইয়াবা পাচারকালে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক! তিন সন্তান নিয়ে অটোরিকশার হ্যান্ডেলে ইয়াসমিন, পাশে দাঁড়ালেন ডিসি জাহিদ রোয়াংছড়িতে তামাক চাষ ছাড়তে কৃষকদেরকে বিকল্প ফসল চাষে উদ্বুদ্ধকরণ ভাণ্ডারিয়ায় ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ২ জন গ্রেফতার ফটিকছড়িতে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর মহাযোগী শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী বাবার ২৯৬তম আবির্ভাব দিবস উদযাপিত হবে ৩ কোটি টাকার কাপড়ভর্তি কনটেইনার গায়েব: গ্রেপ্তার ২ জেটি সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ভারত গুরুত্ব দেয় : দীনেশ ত্রিবেদী বিআরটিএর অনুমতি ছাড়া স্লিপার বাস চালানো যাবে না : হাইকোর্ট হাটহাজারীতে সেনাবাহিনীর ফায়ারিং অনুশীলনে দুর্ঘটনা, দুই সেনা নিহত ও এক কর্মকর্তা আহত জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীদেরকে ডিঙিয়ে পদ্মা ব্যারেজের পিডি হাসান মাহমুদ;নিয়োগ ঘিরে নানা জল্পনা! “শহিদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিশ্বস্ত হাতিয়ার থেকে সরোয়ার আলমগীরের সঙ্গে পথচলা—সুয়াবিলের চেয়ারম্যান পদে এস এম সফিউল আলম” রোয়াংছড়িতে অংশগ্রহণকারী মহিলা অভিভাবকদের নিয়ে শিশু সুরক্ষা বিষয়ক সেমিনার এমআরপি বন্ধ করে শতভাগ ই-পাসপোর্টের পথে বাংলাদেশ নবম পে স্কেলে পেনশন বাড়ছে শতভাগ

জাল-জালিয়াতি,নথিপত্র গায়েব,অঢেল সম্পদ ও অর্থ পাচারের অভিযোগ মনিলালের বিরুদ্ধে!

চট্টলার কণ্ঠ ডেস্ক:
  • প্রকাশিত সময় : Sunday, September 6, 2026

শেষ রক্ষা হচ্ছে না অধরা মনি লালের, অঢেল সম্পদ নিয়ে বিপাকে স্বামী-স্ত্রী!

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মনি লাল দাশ প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হন জালিয়াতির মাধ্যমে। চাকরির শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজন ছিল ন্যূনতম দ্বিতীয় শ্রেণীর স্নাতক ডিগ্রি। কিন্তু শিক্ষাগত যোগ্যতায় তৃতীয় শ্রেণী থাকা মনিলাল দাশ জালিয়াতির মাধ্যমে বাগিয়ে নেন উচ্চ পদ। মহাব্যবস্থাপক মণি লাল দাশের বিরুদ্ধে মূলত অবৈধ সম্পদ অর্জন, জাল-জালিয়াতি এবং অর্থ আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।

তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, জাল-জালিয়াতি এবং বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ ও লোপাটের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলমান।

সাবেক ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক মনি লাল দাস ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন।

মনি লালের নিয়োগে জাল-জালিয়াতি

বিপিসি সূত্রে জানা গেছে—মণি লাল দাশের নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ১৯৯৬ সালের ২৪ অক্টোবর দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে সহকারি ম্যানেজার পদের জন্য অভিজ্ঞতাসহ ন্যুনতম দ্বিতীয় শ্রেণিতে স্নাতক পাশ চাওয়া হয়। কিন্তু মণি লাল দাশের স্নাতকের রেজাল্ট তৃতীয় শ্রেণি। এ কারণে বিপিসির ওই বিজ্ঞপ্তি অনুসারে তার আবেদন করার যোগ্যতাই ছিল না।

কিন্তু সেই মণি লাল নিয়োগ পেয়েছেন, আবার সময়ে অসময়ে প্রমোশন পেয়ে মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) পদে ছড়ি ঘুরিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ভারতে টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। তিনি এমন কোন বছর নেই ভারত সফর করেননি। কখনও একাধিক দফায় সফরের রেকর্ড রয়েছে। তদন্ত করা হলের পিকে হালদারের মতো থলের বিড়াল বেরিয়ে আসতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কেবল নিয়োগ জালিয়াতিই নয়, চাকরিজীবনে সততার আড়ালে গড়ে তুলেছেন বিপুল পরিমাণের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ। এমনকি গণমাধ্যমে দুর্নীতির খবর প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও ফাইল গায়েব করে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিপিসির একাধিক কর্মকর্তা জানান, বিপিসির চাকরি থেকে ইতিমধ্যে অবসরে চলে গেছেন মনি লাল, কিন্তু তার অনিয়ম-দুর্নীতির বিচার এখনো হয়নি।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই বিষয়ে নিউজ হওয়ার পর জালিয়াতির তথ্য মুছে ফেলতে ফাইলগুলো গায়েব করে ফেলেছেন মনি লাল দাস। এখন আর এগুলোর হদিস মিলছে না। সংশ্লিষ্ট বিভাগের লোকজনও এমন শঙ্কার কথা জানিয়েছেন।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালের ২৪ অক্টোবর দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী বিপিসির সহকারী ম্যানেজার পদে আবেদনের জন্য ন্যূনতম দ্বিতীয় শ্রেণীর স্নাতক পাস চাওয়া হলেও মনি লাল দাশের ফলাফল ছিল তৃতীয় শ্রেণী।

যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও অজ্ঞাত ক্ষমতার বলে ১৯৯৯ সালে সহকারী ব্যবস্থাপক (এমআইএস) হিসেবে প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেন তিনি।

পরবর্তীতে ধাপে ধাপে পদোন্নতি পেয়ে মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) এবং সর্বশেষ জ্যেষ্ঠ মহাব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) পদে দায়িত্ব পালন করেন।

একই সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি যৌথ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল লিমিডেটের (এসএওসিএল) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবেও বহাল ছিলেন তিনি।

চলতি বছরের ১৩ আগস্ট পিআরএলে যাওয়ার আগে পর্যন্ত এই দীর্ঘ মেয়াদে নানা অনিয়ম ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতির অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

সবচেয়ে গুরুতর দিক উঠে এসেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে। সূত্রটি বলছে, ২০২৩ সালে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে বিপিসির মহাব্যবস্থাপক মনি লাল দাস বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পাওয়ার পর অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

সংস্থাটির অনুসন্ধানে মণি লাল দাশ ও তাঁর স্ত্রী সেপিকা দাশের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে মনি লাল দাশ ও তাঁর স্ত্রী সেপিকা দাশের নামে আড়াই কোটি টাকারও বেশি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, মনি লাল দাশের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ও পারিবারিক ব্যয়সহ মোট ৪ কোটি ১৭ লাখ ২৭ হাজার ২০৭ টাকার সম্পদের বিপরীতে গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া গেছে ৩ কোটি ৪০ লাখ ৯২ হাজার ১৯৩ টাকা। অর্থাৎ, তাঁর ৭৬ লাখ ৩৫ হাজার ১৪ টাকার সম্পদের কোনো গ্রহণযোগ্য উৎস নেই।

অন্যদিকে, পেশায় গৃহিণী হয়েও সেপিকা দাশ ২০১০-১১ করবর্ষ থেকে নিবন্ধিত করদাতা হিসেবে নিজেকে সঞ্চয়পত্র, শেয়ার ব্যবসা, কমিশন ব্যবসা ও মৎস্য চাষী হিসেবে উল্লেখ করে আসছেন।

সেপিকা দাশ। পেশায় গৃহিণী হলেও তাঁর রয়েছে মাছ চাষের ব্যবসা। এর ফাঁকে করেন কমিশন ব্যবসাও। এসব ব্যবসা পরিচালনা করে মাত্র কয়েক বছরেই সম্পদ গড়েন কোটি টাকার। অথচ বাস্তবে মাছ চাষ কিংবা কমিশন ব্যবসার মতো কোন কিছুই নেই সেপিকা দাশের। সরকারি চাকুরিজীবী স্বামী মনি লাল দাশের ‘অবৈধ’ আয়েই কোটিপতি বনেছেন তিনি। স্ত্রী-ই কোটিপতি তা নয়, মনি লাল দাশেরও রয়েছে পৌনে এক কোটি টাকার সম্পদ। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে ওঠে এসেছিল চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য।

তবে অনুসন্ধানে কমিশন ব্যবসা বা মৎস্য চাষের কোনো অস্তিত্ব কিংবা উপযুক্ত নথি দাখিল করতে পারেননি তিনি।

মূলত স্বামীর অবৈধ উপার্জনকে বৈধ করতেই এসব ভুয়া ব্যবসায়িক পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছে বলে তদন্ত সংস্থা স্পষ্ট করেছে।

সেপিকা দাশের ২ কোটি ৪৪ লাখ ৬১ হাজার ৯২৭ টাকার অর্জিত সম্পদের বিপরীতে ১ কোটি ৮৭ লাখ ১৭ হাজার ২৫৫ টাকার আয়ের কোনো বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা ও সহকারী পরিচালক রাজু আহমেদ অনুসন্ধান শেষে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণী দাখিলের সুপারিশ করে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের এক কর্মকর্তা জানান, কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সম্প্রতি বিপিসির এ কর্মকর্তা ও তার স্ত্রীর নামে পাওয়া জ্ঞাত আয় বহির্ভূত এসব সম্পদের তালিকাসহ একটি অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। যেখানে আলোচ্য সম্পদগুলোর জন্য পৃথকভাবে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের নামে সম্পদ বিবরণী দাখিলের সুপারিশ করা হয়।

নিয়োগ নথিপত্র গায়েব এবং অর্থ পাচারের নানা অভিযোগ নিয়ে যোগাযোগ করা হলে তাঁকে পাওয়া যায়নি।

তবে এর আগেও ২০২৪ সালে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও অসংগতির অভিযোগ অস্বীকার করে মনি লাল দাশ চট্টগ্রামের একটি দৈনিককে দাবি করেছিলেন, একটি চক্র তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। ভিত্তিহীন চিঠি দিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে। তিনি সততার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন দাবি করে অতীতে টিউশনি করেও জীবনযাপন করার কথা ওই প্রতিবেদনে বলেছেন।

বিপিসির একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অবসরে যাওয়ার পর মনি লাল দাশের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।

জাতীয় স্বার্থ ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।সূত্র:দৈনিক চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন।

পরবর্তী পর্বে আসছে তার বিরুদ্ধে একটি বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন:

পোস্টটি শেয়ার করুন:

আপনার মতামত দিন

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য সংবাদ

সম্পাদকীয় কার্যালয়: ৩২১ দিদার মার্কেট( চতুর্থ তলা) নবাব সিরাজউদদৌলা রোড, কোতোয়ালি, চট্টগ্রাম। যোগাযোগ: +৮৮০১৭১৭-৯৯১৩৯৮। ইমেইল: weeklychattolarkantho.com@gmail.com