বিশ্ব যখন একের পর এক জলবায়ু বিপর্যয়ের মুখোমুখি, তখন নীরব থাকা আর কোনো বিকল্প নয়। ভয়াবহ বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, তাপদাহ, নদীভাঙন ও লবণাক্ততার মতো সংকট আজ স্পষ্ট করে দিচ্ছে— জলবায়ু পরিবর্তন ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কা নয়; এটি ইতোমধ্যেই আমাদের বর্তমান বাস্তবতা। বিশেষ করে Bangladesh-এর মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো প্রতিনিয়ত এর নির্মম প্রভাব বহন করছে।
সাম্প্রতিক #FossilFreeFuture Global Climate Strike কেবল একটি প্রতীকী কর্মসূচি ছিল না; এটি ছিল বেঁচে থাকার দাবি, ন্যায়বিচারের আহ্বান এবং জবাবদিহিতার আন্দোলন। এটি ছিল এমন এক প্রজন্মের কণ্ঠস্বর, যারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে— পৃথিবী আর অপেক্ষা করতে পারবে না।
জলবায়ু সংকটের সবচেয়ে নির্মম দিক হলো এর বৈষম্য। যারা সবচেয়ে কম দূষণ করেছে, তারাই আজ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। Global South-এর দেশগুলো, উপকূলীয় জনগোষ্ঠী, কৃষক, নারী ও শিশুরা প্রতিনিয়ত climate injustice-এর শিকার হচ্ছে। উন্নত বিশ্বের শিল্পায়ন ও ফসিল ফুয়েল নির্ভরতার ফল ভোগ করছে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী।
বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আজ সংকটের সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে। প্রতি বছর হাজারো পরিবার নদীভাঙনে ঘর হারাচ্ছে, লবণাক্ততায় কৃষিজমি নষ্ট হচ্ছে, আর ঘূর্ণিঝড় ও অতিবৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হচ্ছে জনজীবন। অথচ বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান অত্যন্ত সামান্য। তবুও এই সংকটের সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হচ্ছে আমাদেরকেই।
এই বাস্তবতায় “Fossil-Free Future” এখন আর কেবল একটি স্লোগান নয়; এটি সময়ের দাবি।
সরকার ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখনই ফসিল ফুয়েলের উপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে কার্যকর বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। একইসাথে একটি “Just Transition” নিশ্চিত করতে হবে, যাতে শ্রমজীবী মানুষ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। উন্নত দেশগুলোকেও তাদের প্রতিশ্রুত climate finance বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে উন্নয়নশীল দেশগুলো অভিযোজন ও পুনরুদ্ধারের সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।
এই আন্দোলনে তরুণদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তরুণরা শুধু ভবিষ্যতের নেতা নয়— তারা বর্তমানের কণ্ঠস্বর। চট্টগ্রাম সহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তরুণরা আজ রাস্তায় নেমে প্রমাণ করছে যে সচেতনতা, সংগঠন এবং গণআন্দোলন এখনো পরিবর্তনের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার।
গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক বিশ্বনেতাদের প্রতি একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে— পৃথিবীকে ধ্বংস করে উন্নয়ন সম্ভব নয়, মুনাফার জন্য পরিবেশকে বলি দেওয়া চলবে না, এবং রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তা আর গ্রহণযোগ্য নয়।
আজকের আন্দোলন থেকে উচ্চারিত কণ্ঠস্বর তাই একটাই—
“Our planet is not for profit.
Our future is not negotiable.
And our voices will not be ignored.”
— Abdul Mannan Jihad
You must be logged in to post a comment.
আপনার মতামত দিন