সুজন ভট্টাচার্য্য,বিশেষ প্রতিনিধিঃসীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি আর্তমানবতার সেবা ও ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এরই ধারাবাহিকতায়, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী ও বান্দরবানের সংসদ সদস্য রাজপুত্র সাচিংপ্রু জেরীর থানচি সফরকে কেন্দ্র করে পুরো পাহাড়ি জনপদে এখন উৎসবের আমেজ। মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তাঁর প্রথম থানচি সফর। এই ঐতিহাসিক সফরকে ঘিরে বিজিবি বলীপাড়া ৩৮ ব্যাটালিয়নের উদ্যোগে সম্প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্টে জেলা চ্যাম্পিয়ন থানচির কৃতী ২২ নারী ফুটবলারকে দেওয়া হবে এক বর্ণাঢ্য গণসংবর্ধনা।
আগামীকাল মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মন্ত্রীর আগমন ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান উপলক্ষে উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম এলাকায় চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। বিজিবি ও স্থানীয় আয়োজকদের তত্ত্বাবধানে ব্যানার-ফেস্টুন, রঙিন তোরণ আর নয়নকাড়া আলোকসজ্জায় পুরো এলাকা সাজিয়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষের মাঝেও দেখা গেছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বলীপাড়া ৩৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইয়াসির আরাফাতের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এই গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পার্বত্যমন্ত্রী রাজপুত্র সাচিংপ্রু জেরী চ্যাম্পিয়ন নারী ফুটবলারদের হাতে সম্মাননা স্মারক (ক্রেস্ট) ও উপহারসামগ্রী তুলে দেবেন। গণসংবর্ধনার পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ের পুরস্কারপ্রাপ্ত কণ্ঠশিল্পীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে। বিজিবি পরিচালিত এমন মহতি উদ্যোগ পাহাড়ে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় করবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
উল্লেখ্য, গত ৪ অক্টোবর বান্দরবান জেলা রিজিয়নের আয়োজনে জেলার সাতটি উপজেলার অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় ‘সম্প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্ট’। সেখানে জেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে থানচির দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের এই ২২ নারী ফুটবলার। প্রতিকূল পরিবেশ জয় করে তাঁদের এই ঐতিহাসিক সাফল্য পুরো বান্দরবান জেলাজুড়ে ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসিত হয়।
এদিকে পাহাড়ে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘মহা ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে’ (পবিত্র প্রবারণা পূর্ণিমা) উদযাপনের ব্যস্ততার মধ্যেও মন্ত্রীর আগমন ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সফল করতে মুখর হয়ে উঠেছে থানচি। গত রবিবার থেকেই উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামে মঞ্চ নির্মাণ ও সাজসজ্জার কাজ শেষ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মংশৈম্রাই মারমা বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো থানচি সফরকে ঘিরে নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। আমরা সফরটি সফল করতে সার্বিক প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের প্রত্যাশা, মন্ত্রীর এই সফরের মাধ্যমে থানচির অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের জীবনমান বৃদ্ধি এবং স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হবে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী প্রান্তিক নারী ফুটবলারদের এই স্বীকৃতি নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলায় আরও বেশি অনুপ্রাণিত করবে।”
You must be logged in to post a comment.
আপনার মতামত দিন