পরবর্তী পর্বে সিন্ডিকেটের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে!
সিলেট বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়ক প্রশস্তকরণ ও সংস্কারকাজের সুবিধার্থে গাছ কাটার নিলামে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এপ্রিল ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কসহ বিভিন্ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও সংস্কারকাজের সুবিধার্থে প্রায় ৬,৪০৯টি গাছ ‘পানির দরে’ বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে কর্মকর্তাদের আঁতাতের মাধ্যমে সরকারের বড় ধরণের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে।১৫টি লটের মাধ্যমে ৬,৪০৯টি গাছ নিলামে বিক্রি করা হয়, যার বেশিরভাগ পেয়েছে টাঙ্গাইলের মেসার্স শিমুল এন্টারপ্রাইজ।
পরিবেশবাদী ও স্থানীয় গাছ ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রায় ৬ হাজার ৪০৯টি গাছের বাজারমূল্য অন্তত ২৫ কোটি টাকা হলেও তা মাত্র ১ কোটি ৯ লাখ ১০ হাজার ৩৭৫ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সামাজিক বনায়ন প্রকল্পের আওতায় ১৯৯৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে মেহগনি, আকাশমণি, জারুল, কড়ই ও রেইনট্রিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছিল। বর্তমানে সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ এবং পাগলা-আউশকান্দি ও সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ সড়ক প্রশস্ত করার জন্য গাছগুলো কাটার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
বন বিভাগ ১৫টি লটে ৬ হাজার ৪০৯টি গাছের দরপত্র আহ্বান করলে টাঙ্গাইলের মেসার্স শিমুল এন্টারপ্রাইজ ১১টি লট এবং মৌলভীবাজারের মোসাইদ আলী নামের এক ব্যক্তি ৪টি লট পান। শিমুল এন্টারপ্রাইজ প্রায় সাড়ে ৫ হাজার গাছের জন্য ৮৯ লাখ ১১ হাজার ৬২৫ টাকা এবং মোসাইদ আলী দেড় হাজার গাছের জন্য ১৯ লাখ ৯৮ হাজার ৭৫০ টাকা জমা দেন।
কাঠ ব্যবসায়ীদের মতে, প্রতিটি পরিপক্ক গাছের বর্তমান বাজারমূল্য ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত হলেও গড়ে প্রতিটি গাছ মাত্র ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।
বান্দরবান বন বিভাগে থাকাকালীনও গাছ পাচার, ইটভাটা থেকে চাঁদাবাজি ও পোস্টিং বাণিজ্যের মত বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া, ২০২৩-২০২৪ সালের দিকে এই কর্মকর্তা বান্দরবান বন বিভাগে দায়িত্বরত ছিলেন এবং তখনো তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। তবে, ২০২৬ সালের মে মাসের সংবাদ অনুযায়ী, তিনি সিলেট বন বিভাগে কাজ করছেন এবং সেখানেও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, বান্দরবান বন বিভাগে থাকাকালীন তিনি রেঞ্জার টিটু সিন্ডিকেটের সাথে মিলে বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও ডিএফও আব্দুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে তার বক্তব্য উপস্থাপন করা যায়নি।
You must be logged in to post a comment.
আপনার মতামত দিন