চট্টলার কণ্ঠ ডেস্ক: লিগ্যাল এইড অফিস অসহায় ও দরিদ্র বিচারপ্রার্থী জনগণের ভরসার বাতিঘর প্রচারণামূলক সভায় এ কথা বলেন জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মুহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল।
“গরিব দুঃখীর মামলার ব্যয়, বাংলাদেশ সরকার দেয়”। লিগ্যাল এইড কার্যালয় সমাজের অসহায়, ন্যায় বিচারের সুফল থেকে বঞ্চিত অসহায় ও হত-দরিদ্র বিচার প্রার্থী নারী, পুরুষ ও শিশুর আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে। তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি আইনি সহায়তা কার্যক্রমের প্রসার কল্পে লিগ্যাল এইড কার্যক্রমের প্রচারের বিকল্প নেই।
উক্ত মহৎ কার্যক্রম বাস্তবায়নে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। ফলশ্রুতিতে অসহায়, দরিদ্র, নির্যাতিত বিচারপ্রার্থী মানুষের ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয় অসহায় ও দরিদ্র বিচারপ্রার্থী জনগণের ভরসার বাতিঘর। জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, চট্টগ্রাম অসহায় ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি শিশুদেরও আইনি সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছে। কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে প্রেরিত শিশুদের আইনি সহায়তার আবেদনে দ্রুত আইনজীবী নিয়োগ প্রদানের মাধ্যমে শিশুদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা হয়।
এছাড়াও শিশুদের যে কোন ধরনের আইনি সহায়তা ও পরামর্শের প্রয়োজন হলে তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা লিগ্যাল এইড অফিস সেবা প্রদান করে যাচ্ছে।
২০ আগস্ট মঙ্গলবার বিকাল ৩.৩০ ঘটিকায় এশিয়ান এসআর হোটেল, স্টেশন রোড, চট্টগ্রামে বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন ব্লাস্ট এর সহযোগিতায় আয়োজিত সরকারি আইনি সহায়তা বিষয়ক প্রচারণামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সিনিয়র সহকারী জজ) জনাব মুহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল।
তিনি আরো বলেন, জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা সমাজের অসহায়, ন্যায় বিচারের সুফল থেকে বঞ্চিত অসহায় ও হত-দরিদ্র বিচার প্রার্থী জনগণের আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে। বিগত ২০২৩ সালে চট্টগ্রামে ১২৭১টি প্রি-কেইস এডিআর এর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। উক্ত সময়ে ৮৫২টি বিরোধ/এডিআর নিষ্পত্তি করা হয়েছে। প্রি-কেইস ও পোস্ট-কেইস বিরোধ মিমাংসার মাধ্যমে ১,২০,৫৮,০০০/- টাকা আদায় করে ক্ষতিগ্রন্থ পক্ষকে প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও এডিআর কার্যক্রমের আওতায় উক্ত সময়ে ৪৫ জন নারী ও ৫০ জন পুরুষ এবং ৯৫ উপকারভোগী হয়েছেন। বিগত ২০২৩খ্রিঃ সালে ১৬০৬ জন অসহায় বিচার প্রার্থীর আবেদনের প্রেক্ষিতে আইনি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। উক্ত সময়ে লিগ্যাল এইডের সহায়তায় পরিচালতি ৪৩৩টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। চলতি বছরেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অসহায় বিচার প্রার্থী জনগণের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে জেলা কমিটি সক্ষম হয়েছে। সরকারি খরচে অসহায় ও দরিদ্র বিচারপ্রার্থী জনগণের মামলা পরিচালনার জন্য জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি চট্টগ্রামের ৮৭জনের একটি আইনজীবী প্যানেল রয়েছে। যা খুবই শীঘ্রই ১২০জনে উন্নীত করা হচ্ছে।
বিজ্ঞ প্যানেল আইনজীবীগণ চট্টগ্রামের আদালত সমূহে অসহায় দরিদ্র বিচারপ্রার্থীর মামলা সমূহ অক্ত আরিকতার সহিত পরিচালনা করেন। দেশের বিচার অঙ্গনের জন্য নজীর বিহীন ব্যাপার। এছাড়াও আপসে বিরোধ মিমাংসার মাধ্যমে প্রায় দুইশত অসহায় দরিদ্র নির্যাতিতা নারীকে স্বামী সংসারে ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছি। যেগুলোর মধ্যে যৌতুক দাবী, ভরণপোষণ এবং পারিবারিক সহিংসতা সংক্রঞ্জ বিরোধগুলো উল্লেখযোগ্য। তৃণমূল পর্যায়ে লিগ্যাল এইড কার্যক্রম পৌঁছে দেওয়ার প্রয়াসে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি আইনি সহায়তা কার্যক্রমের প্রসার কল্পে সরকার তথা জাতীয় সংস্থা আন্তরিক ভাবে কাজ করছে। সরকারের মহৎ উদ্যোগ বাস্তবায়নে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। ফলশ্রুতিতে অসহায়, দরিদ্র, নির্যাতিত বিচারপ্রার্থী মানুষের ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ব্লাস্ট এর উপদেষ্ট এডভোকেট রেজাউল করিম চৌধুরী। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তর এর উপ-পরিচালক, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এর উপ-পরিচালক এবং জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর চট্টগ্রাম প্রতিনিধি, বিবিএফ প্রতিনিধিসহ জেলার সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতষ্ঠিানের প্রতিনিধিবৃন্দ।
You must be logged in to post a comment.
আপনার মতামত দিন