সজল চক্রবর্তী ।লঘুচাপজনিত টানা চার দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উপজেলার প্রধান নদী ও খালগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল পর্যন্ত বিপদসীমায় পৌঁছে যায়। ফলে তীরবর্তী ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হালদা নদী, ধুরুং খাল, সর্তা খাল, ফটিকছড়ি খালসহ বিভিন্ন শাখা নদী ও পাহাড়ি ছড়ার পানির উচ্চতা দিনভর বাড়তে থাকে। সন্ধ্যার পরও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় এবং উজান থেকে ঢল নামতে থাকায় নদী-খালের পানি আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে উপজেলার বিভিন্ন নিচু এলাকা, শত শত একর ফসলি জমি ও বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে নদী ও খালসংলগ্ন ভাঙনপ্রবণ এলাকা। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় নদী-খালের বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করতে পারে।
এদিকে, ফটিকছড়ি সদর বিবিরহাট বাজারের পশ্চিম পাশে ধুরুং খালের বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বাঁধটি ভেঙে গেলে পুরো বিবিরহাট বাজার প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরিস্থিতি সম্পর্কে ইউএনও সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, আমরা বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বলা হচ্ছে। রাতে যদি ক্রমাগত বৃষ্টি হতে থাকে, তাহলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বাগান বাজার থেকে সোয়াবিন পর্যন্ত ছয়টি ইউনিয়ন এবং পাইন্দং ও সুন্দরপুরের বেশ কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতার পরিমাণ বেশি। দুর্গত মানুষের জন্য জরুরি ত্রাণের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলোর ওপর বাড়তি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে, যাতে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
You must be logged in to post a comment.
আপনার মতামত দিন