মাকনুর আকতার:রাজধানীসহ সমগ্র দেশজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, সরকার এবং প্রশাসন কার্যত এ বিষয়ে নির্বিকার। দেশজুড়ে সাধারণ জনগণ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে চট্টগ্রামের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৫ থেকে ১৫ টাকা। শীতকালীন সবজি সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকা সত্ত্বেও সবজির দাম ক্রমশ বাড়ছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং সরবরাহ চেইনের দুর্বলতার কারণে এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে।
কৃষি উৎপাদনে বাধা ও চাঁদাবাজির প্রভাব
চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকার গার্মেন্টসকর্মী লাবনী আক্তার বলেন, “একশ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া যায় না। প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়ে গেছে।”
খুচরা বিক্রেতারা জানান, পাইকারি বাজারেই পণ্যের দাম অত্যন্ত চড়া। রিয়াজউদ্দিন বাজারের ব্যবসায়ীদের দাবি, রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও বাড্ডা বাজার থেকে তারা অতিরিক্ত মূল্যে পণ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। পাইকাররা পরিবহন ব্যয়ের চাপ, চাঁদাবাজি, এবং পণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কার কারণ দেখিয়ে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।
ক্যাব ও বিশেষজ্ঞদের মতামত:
ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া বলেন, “বাজারে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে। সঠিক মনিটরিং ও সরকারের হস্তক্ষেপ ছাড়া এই সমস্যা থেকে মুক্তি সম্ভব নয়।”
অর্থনীতিবিদ ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, “দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে টাস্কফোর্স গঠনের পাশাপাশি একটি প্রাইস কমিশন প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন, যারা প্রতিটি পণ্যের মজুত, আমদানি এবং সরবরাহের বিস্তারিত তথ্য রাখবে। এতে বাজার পরিস্থিতি স্বচ্ছ হবে এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ কমে যাবে।”
সরকারি পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, টাস্কফোর্স নিয়মিত বাজার পরিদর্শন করবে এবং উৎপাদন, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে মূল্য পার্থক্য কমানোর চেষ্টা করবে। তদুপরি, ভর্তুকির মাধ্যমে টিসিবির মাধ্যমে ভোগ্যপণ্য সরবরাহ বৃদ্ধির পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
তবে সাধারণ মানুষ মনে করছে, শুধুমাত্র সরকারি ঘোষণা যথেষ্ট নয়। পরিবহন চাঁদাবাজি বন্ধ, সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য কমানো এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর মনিটরিং নিশ্চিত করতে হবে।
জনজীবনে সংকট ও সমাধানের প্রত্যাশা
একজন ভ্যানচালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সারাদিনের উপার্জনে এখন আর পরিবারের দু’বেলা ভাত জোটে না।” ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয় হয়ে উঠছে।
এই সংকট মোকাবিলায় সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পরিবহন চাঁদাবাজি বন্ধ, বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি, ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিতরণ এবং সিন্ডিকেট ভাঙার মাধ্যমে পরিস্থিতি কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এক্ষেত্রে সরকার, ব্যবসায়ী এবং জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি শুধু একটি অর্থনৈতিক সমস্যা নয়, এটি জনজীবনের ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে। সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ ও বাজারে সুশাসন নিশ্চিত করাই পারে জনগণকে এই সংকট থেকে রক্ষা করতে।
মাকনুর আকতার: সেচ্ছাসেবীকা(কায়ো বাংলাদেশ,ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরাম,একশনএইড বাংলাদেশ)।
You must be logged in to post a comment.
আপনার মতামত দিন