ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগে চীনের সাবেক দুই প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েই ফেংহে ও লি শাংফুকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি সামরিক আদালত। তবে এই দণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে দুই বছরের স্থগিতাদেশ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। স্থগিতাদেশ শেষে শাস্তি আজীবন কারাদণ্ডে রূপ নেবে এবং এরপর আর কোনো সাজা কমানো বা প্যারোলের সুযোগ থাকবে না। বিবিসি
চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি এবং সিনহুয়ার বরাতে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৭ মে) ঘোষিত এই রায়ে দুই সাবেক মন্ত্রীকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। আদালত তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে গুরুতর হিসেবে উল্লেখ করে সর্বোচ্চ শাস্তি ঘোষণা করে।
রায়ের বিস্তারিত অনুযায়ী, ওয়েই ফেংহেকে ঘুষ গ্রহণের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, লি শাংফুর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের পাশাপাশি ঘুষ প্রদানের অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে বলে আদালত জানায়। দুজনই চীনের কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের সাবেক সদস্য এবং স্টেট কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তাদের শুধু মৃত্যুদণ্ডই নয়, বরং আজীবনের জন্য রাজনৈতিক অধিকারও বাতিল করা হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের সব ব্যক্তিগত সম্পদ রাষ্ট্রীয়ভাবে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ওয়েই ফেংহে ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৩ সালের মার্চে তাকে সরিয়ে লি শাংফুকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী করা হয়। তবে লি শাংফুর মেয়াদ ছিল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। দায়িত্ব নেয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে তাকে বরখাস্ত করা হয়। এর আগেই তিনি হঠাৎ করে জনসমক্ষে অনুপস্থিত হয়ে পড়েন, যা নিয়ে তখন থেকেই তার অপসারণ নিয়ে ব্যাপক জল্পনা তৈরি হয়।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে সিনহুয়া জানিয়েছে, লি শাংফুর বিরুদ্ধে তদন্তে ‘বিপুল পরিমাণ অর্থ ঘুষ গ্রহণ’ এবং অন্যদের ঘুষ দেয়ার মতো অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়। একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি তার রাজনৈতিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেননি এবং ব্যক্তিগত সুবিধা অর্জনের চেষ্টা করেছেন।
অন্যদিকে ওয়েই ফেংহের বিরুদ্ধে তদন্তে উঠে আসে, তিনি দায়িত্বে থাকাকালে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সম্পদ ঘুষ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন নিয়োগ ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় অন্যদের অবৈধ সুবিধা পেতে সহায়তা করেছেন বলেও অভিযোগ প্রমাণিত হয়।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সাম্প্রতিক সময়ে সেনাবাহিনীতে চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানকে ‘বিপ্লবী পরিশুদ্ধি’ হিসেবে বর্ণনা করেন। ফেব্রুয়ারিতে দেয়া এক মন্তব্যে তিনি বলেন, সেনাবাহিনী দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের মধ্য দিয়ে পুনর্গঠনের পথে এগোচ্ছে।
You must be logged in to post a comment.
আপনার মতামত দিন