চট্টলার কণ্ঠ ডেস্কঃ সরকারের নেয়া বিভিন্ন কলাকৌশল দিয়েও রেলওয়ের টিকিট কালোবাজারি কোন ভাবেই ঠেকানো যাচ্ছেনা। প্রতিনিয়ত ধরা পড়ছে টিকিট কালোবাজারিরা। তবে বেশীর ভাগই অধরা। অভিযোগ আছে খোদ রেলওয়ের লোকজন টিকিট কালোবাজারিতে জড়িত।যদিও কালোবাজারিতে জড়িত লোকজন ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। দুইএকজন আটক হলেও তাদের সুবিধা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। এমনি টিকিট কালোবাজারির ঘটনা ঘটে সিলেটগামী ‘উদয়ন এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ১৫ টি টিকিট সহ চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে হাতেনাতে এক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে টিকিট সহ ঐ ব্যক্তিকে ধরে বিপাকে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেন রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) জেনারেল শাখার সদস্য অজয় বিশ্বাস। তিনি বলেন, এঘটনায় চীফ কমান্ডেন্টের মৌখিক নির্দেশে তার ডিউটি বন্ধ রাখা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে এক সদস্যের কমিটি করেছে আরএনবি।
জানা গেছে, গত ৩ জুলাই রাত সাড়ে ৮ টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিলেটগামী ‘উদয়ন এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ১৫ টি টিকিট সহ কুমিল্লার শাখাওয়াত হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে স্টেশনের টিকিট কাউন্টারের সামনে থেকে হাতেনাতে ধরেন আরএনবি সদস্য অজয় বিশ্বাস। আটকের পর ঐ ব্যক্তিকে আরএনবি অফিসে নিয়ে আসেন অজয় বিশ্বাস। পরে এসময় জেনারেল শাখার সিআই আমানউল্লাহ উপস্থিত হলে রাত ১১ টার দিকে তাকে মুচলেকা নিয়ে অভিযুক্তকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এদিকে ১৫ টিকিট সহ আটক ব্যক্তির বিষয়ে উর্ধতন কতৃপক্ষকে যথাসময়ে না জানিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে ৪ জুলাই চীফ কমান্ডেন্ট মো.আশাবুল ইসলামের নির্দেশে অজয় বিশ্বাসের ডিউটি পালন সাময়িক বন্ধ রাখা হয়।
অজয়ের অভিযোগ টিকিট সহ হাতেনাতে ধরে বিপাকে পড়েছেন তিনি। সেদিনের সিসিটিভি ফুটেজ দেখলে সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে। আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়ার ইচ্ছে থাকলে অফিসে আনতেননা।
সূত্র জানায়, ঙ্গলবার (৮ জুলাই) বিকেলে সিআরবি চীফ কমান্ডেন্ট দপ্তরে এসে নিজের মতামত দিয়েছেন অজয়। এসময় অজয় কতৃপক্ষকে বলেন, স্টেশন কাউন্টারের সামনে থেকে বিক্রির উদ্দেশ্যে ঘুরাফেরার সময় ঐ ব্যক্তিকে ১৫ টি টিকিট সহ আটকের পর সাড়ে ৮ টার দিকে অফিসে নিয়ে আসি। পরে সিআই আমানউল্লাহ স্যার আসার পর তাকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এদিকে ১৫ টি টিকিট সহ আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা তদন্তে (৮ জুলাই) এক সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে আরএনবি।
এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী পূর্বাঞ্চলের চীফ কমান্ডেন্ট মো. আশাবুল ইসলাম চট্টলার কণ্ঠকে বলেন, ১৫টি টিকিট সহ এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে ধরার পর কেন ছেড়ে দেওয়া হলো তা তদন্তে এক সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিবে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত বলা যাবে।
এঘটনায় আরএনবি সদস্য অজয় বিশ্বাসকে কেন ডিউটি পালন সাময়িক বন্ধ রাখা হয় এই প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে টাকা আদায়ের অভিযোগ ছিল তাই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। টাকা নিয়ে থাকলে তো আটককৃত অভিযুক্তকে সে অফিসে না এনে ছেড়ে দিত এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, তদন্তে দোষী হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে আর নির্দোষ প্রমাণিত হলে কাজে যোগ দিবে।জেনারেল শাখার সিআই আমানউল্লাহ উপস্থিতিতে টিকিটসহ আটক ব্যাক্তিকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে এতে শুধুমাত্র অজয় বিশ্বাসকে কেন শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে এই প্রশ্নটি তিনি এড়িয়ে যান।
You must be logged in to post a comment.
আপনার মতামত দিন