সুজন ভট্টাচার্য্য,বিশেষ প্রতিনিধিঃ বান্দরবান জেলার বৃহত্তম জনবহুল উপজেলা লামায় ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় ২ লাখ মানুষ চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করে থাকে। সে তুলনায় হাসপাতালে ডাক্তার যথেষ্ট অপ্রতুল। সেই সংকট কিছুটা নিরসনে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন ডাঃ শোভন দত্ত। তিনি কর্মস্থলে আসলে একটি মহল তাঁর যোগদানের বিষয় টি কে নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করেন।
তথ্য সুত্রে জানা জানা যায়, জেলার সবচেয়ে জনবহুল উপজেলা লামা ও পার্শ্ববর্তী চকরিয়া উপজেলার বমুবিল ছড়ি ইউনিয়ন ও আলীকদম উপজেলার চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের প্রায় ২ লাখ মানুষ লামা হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করে। এর বিপরীতে হাসপাতালে ডাক্তার রয়েছে মাত্র দুজন।
সাম্প্রতিক সময়ে দুই জন ডাক্তার স্বেচ্ছায় বদলি হয়ে অন্য কর্মস্থলে চলে গেলে দেখা দেয় ডাক্তার সংকট পাশাপাশি রয়েছে জনবল সংকট। ফলশ্রুতিতে এতসংখ্যক মানুষের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম ব্যহত হতে থাকে। সংকট উত্তরণের জন্যে উপজেলা প্রশাসন ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিরা চেষ্টা অব্যাহত রাখে।
এদিকে ক্লিনিক বাণিজ্যের সাথে জড়িত একটি সিন্ডিকেট লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার সংকট অব্যাহত রাখতে চালাচ্ছে বড় ধরণের ষড়যন্ত্র।
জানা যায়,চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাস থেকে এই সিন্ডিকেট ষড়যন্ত্র শুরু করে। এতে প্রথমে পর্যায়ে তারা হাসপাতালের আভ্যন্তরীন বিষয়ে ভিত্তিহীন কিছু কল্পকাহিনী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে থাকে এবং পরবর্তী পর্যায়ে শুরু করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ এখিং মার্মাকে কর্মস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়ার মিশন। এই মিশনারী মাষ্টার প্লানে ডাক্তার সংকট থাকা অবস্থায় গত ৬ মার্চ ডাং এখিং মার্মা লামা থেকে বদলী হয়ে রোয়াংছড়ি চলে যায়। এ ছাড়া মার্চ মাসের প্রথম দিকে আরো দুইজন ডাক্তার নিজ ইচ্ছায় বদলী হয়ে চলে যায়। সর্বশেষ ডাক্তার সংকট কাটাতে সরকার নতুন করে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি থেকে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয় ডাঃ শোভন দত্ত কে।
তিনি লামা হাসপাতালে যোগদান করতে আসলে বিপত্তি ঘটায় ষড়যন্ত্রকারী সিন্ডিকেট ।একের পর এক ঝামেলা শুরু করে হাসপাতালে।ঘটনা বাড়াবাড়ি পর্যায়ে চলে গেলে পুলিশ এসে ৩ জনকে আটক করে। হাসপাতালে নাটকীয়তার শেষ ছিলোনা। চলেছে সরকার বিরোধী ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ। লামার স্থানীয় জনগন ডাক্তার যোগদানের পক্ষে থাকায় পরিশেষে সকল নাটকীয়তা পর ডাঃ শোভন দত্ত তাঁর দায়িত্ব বুঝে পেতে সমর্থ্য হন।
স্থানীয়রা বলছেন দীর্ঘদিন ধরে ক্লিনিক বানিজ্য চালু রাখতে লামা হাসপাতালে কৃত্রিম উপায়ে ডাক্তার সংকট রাখার অপচেষ্টা চালাচ্ছে একটি মহল। নতুন ডাক্তার পেয়ে খুশি সাধারণ মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসার মান আরো উন্নত হবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
You must be logged in to post a comment.
আপনার মতামত দিন