চট্টগ্রাম জেলার রাউজান থানা পুলিশের অভিযানে ৯ জন আন্ত:জেলা ডাকাত দলের সদস্য গ্রেফতারসহ লুণ্ঠিত নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকার ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
গতকাল মঙ্গলবার ১৭ মার্চ রাত ০১:৩০ মিনিটের সময় রাউজান থানা এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামীরা হলেন, হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল থানা এলাকার কবির হোসেন প্রকাশ জীবন প্রকাশ আমির (৪৬),মাধবপুর এলাকার আশিক (৪২), বর্তমানে চট্টগ্রামের চাঁন্দগাও এলাকার বাসিন্দা। একই এলাকার বুদু মিয়া (২২), সিলেটের দক্ষিণ সুরমা এলাকার আলী আহম্মদ ওরফে মনু মিয়া (২৩),ব্রাহ্মণবাড়িয়া থানার বিজয়নগর এলাকার আবুল হোসেন (৩২), হবিগঞ্জের মাধবপুর এলাকার
আবুল কালাম (২২),একই এলাকার মোঃ মিটু (২৮), সিলেটের গোলাপগঞ্জ এলাকার মনোয়ারুজ্জামান ইমন ওরফে শাকিল (২৭), হবিগঞ্জের মাধবপুর এলাকার মোঃ মামুন মিয়া (৩০)।
পলাতক আসামীরা হলেন, হবিগঞ্জের চুনারুঘাট এলাকার ফজর আলী ওরফে বাটন ওরফে ডিপজল ডাকাত (৩১) বর্তমানে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড এলাকার বাসিন্দা এবং হবিগঞ্জের বাহুবল এলাকার আমিন আলী (৩৪)
রাউজান থানা সূত্রে জানা যায়, ১৪/১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতদল পাহাড়তলী ইউনিয়নের দেওয়ানপুর এলাকায় জনৈক বাবুলের দুইতলা বাড়িতে প্রবেশ করে এবং দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে বাড়ির সদস্যদের জিম্মি করে একটি কক্ষে আটকে রেখে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, এমিটেশন গহনা ও মোবাইল ফোনসহ পরিমাণ মালামাল লুট করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
এমন সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে একাধিক টিম গঠন করে বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, প্রযুক্তি ব্যবহার, ঘটনাস্থল বিশ্লেষণ এবং স্থানীয় জনগণের সহায়তায় অল্প সময়ের মধ্যেই আসামীদের শনাক্ত এবং পাহাড়তলী ও বাগোয়ান ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় রাতভর অভিযান করে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযান চলাকালে গ্রেফতারকৃত আসামীদের হেফাজত হতে ১টি লকেটসহ চেইন, ১ জোড়া কানের দুল, ১৩টি হাতের চুড়ি, ৩টি ব্রেসলেট, ১টি হাতঘড়ি, নগদ ৪,৯৮৪ টাকা, ১ টি রেডমি মোবাইল ফোন এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ১টি স্ক্রু ড্রাইভার, ১টি প্লাস, ১টি রেঞ্জসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা পেশাদার ডাকাত চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে।
আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ফজর আলী ওরফে বাটন ওরফে ডিপজল ডাকাত চট্টগ্রামের বিভিন্ন অপরাধীদের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন এবং অন্যান্য আসামীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ডাকাতির পরিকল্পনা করেন।
জানা যায়, ঘটনার দিন সকাল বেলা আসামীরা বাস ও ট্রেনে চট্টগ্রামে পৌঁছায়। সন্ধ্যার সময় আলাদা আলাদা হয়ে পাহাড়তলী এলাকায় অবস্থান নেয়। পাহাড়তলী বাজারে চা-নাস্তা খেয়ে রাত ১১টার দিকে ঘটনাস্থলের আশেপাশের ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে থাকে। রাত ১টার দিকে ফজর আলী অন্যান্য আসামীদের নিয়ে জনৈক আহমদ হোসেন বাবুল এর বাড়ি ইউসুফ মঞ্জিলের কাছে পৌঁছায়। তিনজনকে বাহিরে পাহাড়ায় রেখে অন্যরা সিঁড়ি ঘরের উপরে ফাঁকা জায়গা দিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে। খুব কম সময়ে মোবাইল, স্বর্ণালংকার এবং নগদ টাকা লুট করে বের হয়ে আসে। পুলিশ ও স্থানীয় জনগণের তৎপরতায় ভোরের আগেই ৯ জনকে বিভিন্ন জায়গা থেকে আলামতসহ গ্রেফতার করা হয়।
পলাতক অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতার ও আলামত উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
You must be logged in to post a comment.
আপনার মতামত দিন