
সুজন ভট্টাচার্য্য,বিশেষ প্রতিনিধিঃ বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় বাগান থেকে কলা'রছড়ি চুরির ঘটনাকে কে কেন্দ্র করে জাফর আলম ও তার ভাড়াটিয়া লোকজনের হামলায় ম্রো আদিবাসী সম্প্রদায়ের ৮ জন আহত হয়েছেন।আহতদের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা গুরুতর।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাতে আলীকদম উপজেলার ৩ নম্বর নয়াপাড়া ইউনিয়নের জানালী পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, নয়াপাড়া ইউনিয়নের জানালী পাড়া এলাকার একটি কলা বাগান থেকে কলারছড়ি চুরির সময় নয়াপাড়া এলাকার রোহিঙ্গা বাসিন্দা ডাকাত জাফর আলমকে (৪৫) আটক করেন গ্রামবাসীরা। পরে তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গ্রামবাসীদের ওপর হামলা চালিয়ে ডাকাত জাফর আলমকে ছিনিয়ে নেয়। এ সময় অন্তত ৪ জন গুরুতর আহত হন।
আহতরা হলেন— মেনরু ম্রো (৪০),লাংছিং ম্রো (৩০), ডাংয়া ম্রো (৫২), অমর ত্রিপুরা (৫০), প্রেকিক্য ম্রো (২৭), অংসং ম্রো (৩০), কটঙং ম্রো (৫০)ও ঙানওয়াই ম্রো (২৭)। আহতরা সকলেই আলীকদম উপজেলার নয়াপাড়া ইউনিয়নের জানালী পাড়ার বাসিন্দা।
ডাংয়া ম্রো ও অমর ত্রিপুরাসহ গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেন, জাফর আলম—যিনি এলাকায় ‘বাইট্টা ডাকাত জাফর’ নামে পরিচিত—দীর্ঘদিন ধরে জানালী পাড়ার ম্রোদের কলা, আনারস, হলুদসহ বিভিন্ন বাগানের ফসল ও গৃহপালিত পশু চুরি করে আসছিলেন। এ বিষয়ে নয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিনকে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
গ্রামবাসীরা আরও জানান, একই দিন সন্ধ্যায় থানায় অভিযোগ জানানোর পর বাড়ি ফেরার পথে নয়াপাড়া কবরস্থান এলাকায় ডাকাত জাফর আলমের নেতৃত্বে রোহিঙ্গা ও সেটেলারদের প্রায় ৪০ জনের একটি দল ফের গ্রামবাসীদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় টমটমে থাকা ১৮ জন আহত হন, যাদের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা গুরুতর।
আহত প্রেকিক্য ম্রো ও ঙানওয়াই ম্রো বলেন, সকালে কলা চুরির ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ পাওয়া যায়নি। বরং পুলিশ সন্ধ্যায় আমাদের থানায় যেতে বলে। থানায় গিয়ে ফেরার পথে দ্বিতীয় দফায় আমাদের ওপর আবার হামলা চালানো হয়। তারা এ ঘটনায় দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানান।
এই বিষয়ে নয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন বলেন, জানালী পাড়া এলাকায় কলা চুরির ঘটনা নিয়ে জাফরের নেতৃত্বে ম্রোদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে, হামলায় ৭ জন আহত হয়েছে। গুরুতর আহত ৪ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে প্রেরণ করা হয়েছে। আহতদের পক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নিতে থানা পুলিকে অনুরোধ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আলীকদম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু ছৈয়দ বলেন, এটি সম্পূর্ণ আইনগত বিষয়। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
আলিকদম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন শাহ্ জানান একাধিক মামলার আসামি চোর জাফর আলম জামিনে এসেই ঘটনাটি ঘটিয়েছে। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মামলা করা হবে। আসামিদেরকে ধরার জন্য অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।
সম্পাদক ও প্রকাশক : K. Chy