
মোহাম্মদ জুবাইর, চকরিয়া প্রতিনিধি:নিরাপদ, নিয়মিত ও দক্ষ অভিবাসন ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে স্থানীয় পর্যায়ের অংশীজনদের সচেতনতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কক্সবাজারের চকরিয়ায় নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রত্যাশী কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন Strengthened and Informative Migration Systems (SIMS) প্রকল্পের উদ্যোগে ৯ ও ১০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে চকরিয়া উপজেলায় উপজেলা পর্যায়ে এ ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়। সুইজারল্যান্ড দূতাবাস ও হেলভেটাস বাংলাদেশের সহায়তায় আয়োজিত ওরিয়েন্টেশনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের (ইউডিসি) উদ্যোক্তা, এনজিও প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
প্রত্যাশীর সিমস প্রকল্পের জেলা সমন্বয়কারী জনাবা, রশিদা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওরিয়েন্টেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার।
দিনব্যাপী আয়োজিত এ ওরিয়েন্টেশনে প্রকল্পের পরিচিতি ও কার্যক্রম, অভিবাসন ও শ্রম অভিবাসনের বর্তমান প্রেক্ষাপট, দক্ষতার গুরুত্ব, নিরাপদ ও বৈধভাবে বিদেশ যাওয়ার প্রক্রিয়া, অভিবাসন সংক্রান্ত আইন ও নীতিমালা এবং নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীন দেলোয়ার বলেন, নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে সচেতনতা সৃষ্টির কোনো বিকল্প নেই। জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব হলো এলাকার মানুষকে প্রতারণার হাত থেকে সুরক্ষিত রাখা এবং সঠিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় দক্ষতার প্রশিক্ষণ নিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা। এর মাধ্যমে ব্যক্তি ও পরিবারের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিও আরও ত্বরান্বিত হবে। তিনি নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের আরও সক্রিয় ও সমন্বিত ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ওরিয়েন্টেশনে অংশগ্রহণকারী স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ইউডিসি উদ্যোক্তা ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ে স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর সমন্বয় জোরদার এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় চকরিয়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের অংশীজনরা নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে রয়েছে—অভিবাসন বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের বাজেটে বরাদ্দ রাখা, ইউনিয়ন পর্যায়ে মাইগ্রেশন কর্নার স্থায়ী ও কার্যকর করা, বিদেশগমনেচ্ছুদের ভিসা যাচাইয়ে সহযোগিতা করা, প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের বিভিন্ন সেবা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় ফরম পূরণে সহায়তা প্রদান এবং নিজ নিজ ইউনিয়নের জনগণের কাছে নিরাপদ অভিবাসন সংক্রান্ত তথ্য ও সেবা পৌঁছে দেওয়া।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, প্রয়োজনীয় তথ্য ও সচেতনতার অভাবে বিদেশগমনেচ্ছু অনেক মানুষ দালাল ও প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে আর্থিক ও নানা ধরনের ক্ষতির শিকার হন। তাই বিদেশ যাওয়ার আগে সঠিক তথ্য যাচাই, বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের বিষয়ে জনগণকে সচেতন করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, ইউডিসি, গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আয়োজকরা জানান, নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে শুধু বিদেশগমনেচ্ছু ব্যক্তিকে সচেতন করাই যথেষ্ট নয়; বরং স্থানীয় পর্যায়ে একটি কার্যকর তথ্য ও সেবা সহায়ক পরিবেশ তৈরি করাও জরুরি। সেই লক্ষ্যেই সিমস প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সমন্বয়মূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সিমস প্রকল্পের মাধ্যমে কক্সবাজার জেলার ২৮টি ইউনিয়নে অভিবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের জন্য নিরাপদ, নিয়মিত ও মর্যাদাপূর্ণ অভিবাসন নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, অংশীজনদের সক্ষমতা উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় সেবার সঙ্গে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সংযোগ স্থাপনে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : K. Chy