
ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরামের উদ্যোগে!
চট্টলার কণ্ঠ ডেস্ক: চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়স্থ নাভা ইন হোটেলে ১৫ জুলাই ২০২৫ অনুষ্ঠিত হয় “জেলা পর্যায়ের ইস্যুভিত্তিক অ্যাডভোকেসি পরিচালনা ও পরিকল্পনা” এবং “রাষ্ট্রীয় অভ্যন্তরীণ নীতিমালা তৈরী ও নাগরিক প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিতকরণ” বিষয়ক দিনব্যাপী এক গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালা। ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরামের উদ্যোগে এবং অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মশালায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা ও শহর অঞ্চল থেকে ৩৫ জনেরও বেশি তরুণ, নারী প্রতিনিধি, সিএসও কর্মী ও স্থানীয় অ্যাক্টিভিস্ট অংশগ্রহণ করেন।

কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল গণতন্ত্রের মৌলিক ধারণা, জাতীয় নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর অ্যাডভোকেসি কৌশল তুলে ধরা। মূল সেশন পরিচালনা করেন সুশীল চট্টগ্রামের ডিস্ট্রিক কো-অর্ডিনেটর রিদুয়ানুল হাকিম রিয়াদ। তিনি বলেন, “গণতন্ত্র শুধু ভোট নয়, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। তরুণদের অংশগ্রহণ ও নীতিনির্ধারণে সক্রিয়তা বাড়লেই সত্যিকারের সুশাসন সম্ভব।”

বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরামের প্রধান নির্বাহী উৎপল বড়ুয়া। তিনি বলেন, “তরুণদের হাতেই ভবিষ্যতের নেতৃত্ব। আমরা চাই তাদের ভাবনা ও পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে পাশে থাকতে এবং ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সচেতনতা কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে। প্রোগ্রাম অফিসার হাফিজুর রহমান হাফেজ বলেন, “নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে তরুণদের জানার আগ্রহ ও বিশ্লেষণী দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা বহন করে।”” অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের সুশীল প্রকল্পের ম্যানেজার মৌসুমি বিশ্বাস বলেন, “গণতান্ত্রিক কাঠামোকে বোঝা ও প্রশ্ন করার সাহস তৈরি করাই এই কর্মশালার মূল সাফল্য। তথ্য অধিকার ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা নিয়ে তরুণদের যে আগ্রহ দেখেছি তা আমাদের আশাবাদী করে।”
কর্মশালার আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল—গণতান্ত্রিক সরকারের কাঠামো ও বৈশিষ্ট্য, জনগণের ভোটাধিকার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ, স্থানীয় পর্যায়ে গণতন্ত্রের চর্চা, তরুণদের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ততা এবং ইস্যুভিত্তিক অ্যাডভোকেসির কৌশল প্রয়োগ। অংশগ্রহণকারীরা দলভিত্তিক গ্রুপ ওয়ার্কের মাধ্যমে চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের আলোকে আলোচনা করেন। এতে উঠে আসে স্থানীয় পর্যায়ে গণতন্ত্র চর্চার প্রতিবন্ধকতা, তরুণদের সম্পৃক্ততা, স্থানীয় সরকারের জবাবদিহিতা এবং ইস্যুভিত্তিক অ্যাডভোকেসির সুনির্দিষ্ট রূপরেখা।
আলোচনা ও গ্রুপ ওয়ার্ক থেকে যে সুপারিশগুলো উঠে এসেছে তার মধ্যে রয়েছে: ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সচেতনতা সেশন আয়োজন, তথ্য অধিকার আইন সহজভাবে প্রচার এবং প্রয়োগে সহায়তা, তরুণদের ভোটার সচেতনতায় যুক্তকরণ, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপ, গণশুনানি এবং ইস্যুভিত্তিক ক্যাম্পেইনের আয়োজন।
সমাপনী বক্তব্যে ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরামের প্রধান নির্বাহী উৎপল বড়ুয়া জানান, অংশগ্রহণকারীদের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের জন্য পর্যবেক্ষণ ও সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে আরও সচেতনতা কার্যক্রম এবং তথ্যভিত্তিক অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। এই কর্মশালাটি তরুণ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের জন্য একটি দিকনির্দেশনামূলক উদ্যোগ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : K. Chy